প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্ব এক্সপো-২০২০ দুবাই থেকে স্বাস্থ্যসেবায় বড় বিনিয়োগ চাওয়া হবে

নিউজ ডেস্ক: মহামারী করোনা মোকাবেলায় বিশ্ব এক্সপো-২০২০ দুবাই থেকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা প্রত্যাশা করছে এক্সপো থেকে বিদেশী উদ্যোক্তারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করার ঘোষণা দেবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। এক্সপো থেকে ভাল কিছু অর্থনৈতিক অর্জন প্রত্যাশা করছে সরকার। এর পাশাপাশি রফতানি বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করা হবে। মহামারী করোনার সংক্রমণ কমে আসায় আগামী ১ অক্টোবর পর্দা উঠবে বাণিজ্য-বিনিয়োগ আর্কষণে উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় আসর ‘বিশ্ব এক্সপো-২০২০ দুবাই’ এর। সারাবিশ্বের ১৯০টি দেশের সরকারী- বেসরকারী পর্যায়ের অর্থ-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা এই এক্সপোতে অংশগ্রহণ করবেন। জনকণ্ঠ

জানা গেছে, দুবাই এক্সপো থেকে এবার ৩ খাতে বিদেশী বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা। এই খাতগুলো হচ্ছে-খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, মেডিক্যাল ডিভাইস এবং স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং অটোমোবাইল ও খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন। বিশেষ করে মহামারী করোনা মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবাখাত এবং মেডিক্যাল পণ্যসামগ্রী উৎপাদন খাতে। বিনিয়োগ আকর্ষণে বিডার পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। করোনার ভ্যাকসিন ও ওষুধ উৎপাদনে যৌথ বিনিয়োগ চাওয়া হবে। এর পাশাপাশি কৃষিখাত উন্নয়নে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণের কারণে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশী বিনিয়োগ কম হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপণ্য সামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে বেড়েছে চিকিৎসা ব্যয়।

এ অবস্থায় এলডিসি উত্তরণ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়নের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু দুবাই এক্সপো থেকে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব বলে মনে করছে বিডা। ইতোমধ্যে ওয়ানস্টপ সার্ভিস, বিদেশী বিনিয়োগে কর রেয়াত সুবিধা প্রদান এবং বিনিয়োগের লভ্যাংশ সহজে দেশে ফেরত নেয়াসহ নানা ধরনের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া গ্যাস বিদ্যুতের নিশ্চয়তা, জমি প্রাপ্তি সহজীকরণ এবং ঘুষ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হবে দুবাই এক্সপোতে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী প্রদর্শনী করবেন বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তারা। এ লক্ষ্যে দুবাই এক্সপোতে তিনটি সেমিনারের আয়োজন করেছে বিডা। এসব সেমিনার থেকে তিন খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে। সম্প্রতি বিডা থেকে এ সংক্রান্ত একটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। বিডার পরিচালক মোঃ আশরাফুল ইসলাম মুকুট স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী অক্টোবর থেকে মার্চ ২০২২ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব এক্সপো-২০২০ দুবাই এ বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। এই এক্সপোতে তিনটি সেমিনারের আয়োজন করেছে বিডা। যেখানে বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিক্যাল ডিভাইস এবং অটোমোবাইল খাত নিয়ে আলোচনা হবে। এই আলোচনার মূল্য লক্ষ্য এসব খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। জানা গেছে, করোনার টিকা উৎপাদন এবং ওষুধ উৎপাদনে যৌথ বিনিয়োগ চাওয়া হবে। এর পাশাপাশি কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতেও বিদেশী বিনিয়োগ চাওয়া হবে। অটোমোবাইল খাত এবং এ খাতের খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদনেও বিদেশী বিনিয়োগ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ব এক্সপো-২০২০ দুবাই গতবছর অক্টোবরে শুরু হয়ে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তা একবছর পিছিয়ে দেয়া হয়। আর এ কারণে এবার ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে এক্সপো আগামী বছরের ১০ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ছয় মাসব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় এই আসর এবার অনুষ্ঠিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ঝিলমিল শহর দুবাইতে। ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এক্সপোতে অংশগ্রহণ করবেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি বিনিয়োগের সম্ভাব্য খাতগুলো সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে জানান দেবে। এ কারণে অর্থ ও শিল্প বাণিজ্যের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের জন্য এই প্রদর্শনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জানা গেছে, এক বছর পেছানোর পর ওয়ার্ল্ড এক্সপো আয়োজনের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছে দুবাই। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পর একবার হয় এ আয়োজন। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে গতবছর স্থগিত করা হয়েছিল এ আয়োজন। পুরো এক বছর অপেক্ষার পর পর্দা উঠবে এ আয়োজনের। তাই এবারের এক্সপো নিয়ে প্রত্যাশাও বেশি আয়োজকদের। আগামী ১ অক্টোবর শুরু হয়ে ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলবে পণ্য প্রদর্শনী। এ ছয় মাসে আড়াই কোটি দর্শনার্থী এক্সপো পরিদর্শন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক্সপোর জন্য থাকে নিজস্ব মেট্রো স্টেশন চালু ও পুরো আয়োজন হবে ৪ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এক্সপো উপলক্ষে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও নানা চমক দিতে চাইছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এতে একটি একক-প্রবেশের টিকিটের জন্য মূল্য হবে ৯৫ দেরহাম যা বাংলাদেশী টাকায় ২,২১৫ এবং ছয় মাসের পাসের জন্য মূল্য ১১,৫৩৫ টাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত