প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিগগিরই টিকাদানের সিদ্ধান্ত, এনআইডি না থাকা শিক্ষার্থীদের তালিকার অপেক্ষায় ইউজিসি

নিউজ ডেস্ক: আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অথচ এখনও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কভিড-১৯ টিকার বাইরে। বিশেষত প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ পড়ূয়া ১৮-১৯ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় এখনও টিকা নিতে পারেননি। ইসি সচিবালয়ে যোগাযোগ করেও নানা কারণে পরিচয়পত্র পেতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। সমকাল

এ অবস্থায় এই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। তারা চান, সংশ্নিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ বা এসএসসি সনদের ভিত্তিতে তাদের টিকা দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানিয়েছে, এনআইডি না থাকা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে গত ২৬ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুসারে ইউজিসি থেকে চিঠি দিয়ে উপাচার্যদের কাছে এমন শিক্ষার্থীদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে খুব শিগগিরই টিকাদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, এনআইডির জন্য এখনও বিপুল চাপে আছেন তারা। চেষ্টা করেও অনেককে এনআইডি দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, এনআইডি দিতে প্রাথমিকভাবে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। অথচ বিশেষত গ্রাম পর্যায়ে ইউপি থেকে নেওয়া অনেকেরই জন্মসনদ হাতে লেখা এবং সেগুলোর তথ্যও জাতীয় সার্ভারে নেই। অনেকের নামের বানানে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে। নতুন এনআইডি করতেও নতুন নতুন জটিলতা ধরা পড়ছে। এদিকে, কলেজ পড়ূয়া অনেক শিক্ষার্থীর বয়সও ১৮-এর ওপরে। তাদেরও এনআইডি নেই, যদিও টিকা দরকার।

এনআইডির অভাবে টিকা নিতে না পারা শিক্ষার্থীরাও উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমন জানান, এনআইডি না থাকায় তার পক্ষে টিকা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সবার দুই ডোজ টিকা নেওয়া হয়ে গেলেও এনআইডি না থাকায় রেজিস্ট্রেশনই করতে পারছেন না তিনি। বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষার্থী মো. আমান এবং পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থী ইমরান হাসানও জানিয়েছেন একই কথা। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে টিকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মেরিনা সুলতানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতির সময় বাড়ির বাইরে থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্রের নিবন্ধন করা হয়নি তার। পরে নিবন্ধন করলেও এখনও এনআইডি কার্ড পাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড দিয়েই টিকাদান নিবন্ধনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, না হলে আমরা করোনা টিকাপ্রাপ্তিতে পিছিয়ে পড়ব।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মরিয়ম আলো আঁখি বলেন, নিবন্ধনের জন্য তথ্য দিয়েছি, কিন্তু এখনও এনআইডি পাইনি। আর এনআইডি না থাকায় এখন করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছি না।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামান বলেন, এনআইডি না থাকা শিক্ষার্থীরাও টিকা পাবেন। এ বিষয়ে ২৬ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুসারে, ইউজিসি থেকে চিঠি দিয়ে উপাচার্যদের কাছে এনআইডি না থাকা শিক্ষার্থীদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। এই তালিকা পেলে তা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেবেন কোন প্রক্রিয়ায় টিকা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার আগেই টিকাদানের সিদ্ধান্ত হবে।

সেপ্টেম্বরেই টিকাদান শেষ করতে চায় সরকার :করোনার কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে বন্ধ থাকা সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি এরই মধ্যে আরেক দফা বাড়িয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। তবে এ ছুটি আরও বাড়বে। কারণ প্রথমত, ১৮ বছরের ওপরের সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের টিকাদান সরকার আগামী মাসের মধ্যে শেষ করতে চায়। দ্বিতীয়ত, করোনা সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামলে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দিতে চায় সরকার। যদিও বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামতের ওপর।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে এবং ১২ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থীদের ফেসশিল্ড ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা, যা দেশের বাস্তবতায় পালন করা কঠিন। এমন প্রেক্ষাপটে কারিগরি কমিটির সঙ্গে আগামী বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) ফের সভায় বসবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সভায় সংক্রমণের হার কত শতাংশ হলে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হবে, তা ঠিক করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১৮ বছরের ওপরের সব শিক্ষার্থীর টিকা নিশ্চিত করতে জেলায় জেলায় টিকাকেন্দ্র খোলা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার লক্ষ্যে জেলায় জেলায় শুধু ১৮ বছরের ওপরের শিক্ষার্থীদের জন্য টিকাদান কেন্দ্র করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত