প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগস্টেও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

নিউজ ডেস্ক: তৈরি পোশাক খাতের ওভেন পণ্যের রফতানি কমেছে। টানা দুই মাস পণ্যটির রফতানি হ্রাসের প্রভাব পড়েছে সার্বিক রফতানিতে। জুলাইয়ের পর আগস্টেও দেশের রফতানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মাসটিতে রফতানি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ। গতকাল রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বণিক বার্তা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতি মাসে নিয়মিত রফতানির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইপিবি। সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসে রফতানি হয়েছে ৬৮৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য রফতানি হয় ৬৮৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের। এ হিসেবে রফতানি কমেছে, যার হার ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ।

দেশের মোট রফতানির ৮১ শতাংশের বেশি হয় তৈরি পোশাক। ফলে এ পণ্যটির রফতানি কমে যাওয়া বা বৃদ্ধির প্রভাব দেখা যায় মোট রফতানির অর্থমূল্যে। আলোচ্য দুই মাসে পোশাক পণ্যের রফতানি কমেছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। রফতানি হওয়া সব ধরনের পোশাকের মধ্যে ওভেন পোশাকের রফতানি কমেছে, যার হার ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আবার নিট পোশাকের রফতানি বেড়েছে, যার হার ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান কভিড মহামারীতে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তাদের মতে, কভিডের প্রভাবে ক্ষতি আরো বেশি হতে পারত। কিন্তু কারখানা সচল রাখা ও সরকারি প্রণোদনার মতো কার্যকর সিদ্ধান্তের কারণে এ ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে।

করোনার সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় চীনের উহানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এর আগে থেকেই বৈশ্বিক পোশাক খাতে ভঙ্গুরতা দেখা যাচ্ছিল। ব্যবসা সংকোচনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মানসিকতায় ছিল ছোট-বড় ক্রেতাদের অনেকেই। ফলে অনেক খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। করোনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আরো দুর্দশায় পড়ে যায়। সংক্রমণ প্রতিরোধে অবরুদ্ধতার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখতে হয় বিক্রয়কেন্দ্র। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও পোশাক রফতানিকারকদের ক্রয়াদেশ বাতিল হয় একের পর এক। তবে এখন পরিস্থিতি আবার বদলাতে শুরু করেছে। বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ আসছে দেশের পোশাক কারখানাগুলোয়। যার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে পোশাক রফতানিতে, বিশেষ করে নিট পোশাকের ক্ষেত্রে পোশাকের পরই দেশের দ্বিতীয় বড় রফতানি পণ্য হলো পাট। এ পণ্যটির রফতানি চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কমেছে ৩৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি পণ্য হোমটেক্সটাইলের রফতানি বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। হোমটেক্সটাইলের পর সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এ পণ্যটির রফতানি জুলাই-আগস্টে বেড়েছে ১২ দশমিক ৯১ শতাংশ।

জুলাই-আগস্ট দুই মাসে রফতানি কমলেও ইপিবির প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগস্টে রফতানি বেড়েছে ১৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগস্টে রফতানি হয়েছে ৩৩৮ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য।

এদিকে ইপিবির মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে শুধু আগস্টেই রফতানি বেড়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট এ আট মাসেও। এ সময়ে রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৬৩৮ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য। ২০২০ সালের প্রথম আট মাসে রফতানি হয়েছিল ২ হাজার ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য। এ হিসেবে আট মাসে রফতানি বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। চলতি বছর সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে গত জুনে। আট মাসে গড়ে প্রতি মাসে রফতানি হয়েছে ৩২৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত