প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষার্থীদের হতাশা কাটাতে চলমান ছুটি আর না বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে, বললেন শিক্ষামন্ত্রী (ভিডিও)

মারুফ হাসান : [২] একটি বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরের টকশো একাত্তর জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান।

[৩] করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে কমে আসায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কথা বলার পর, এর রোডম্যাপ নিয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ সেপ্টেম্বর থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে।

[৪] ডা. দীপুমণি জানান, গত সপ্তাহে নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলমান ছুটি ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। দীর্ঘ ১৭ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কারণে শিশু-কিশোররা স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

[৫] শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আজকেও কথা হয়েছে, তারা মনে করছেন আমরা যে সংক্রমণের হার অনেক কম রাখতে পেরেছি, তার অন্যতম কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা। অন্য অনেক কারণের পাশাপাশি এটিও অনেক ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন তারা।

[৬] শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে। আগামী দিনে আরও কমবে। ফলে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে ছুটি রয়েছে তা আর বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে আমরা চাইলে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দিতে পারবো। যদি এর মধ্যে আর বড় কোনও সমস্যা না হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলে সঠিক মনিটরিংও নিশ্চিত করার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

[৭] বড় পাবলিক পরীক্ষাগুলো নেওয়া সম্ভব হবে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী জানান, নভেম্বরের মাঝে এসএসসি এবং ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসির ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

[৮] শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া প্রসঙ্গে ডা. দীপুমণি জানান, ১৮ বছর বয়সীরা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে ১২ বছর বয়সী পর্যন্ত টিকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

[৯] দীর্ঘ ১৭ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্ন্ধ থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের হতাশা কাটানো ও মানসিক বিকাশে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সরকারী নির্দেশনা মেনে খুলে দেয়া হচ্ছে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কয়েকবার খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও করোনার কারণে সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কথায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

[১০] চলতি মাসের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারী কলেজগুলোতে পরীক্ষা নেয়া হবে। আগামী নবেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে। সশরীরে পরীক্ষা নিতে ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হচ্ছে প্রতিষ্ঠান থেকে। এই এ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার জন্য কলেজ ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

[১১] প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, সব শিক্ষককে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সহকারী উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিসারদের এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত বিদ্যালয় পরিদর্শন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা যদি সমস্ত বিদ্যালয় পরিদর্শন না করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা চাই না বিদ্যালয় বন্ধ থাকুক। বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে।

[১২] মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও কলেজ) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং বিদ্যালয় খোলার সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক পরিচালকদের নির্দেশ দিয়েছি। সরকারের উর্ধতন পর্যায় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি খোলা যাবে। তাছাড়া আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাই রয়েছে। নিয়মিত এ্যাসাইনমেন্ট দেয়া এবং তা নেয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। একাত্তর টিভি, জনকণ্ঠ, বিডিজার্নাল, চ্যানেল আই

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত