প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মুদি দোকানের কর্মচারী থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরে

স্পোর্টস ডেস্ক : [২] বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের এক গরীব ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন সূর্যকান্ত পান্ডে। এরমধ্যে ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারিয়ে বোনের সংসারে বড় হচ্ছিলেন তিনি।

[৩] পড়াশোনার সাথে সাথে ক্রিকেটটাও চলছিল তখন পুরো দমে। কিন্তু হঠাৎ করে আসা আরেক দুর্ঘটনায় থেমে যায় সবকিছু। কারণ মা-বাবার পাশাপাশি দুলাভাইকেও এবারে হারিয়ে বসেন সূর্যকান্ত। এরপর বোনের সংসার ও নিজের পেট চালানোর দায়ে পশ্চিমবঙ্গের চুঁচুড়ার এক মুদি দোকানে আড়াইশো রুপি বেতনে চাকরি নেন তিনি। বর্তমানে যেটি পৌঁছেছে মাত্র সাড়ে সাত হাজার রুপিতে। কিন্তু সূর্যকান্তকে নিয়ে আলোচনার কারণ এই দোকানদারি নয়, বরং গল্পটা সাধারণ এক লোকের অসাধারণ অর্জনের।

[৪] দরিদ্রতার দরুণ খেলা ছাড়লেও ক্রিকেটের মায়া সূর্যকান্ত কখনোই ছাড়তে পারেননি। যে কারণে ভারতের বাংলা অঞ্চলের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে স্কোরারারের কাজ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে অ্যাসোসিয়েশনের স্কোরবোর্ডের গুরু দায়িত্বটা গিয়ে পড়ে তার কাঁধে। বছর কয়েক আগে সেখানকার সেরা স্কোরারারের পুরষ্কারটিও যায় তার হাতে।

[৫] এরপর আইপিএলের ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডের জন্য ডাক দেওয়া হয়েছিল তাকে। সেখানে ভালোমতো কাজ করায় গেল বছর আরব আমিরাতে আয়োজিত আইপিএলের জন্যও উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাকে। এরমধ্যে ডাক পেয়েছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্যেও, যেখানে ছোট থেকে ছোট কাজে সুযোগ পাওয়ার জন্য অনেকে মরিয়া হয়ে থাকেন। এভাবে পান্ডের স্বপ্ন তাকে সত্যি সত্যি নিয়ে গিয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে।

[৬] তবে এতো অর্জনের মধ্যে অপ্রাপ্তিও আছে কিছুটা। সেটা না হয় তারই মুখে শোনা যাক, ‘ছোটবেলায় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। মাধ্যমিক পাস করার পর থেকেই দোকানে কাজ করি। একমাত্র ভাগ্নির বিয়ে দিয়েছি। নিজের সংসার করা হয়নি। ক্রিকেটার হতে না পারলেও তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা হয়।

[৭] সব থেকে মজার আমার হাতেই লেখা হয় সমস্ত ক্রিকেটারদের স্কোর। নিজে ক্রিকেট খেললে হয়তো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছতে পারতাম না। তবে স্কোরার হওয়ার সুবাদে এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের রান কিংবা উইকেট মাঠে বসে লিখি। এভাবেই ক্রিকেট মাঠের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছি। তবে আর্থিক ভাবে একটু সাহায্য পেলে ভালো হয়।

[৮] সারাবছর স্কোরিং করিয়ে (করে) এক লাখ টাকার (রুপির) বেশি রোজগার হয় না। তাই মুদিখানার দোকানে কাজ করতে হয়। খেলা থাকলে সেদিন মুদিখানার দোকানে যাওয়া হয়না। টাকাও কাটা যায়। ছোটখাটো একটা চাকরি পেলে নিজের কাজে আরও মনোসংযোগ করতে পারি।

[৯] বিশ্বকাপের মঞ্চে কাজ করার পর সূর্যকান্তের পরবর্তী লক্ষ্য বিসিসিআইয়ের জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়া। হয়তো সে লক্ষ্যেও একদিন পৌঁছে যাবেন তিনি।

[১০] উল্লেখ্য, আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে এই বিশ্বকাপ আয়োজনে থাকছে ভারত, কারন বিশ্বকাপ হবার কথা ছিল ভারতে।
সূত্র: নিউজ-১৮ বাংলা/ ক্রিকবাজ

সর্বাধিক পঠিত