প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আদমদীঘিতে ২২ ঘণ্টা পর মাদ্রাসা গেটের তালা খুলে দিলো রেল কর্তৃপক্ষ

আমিনুল জুয়েল: বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের পশ্চিম পাশে রেলের জায়গায় অনুমোদন না নিয়ে ভবন নির্মাণ করার অভিযোগে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মূল গেটে তালা ঝুঁলিয়ে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান রোববার বিকাল ৩টার দিকে তালা ঝুঁলিয়ে দেন। অবশেষে ওই ঘটনার পর নানা আলোচনা-সমালোচনার ২২ ঘন্টা পর আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মাদ্রাসাটির তালা খুলে দেয়া হয়েছে।
 
জানা গেছে, ১৯৭৪ সালে সান্তাহার জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানাটি স্থানিয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সহযোগিতায় রেলওয়ে জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ৬০০ শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি ধীরে ধীরে মাদ্রাসাটি সম্প্রসারণ করা হয়। সেই সাথে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে লিজ নেয়ার জন্যও আবেদন করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত মাদ্রাসাটির লিজ পাওয়া যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতিতে গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগের ভুসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নুরুজ্জামান নোটিশ ছাড়াই আকষ্মিকভাবে ওই মাদ্রাসাটি ঘুরে দেখে গেটে তালা ঝুঁলিয়ে দেন।
 
ওই দিন বিকেল ৪টায় মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও সাবেক গভর্ণর আলহাজ¦ কছিম উদ্দীন আহমেদ, ডাক্তার হামিদুর রহমান রানাসহ অন্যান সদস্যরা সান্তাহার রেলওয়ে রেস্ট হাউজে রেলওয়ের উপ-সচিব সাইদুর রশিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বিকেল ৫টায় মূল গেটের তালাখুলে দেয়ার আশ^াস দেন। কিন্তু তারপর থেকে আর তালাটি খুলে দেয়া হয়নি।
এরপর গতকাল সোমবার সকালে মাদরাসা প্রাঙ্গনে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক আহম্মেদ আলী সরদার স্বপনসহ কমিটির অন্যান সদস্য ও মাদরাসা সংশ্লীষ্টদের নিয়ে সান্তাহার পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু, বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম চম্পা, কাউন্সিলর আব্দুল কুদ্দুসসহ স্থানীয় নেত্ববৃন্দরা আলোচনায় বসেন।
 
ওই বৈঠক থেকে ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের সাথে সাজেদুল ইসলাম চম্পা ও আশরাফুল ইসলাম মন্টু মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মাদ্রাসাটির তালা খুলে দিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১২টায় সান্তাহার রেলওয়ের প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভূসম্পত্তি বিভাগের লোকজন এসে মূলগেটে দেওয়া তালাটি খুলে দেয়।
 
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার পাশে পুকুর ও বেশ কিছু দোকান রয়েছে। সেগুলো লিজ নিয়ে নিয়মিত খাজনা দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু মাদ্রাসাটি লিজ নেয়ার জন্য বহুবার ঘোরাঘুরি করেও লিজ পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত গত দুই বছর আগে রেল মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়।
রেলমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেটি গ্রহণ করে সুপারিশ করে পাঠান। কয়েকটি দপ্তর ঘুরে ফাইলটি বর্তমানে পাকশী বিভাগের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেড় বছর ধরে আটকে রয়েছে। ফলে আজ পর্যন্ত সেই মাদ্রাসাটির লিজ অনুমোদন হয়নি।
 
এ ব্যাপারে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

সর্বাধিক পঠিত