প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: সৃষ্টিছাড়া রাজনীতি আমদানি করেছিল বিএনপি

দীপক চৌধুরী: বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্র হত্যাকারীদের মুখোশ উন্মোচন জরুরি এখন। প্রকৃত পক্ষে আমাদের রাজনৈতিক গুণাবলির মারাত্মক অবনতি ঘটিয়েছিল বিএনপি যার স্রষ্টা ও যার উত্থান ঘটিয়েছিলেন দলটির জন্মদাতা জিয়াউর রহমান। গত এক দশক ধরেই বিএনপি প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচনের দাবি করে বক্তব্য রাখছে। অভিযোগের আঙুল তোলার চেষ্টা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দিকে। অথচ কে না জানে, বিএনপির মুখে নির্বাচনের অভিযোগ মানায় না! দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় সবচেয়ে আজ্ঞাবহ ও সকল সময়ই বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন গঠন করতো দলটি, এটা কী বিএনপি ভুলে গেছে! দলটি দীর্ঘকাল ধরে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল। মূলত এটাই ছিল ক্ষমতায় যাবার একমাত্র পরিকল্পনা দলটির। একমাত্র শক্তিও। টিভিতে রাতের টকশো-তে যারা এখন গণতন্ত্রের ‘ছবক’ দেন তারা কী জানেন না, বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে কি না করেছে বিএনপিসহ সমমনাদলগুলো। দলটি তো গণতন্ত্রই হত্যা করলো।

অথচ তাদের জন্য মায়াকান্না। এটা কে না জানে, পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠান, স্থাপনার নামও পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় বেতার-টিভিতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও তাঁর নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধ করা হলো। বঙ্গবন্ধুসংশ্লিষ্ট বহু বিষয়ের পরিবর্তন হলো। বঙ্গবন্ধুর নামটি মুছে ফেলার কি না চেষ্টা তাতো আমরা সকলেই জানি। বাংলাদেশকে উল্টোপথে চালনা করা হয়েছিল। ২০০৮-এর নির্বাচনে জনগণের ভোটে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে এসে শুনে আসছি গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করে চলেছেন একশ্রেণির নেতা-বুদ্ধিজীবী। সুবিধাবাদী বুদ্ধিজীবীরা জ্ঞান দেন, ভালো চরিত্র সাজার চেষ্টা করেন। যারা ‘সাদাকে সাদা আর কালো’কে কালো না বলে বুদ্ধিবিক্রির কৌশল করছেন – এসব জ্ঞানপাপীদের চিহ্নিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জিয়াউর রহমান কী ধরনের জটিল-কুটিল রাজনীতির জনক ছিলেন এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু তাদের মুখ থেকে একবারের জন্য এ কথাটি শুনি না।

জাতির পিতার খুনিদের বিদেশে পোস্টিং, চাকরি, কুখ্যাত রাজাকার পালন-লালন, মন্ত্রী বানানো, যুদ্ধাপরাধীদের বাড়ি-গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বিরোধিতাকারী জিয়াউর রহমান কোথাও ন্যায়কারীদের ছাড় দেননি। এমন কী ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ বিষয়ে নেতিবাচক খবরের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাম প্রচার করার অপকৌশলকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে এদেশে যা ঘটেছে তা সৃষ্টিছাড়া। যদি ইতিহাসের পেছনে মুখ ঘুরিয়ে তাকাই তাহলেই দেখবো, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও সংগ্রাম করেছে। সাম্প্রদায়িকতাকে কবর দেওয়া হয়েছিল ১৯৭১-এ। অথচ এই স্বাধীন দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষাক্ত ছোবল শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরই। এরপর দলও তৈরি করেন জিয়াউর রহমান। সেনা ছাউনি থেকে গড়ে তোলা তাঁর দল বিএনপি এদেশে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষায় কী রকম প্রাণান্তকর চেষ্টা চলেছিল তখন এদেশে, তা ভাবাও যায় না।

কী দুর্ভাগ্য আমাদের যে, এখন হুমকি দেওয়া হয়, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা যাবে না, ভাস্কর্য ভেঙ্গে দেওয়া হবে। অথচ বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায়। দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি, এই দেশে ওদের দুঃসাহস কতো! দেশের অগ্রগতির ট্রেন মহাসড়কে। কিন্তু শক্তিধর গোষ্ঠী, কিছু ব্যক্তি, কিছু কীট, কিছু দুর্নীতিবাজ দেশের পা টেনে নীচে নামাতে চাইছে। আমরা মনে করি, মানবসেবার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করার অন্যতম ভালো উপায় হচ্ছে তাঁর আদর্শকে সম্মুখে রেখে এগিয়ে যাওয়া। উদ্যোগ নেওয়া হোক, প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সর্বত্র বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা। যাতে পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিটি শিশুর মেধা-মননে বঙ্গবন্ধু কে ছিলেন, কী করেছিলেন, কেনো তাঁর ভাস্কর্য তা সহজে অনুধাবন করতে পারে তারা। আমরা চাই আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি সদা জাগ্রত থাকুক।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত