প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্ত্রী-সন্তান ফেলে দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ থাকা ব্যক্তিকে খুঁজে ঘরে ফিরালো পুলিশ

সুজন কৈরী : [২] নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংকে পাঠানো এক বার্তায় একজন গৃহবধূ লিখেছেন, তার এক বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সন্তান জন্মের কিছুদিন পর থেকে তার স্বামী অন্য মেয়েদের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

[৩] একদিন অপরিচিত এক মেয়ের সাথে তার স্বামীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। বিষয়টির প্রতিবাদ জানান তিনি। সেই থেকে তার সাথে তার স্বামীর সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে তার স্বামী তাকে এবং তার সন্তানকে ফেলে রেখে চলে যায়। প্রায় এক বছর স্বামীকে নানা জায়গায় খুঁজেছেন। স্বামীর আত্মীয়-স্বজনরাও তাকে সহযোগিতা করেনি। কোনো ভাবেই স্বামীকে খুঁজে পায়নি তিনি। শিশু সন্তানকে নিয়ে সীমাহীন অসহায়ত্বের মধ্যে দিনাতিপাত করছিলেন তিনি।

[৪] বার্তায় ওই নারী উল্লেখ করেন, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তিনি পুলিশের সহযোগিতা চান। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি কোনও মামলা করতে চান না। তিনি চান তার স্বামী তাকে ও তার সন্তানকে নিয়ে সংসার করুক।

[৫] সোমবার পুরিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা বলেন, বার্তা পাওয়ার গৃহবধূর স্বামীকে খুঁজে বের করে তাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা দিতে যাত্রাবাড়ি থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলামকে নির্দেশনা দেয় মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং। গৃহবধূকে জানানো হয়েছে, তিনি অভিযোগ করলে তার স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ। কিন্তু তিনি রাজি হননি। তার ইচ্ছা অনুযায়ী স্বামীকে খুঁজে বের করে সংসারে ফিরিয়েছে পুলিশ। সংসার রক্ষা করতে স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বনের পাশাপাশি উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিংও করেছে পুলিশ।

[৬] সমস্যার সমাধান পেয় ওই গৃহবধূ পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি লিখেছেন, আমি আপনাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। যে কাজটা কেউ সারা জীবনেও করতে পারতো না সেটা আপনারা এক রাতেই করে দিয়েছেন। আমার স্বামী এখন আমার আর বাবুর খোঁজ-খবর রাখে। আমার শ্বাশুড়ি কিছু দিনের মধ্যে আমাকে নিতে আসবে। স্যার, আপনাদের জন্য হয়তো কিছু করতে পারবো না কিন্তু নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করবো। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত