প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ফুঁসে উঠছে যমুনা নদীর পানি

সোহাগ হাসান: [২] গত এক সপ্তাহের ক্রমাগত ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি ফুঁসে উঠছে। ক্রমেই যমুনা নদী তার যৌবন ফিরে পেয়ে আগ্রাসী রূপ ধারণ করছে। সেই সাথে যমুনা নদীপাড়ের ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

[৩] নদী তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার নদীপাড় ভাঙনে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধির কারণে টিউবয়েল, ল্যাট্রিন, সবজি বাগান, পাট, আখ তলিয়ে গেছে।

[৪] সেই সাথে চরাঞ্চলের নিম্ন এলাকার মানুষ গবাদী পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে। সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের। সবকিছু মিলেয়ে যমুনাপাড়ের ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ নিঃস্ব ও সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে, বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

[৫] সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানান যায়, গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্টপয়েন্টে যমুনার পানি বিপদ সীমার ২৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩০সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৪/৫দিন আরও পানি বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি জানান।

[৬] সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

[৭] এদিকে, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যমুনা নদীর তীরবর্তী জেলার চৌহালী ও এনায়েতপুরের বেশ কয়েকটি স্থানে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। একদিনের ভাঙনে চৌহালী উপজেলার খাসপুকুরিয়া থেকে বাগুটিয়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকার বিনানই, চরছলিমাবাদ ও এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রামের অন্তত ২০টি বসতভিটাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

[৮] ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন কবলিত এলাকায় ঘরবাড়ি, গাছপালা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে মানুষ। ভাঙনরোধে কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত এ এলাকার মানুষেরা।

[৯] এছাড়া, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলার বন্যা কবলিত নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ সব এলাকার বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি উঠে পড়ায় চরম বিপাকে রয়েছেন তারা। তাদের টিউবয়েল, ল্যাট্রিন, সবজি বাগান, পাট, আখ তলিয়ে গেছে। সেই সাথে চরাঞ্চলের নিম্ন এলাকার মানুষ গবাদী পশু নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। চরম সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের।

[১০] জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম জানান, জেলা সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার বন্যাদুর্গতদের জন্য ইতিমধ্যেই ১০০টন চাল ও নগদ ৫লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত