প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এখন পলিসি হওয়া উচিত টিকে থাকা, করোনা আতঙ্ক কাটলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবেই: ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

ভূঁইয়া আশিক রহমান : এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেছেন, বিশ^ করোনা পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। এর ফলে অনেকেই মনে করছেন, সম্ভবত বিশ্ব অর্থনীতি পার পেয়ে যাচ্ছে! ব্যাপারটি কি আসলে এতো সহজ? না। কারণ ভোল পাল্টে ঘুরেফিরে সংকট আবারও আসছে। এ আশঙ্কা বিদ্যমান। তবে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাকি ও সুযোগ পেলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে বিশ^ অর্থনীতি। কেননা দেশগুলো অর্থনীতিকে চাঙা করতে সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নেবে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, এক-দু’মাসের পরিস্থিতি দেখে হঠাৎ বলে দেওয়া যায় না, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে সকলকে সতর্কভাবে এগোতে হবে। কারণ পরিস্থিতি ভালো মনে করে যদি সবাই কাজে লেগে যাই, সর্বশক্তি নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি, আর হঠাৎই যদি করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে, তখন কী হবে ভেবেছেন কি? সংকটে পড়ার পর নয়, আগেই ভাবতে হবে কী হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে।

শঙ্কার জায়গাটা কী আমাদের অর্থনীতির? জানতে চাইলে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ভয় বা আতঙ্ক কেটে গেলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবেই। কারণ মানুষ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এর আগে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম, মনে করেছিলাম পরিস্থিতি স্বাভাকি হয়ে আসছে, কিন্তু দেখা গেলো আমরা আবারও বিপদে পড়ে গেছি।

আমদানি-রপ্তানি চাঙা হবে তখন, যখন আমাদের পণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোতে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে আমাদের এখনকার পলিসি হওয়া উচিত- টিকে থাকা। টিকে থাকলে এগিয়ে যাওয়া যাবে। কিন্তু যদি একবার বসে যাই, তাহলে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কঠিন হয়ে যাবে।
এনবিআরের সাবেক এই চেয়ারম্যানের মতে, করোনা সংকট যেমন আশঙ্কার, করোনা পরবর্তী সময়টা বিপুল সম্ভাবনার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে কর্মমুখর হয়ে উঠবে গোটা বিশ^। দেশগুলো নিজেদের আবারও এগিয়ে নিতে অধিক তৎপরতা শুরু করবে। এগিয়ে যেতে চাইবে, নিজেদের অর্থনীতি চাঙা করার চেষ্টা করবে। একসঙ্গে যখন বিশ^ কর্মমুখর হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেক বেগবান হবে। রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আমাদের অর্থনীতিও এর সুফল পাবে। সে সময়টার জন্য আমাদের প্রস্তুত করে রাখতে হবে। সতর্কতার সঙ্গে সবকিছু নিয়ে এগোতে হবে। ধসে যায় এমন কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে প্রবাসী ভাই-বোনদের কর্মতৎপরতা আরও বাড়বে। দেশ থেকে আরও বেশি মানুষ কাজের জন্য বিদেশে যাবেন। কর্মের সঙ্গে যুক্ত হবেন। আমাদের আমদানি বাড়বে। কাচামাল আসবে। কাচামাল এলে আমাদের রপ্তানি বা উৎপাদন বাড়বে। আমাদের অবকাঠামো প্রস্তুত আছে অধিক উৎপাদনের জন্য। চাহিদা ও সরবরাহে যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে করোনার কারণে, সে কারণে আমরা থেমে আছি, যখন চাহিদা ও সরবরাহ শুরু হবে, তখন অর্থনীতি আবারও চাঙা হবে।

আবদুল মজিদ বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমাদের সক্ষম ক্রেতা লাগবে, সংক্ষম কর্মী প্রয়োজন হবে। করোনার কারণে মানুষ যে কর্মহারা বা বেকার হয়ে গেছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পুঁজি হারিয়েছে, তারা যদি পথে বসে যায়, তাহলে সংকট মোকাবেলা কঠিন হয়ে যাবে। সে কারণেই বলছি, যেভাবেই হোক, নিবু নিবু করে হলেও অর্থনীতি সচল রাখতে হবে। ফলে কর্মহারা মানুষদের প্রণোদনা, বিভিন্ন রকম সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে তাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। কর্মীকে টিকিয়ে রাখতে হবে, ক্রেতাকে টিকিয়ে রাখতে হবে, বিক্রেতাকেও টিকিয়ে রাখার পলিসি গ্রহণ করতে হবে। ইনফরমাল সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে হবে। বড় সেক্টরগুলোকেও টিকিয়ে রাখতে হবে। টিকে না থাকলে, একেবারে ধসে গেলে ঘুরে দাঁড়ানো কষ্টকর হবে। ফলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে।

সম্পাদনা : হাসান হাফিজ

সর্বাধিক পঠিত