প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অভিমান করে ঘরছাড়া, ২২ বছর পর নেপাল থেকে জীবিত ফিরলেন ‘মৃত মা’ (ভিডিও)

নিউজ ডেস্ক : সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন আমেনা খাতুন। তার খোঁজ পাওয়া, দেশে ফেরা পুরোটাই যেন সিনেমার গল্প।

প্রায় দুই যুগের বিচ্ছেদ, এর মধ্যে বদলেছে অনেক কিছুই। শুধু বদলায়নি মায়ের প্রতি সন্তানের নাড়ি ছেড়ার টান। তাইতো ২২ বছর আগে অভিমানে ঘর ছাড়া মাকে ঘরে ফিরিয়ে নিতেই সন্তানদের এমন তোড়জোড়। যেখানে একসাথে লেপ্টে আছে দুঃখ কষ্ট আর আনন্দ।

পূণর্জন্ম না হলেও, গল্পটা অনেকটাই পূণর্জন্মের। কাগজে-কলমে যে মা ছিলো এতোদিন মৃত, তিনি ফিরে এলেন, আর তাইতো আত্মজের আত্মাজুড়ে সদ্য ভুমিষ্ঠ হওয়ার মতোই আত্মহারা আবেগ।

জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী আমজাদ হোসেনের জাতীয় পরিচয় পত্রে মায়ের নাম মৃত আমেনা খাতুন। তার বাকি ৪ চার ভাইবোনের জাতীয় পরিচয় পত্রেও উল্লেখ আছে তাদের মা মৃত। ২২ বছর আগে আমেনা খাতুন নিখোঁজ হয়েছিলেন বগুড়া থেকে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না মেলায় সন্তানরা ধরে নিয়েছেন তাদের মা মারা গেছেন। ২২ বছর পর সেই আমেনা খাতুন সন্তান, নাতি-নাতনিদের কাছে ফিরলেন। তাও আবার দেশ থেকে নয়, সুদূর নেপাল থেকে।

আমেনা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরেছেন নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, ‘তিন মাস আগে আমাদের কাছে খবর এলো— নেপালের সুনসারি জেলায় এক বাংলাদেশি নারীকে পাওয়া গেছে, সেখানে তিনি মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সেখানকার মিউনিসিপ্যাল থেকে আমাদের কাছে অনুরোধ জানানো হলো, আমরা যেন তাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করি। করোনার কারণে তখন যাতায়াত সম্ভব ছিল না। তারপরও আমরা কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে সুনসারি জেলায় যাই। আমেনা খাতুনের সঙ্গে কথা বলি। জানতে পারি, তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। তখন দূতাবাসের উদ্যোগে তাকে উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর চেষ্টা শুরু হয়।’

আমেনা খাতুনের নাতি মো. ফাহিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা আমাদেরকে এনএসআইই’র জেলা অফিসে যেতে বলেন। সেখানে আমাদেরকে দাদির ছবি দেখিয়ে জানতে চান, আমরা তাকে চিনি কিনা। আমার বাবা-চাচারা ছবি দেখে দাদিকে চিনতে পারেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর মা আমেনার সামনে প্রথমে হাজির হলেন বড় ছেলে আমজাদ হোসেন। বাকরুদ্ধ হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপর ৫৮ বছর বয়সী মেজো ছেলে ফটিক হোসেন, ৫৪ বছর বয়সী ছোট ছেলে ফরাজুল ইসলাম, ৪৫ বছর বয়সী মেয়ে আম্বিয়া খাতুন মায়ের সামনে এসে দাঁড়ান। বড় ছেলের নাম বলতে পারলেও বয়োবৃদ্ধ আমেনা তাকে চিনতে পারেননি প্রথম দেখায়। তবে বাকিদের চিনলেন ঠিকঠাক।

নাটকীয়ভাবে দেশে ফিরলেও তার নেপালের যাওয়ার রহস্য উন্মোচন হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে নিখোঁজ আমেনা খাতুন হয়তো মানব পাচারকারীদের কবলে পড়েছিলেন। ৭০ ঊর্ধ্ব আমেনা খাতুন এখন আর পরিষ্কারভাবে কিছু বলতেও পারেন না। নিজের নাম বলতে পারলেও তার কথা অনেকটাই অস্পষ্ট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত