প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিফুল হাসান :দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বে নজির স্থাপন করা ক্যাপ্টেন নওশাদ বীর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন

শরিফুল হাসান : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। মাত্র দুদিন আগে লিখেছিলাম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপটেন নওশাদ কাইয়ুমের কথা । লিখেছিলাম তাঁর বীরত্ত্বের কথা। গত দুদিন ধরেই শুনছিলাম তিনি ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’। খুব চাইছিলাম মানুষটা আবার ফিরে আসুক। একদিনকথা বলবো। কিন্তু ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৪ বছর।

আপনারা হয়তো শুনেছেন, ওমানের রাজধানী মাসকাট থেকে ১২২ যাত্রী নিয়ে শুক্রবার ঢাকায় আসছিল বিমানের একটি বোয়িং ৭৩৭ ফ্লাইট। মাঝপথে পাইলট হঠাৎ করে ভীষণ অসুস্থ বোধ করলেন। এরপর কোপাইলট বার্তা দেন কাছের কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে। তারা নিকটবর্তী নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পরামর্শ দেন। এরপর বিমানটি জরুরি অবতরণ করেন কো-পাইলট। যাত্রীরা সবাই সুরক্ষিত আছেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে পাইলটকে হাসপাতালে নিতে হয়।গত তিনদিন সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। গতকাল অবস্থা খারাপ হয়। এরপর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়।

জেনে অবাক হবেন, পাইলট নওশাদ ভীষণ আজীবন দায়িত্বশীল মানুষ। তার বাবাও পাইলট ছিলেন। বাবার পথ অনুসরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উড়ে বেড়িয়েছিলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম। বাবা চলে গেছেন চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে, এবার পাড়ি জমালেন তিনিও। তবে দায়িত্ব পালনকালে আজীবন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। পাঁচ বছর আগে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে দেড়শ মানুষকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি ও তাঁর সহ পাইলট। তাও এই মাসকট থেকেই। সেবার ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল।
দিনটি ছিল ২২ ডিসেম্বর। ওমান থেকে ফ্লাইটটি যাচ্ছিল চট্টগ্রাম। ওমানের স্থানীয় সময় তখন রাত তিনটা। গভীর রাতে দেড় শতাধিক আরোহী নিয়ে মাসকট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গর্জন করে আকাশে উড়াল দিতে যাচ্ছিল বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ। গন্তব্য ছিল চট্টগ্রাম। কিন্তু মাসকট বিমানবন্দরে রানওয়ে থেকে উড়াল দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে উড়োজাহাজটিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

পরে কন্ট্রোল টাওয়ারে দফায় দফায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন ল্যান্ডিং গিয়ারের ডান পাশের চাকার টায়ার ফেটেছে। তবে শুরু থেকেই যাত্রীদের আতঙ্কিত না হতে বলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম। তিনি ও ফার্স্ট অফিসার মেহেদী হাসান বুঝতেও পারছিলেন, কী ঘটেছে। ১৮ টন জ্বালানি আর উড়োজাহাজটির ওজন ৬০ টন। সব মিলিয়ে ৭৮ টন ওজনের বিশাল উড়োজাহাজের ওমানে জরুরি অবতরণ করাও অসম্ভব। একটু এদিক-সেদিক হলেই বিস্ফোরিত হতো উড়োজাহাজটি। প্রাণ যেতে পারত সব আরোহীর।

তবে পাঁচ ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় জরুরি অবতরণ করান ক্যাপ্টেন নওশাদ। জীবন রক্ষা পায় দেড় শ যাত্রীর। এই দুঃসহ অভিযাত্রার স্বীকৃতি হিসেবে বৈমানিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের প্রশংসাপত্র পেয়েছিলেন।

আসলে দায়িত্বশীলতা হঠাৎ করে একদিন আসে না। এটি চর্চার বিষয়। পাইলট নওশাদ আকাশে ফ্লাইটন চালানো অবস্থাতেই অসুস্থ হয়েছেন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থাতেই মারা গেছেন। আমি মনে করি এটা একধরনের বীরের মৃত্যু। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন। দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের জন্য ক্যাপ্টেন নওশাদ নিশ্চয়ই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। স্যালুট তাই আপনাকে ক্যাপ্টেন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত