প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ভালো নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৃৎশিল্পীরা

তৌহিদুর রহমান : আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাস্টিক ও সিলভারের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদার কাছে হেরে যাচ্ছে মাটির তৈরি দ্রব্যসামগ্রী।এসব পর্ণের বাজার দখলের কারনে ভালো নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৃৎশিল্পীরা। আগের চেয়ে কমে গেছে তাদের আয়-রুজি। এসব মৃৎশিল্পীর পরিবার সদস্যরা আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে অন্য পেশায়। আবার অনেকে বাপ-দাদার পুরানো পেশাটা ছাড়তে পারছেন না। আধুনিকতার যুগের বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করেই বেঁচে আছেন তারা।

সরাইলের পালপাড়া গিয়ে দেখা যায়, প্রায় বাড়িতে কম-বেশি ঘুরছে চরকা। তাদদের হাতের শৈল্পিকতার যাদুতে দ্রূততম সময়ে একের পর এক তৈরি হচ্ছে মাটির গ্লাস, মগ হাঁড়ি-পাতিল, নৌকা ও পুতুলসহ বাহারি রকমের তৈজসপত্র। দিনের অধিকাংশ সময়ে ব্যস্ত থাকেন এ কাজে। কাজে ব্যস্ত গণেশ পাল (৬২), কাজল বালা পাল (৫৭), কমলা বালা পাল (৬০) ও মালঞ্চা বালা পাল (৭১)। এরা সকলেই মাটি দিয়ে শৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করছেন।

এসব জিনিসপত্র বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছে সেখানকার শতাধিক পরিবার। একসময় ২-৩ শ’ পরিবারের বসবাস ছিল সেখানে। সকলেই ছিল মৃৎশিল্পী। তখন মৃৎশিল্পের মার্কেট চাঙ্গা ছিল। মাটির দাম ছিল কম। জিনিসপত্রের ভালো দাম পাওয়া যেত। বর্তমানেও তাদের জীবন থেমে থাকেনি। লড়াই করে টিকে রয়েছেন অনেকেই। অনেকে চলে গেছেন অন্য জায়গায়।

কমলা বালা পাল বলেন, অগ্রহায়ণ মাসে গ্রামের গৃহবধূরা ধান ও চাল দিয়ে হাঁড়িপাতিল নিতো। আমরা হাঁড়িপাতিল নিয়ে ছুটে চলতাম গ্রামে গ্রামে। দিন শেষে ধান চাল নিয়ে বাড়ি ফিরতাম। কতো সুন্দর চলতো সংসার। বাপ-দাদারা নৌকাযোগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করতেন মাটির তৈরি তৈজসপত্র। তখন চাহিদাও ছিল অনেক।

মালঞ্চ বালা পাল বলেন, দিনদিন চাহিদা চলে যাচ্ছে শূন্যের কোঠায়। পাচ্ছি না সরকারি কোনো সহযোগিতা। এরপর মেঘনা ও করোনার থাবা। টিকে থাকাই দায় এখন। এভাবে চলতে থাকলে একদিন সরাইল থেকে হারিয়ে যাবে পালপাড়া ও মাটির তৈরি জিনিসপত্র। শৈল্পিকতা ও শিল্পী কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত