প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের অর্থায়নে ৪৩টির মধ্যে ১৪ উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ভারতীয় অর্থায়নে ৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মধ্যে এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে ১৪টি। আটটির কাজ চলমান। বাকিগুলোর দরপত্র চলমান ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন বা প্রক্রিয়াধীন। গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত ভারত দূতাবাস আয়োজিত এক সেমিনারে ভারতীয় ঋণের (এলওসি) প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এ সময় জানানো হয়, প্রথম ও দ্বিতীয় এলওসির ১২টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রথম ঋণচুক্তির ২০ কোটি ডলার, যা পরবর্তী সময়ে অনুদানে রূপান্তরিত হয় সেটির পুরোটাই ব্যবহূত হয়েছে। বণিক বার্তা

সেমিনারে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বিষয়ে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, শেষ হওয়া ১৪টি প্রকল্পে ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ৪১ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার, আটটি চলমান প্রকল্পে জড়িত অর্থ ১৪৯ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া দরপত্র পর্যায়ে ১৪টি প্রকল্পে জড়িত অর্থের পরিমাণ ২৭৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং যে ১১টি প্রকল্প পরিকল্পনা বা ডিপিপি পর্যায়ে রয়েছে, সেখানে জড়িত অর্থের পরিমাণ ২২২ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আরো চারটি প্রকল্পের দরপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি বাস্তবায়নের কাজও চলছে। প্রকল্পগুলোর প্রায় ৭২ শতাংশ এখনো দরপত্র পর্যায়ে রয়েছে। সেমিনারে উল্লেখ করা হয়, ঋণচুক্তির অধীনে ভারত সরকারের মোট প্রতিশ্রুত অর্থের মধ্যে ছাড় হয়েছে ৮৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত প্রবন্ধে উঠে আসে, ভারতীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি এখান থেকে পুনঃরফতানি হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ একটি রফতানি তথা বাণিজ্যিক হাব হতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে। এখান থেকে ভারতের সেভেন সিস্টারসহ মিয়ানমারের একটি অংশেও রফতানি করা সম্ভব হবে। এজন্য পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান, সড়ক, রেল ও নদীপথের যোগাযোগ সম্ভব। এটি একটি অনন্য সুবিধা। পৃথিবীর খুব কম রাষ্ট্রের পক্ষেই এটি সম্ভব। এমনকি ভারতের সঙ্গে সীমান্ত থাকা অন্যান্য দেশেরও এটি নেই। এ চার মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে পারলে দুই দেশই উপকৃত হবে।

এ সময় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সম্পর্ক বিষয়ে উপস্থাপিত প্রবন্ধে হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (কমার্শিয়াল) প্রমেশ বাসাল বলেন, গত ছয় বছরে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এক দশক ধরেই কয়েকটি নিষিদ্ধ পণ্য ছাড়া সব পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানির সুযোগ বেড়েছে। যেমন, ওই অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে সিমেন্ট, রডসহ নানা ধরনের নির্মাণসামগ্রী রফতানির সুযোগ বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স গেছে। আর ওই বছর ভারত থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪০৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেলওয়ের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি ও এর সামাজিক সুবিধার বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের রেলওয়ে উপদেষ্টা অনিতা বারিক বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের আগে থেকেই এ অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের রেল যোগাযোগ ছিল। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৭৬ সালে আবার ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। যোগাযোগের সাতটি রুটের মধ্যে বর্তমানে পাঁচটি সচল হয়েছে। সব রুট চালু হলে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সহজ হবে। রেলওয়েতে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে পণ্য পরিবহন সম্ভব। এজন্য অবকাঠামো বিশেষ করে আইসিডি ও বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করলে যে দ্রুততার সঙ্গে রেল পরিবহন সম্ভব, তা অক্সিজেন এক্সপ্রেসের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে। এছাড়া করোনা সংক্রমণ-সংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দুই দেশের মধ্যে রেলে পণ্য পরিবহন অনেক বেড়েছে।

ভারতীয় এলওসি প্রসঙ্গে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের স্থানীয় প্রতিনিধি প্রিয়াংশু তিওয়ারি বলেন, ভারত বিশ্বের ৬৫টি দেশকে ৩ হাজার কোটি ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা ভারতের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির ২৬ শতাংশ। এর বাইরে রামপালের মৈত্রী এসটিপিপিতে ১৬০ কোটি ডলারের ঋণ দেবে ভারত। ভারতের ঋণের প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবহন, যোগাযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ভারতের শীর্ষ পাঁচটি বাণিজ্য অংশীদারের একটি হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ভারতের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে। আমরা আরো এগিয়ে যেতে চাই। তবে নানা ধরনের প্রতিকূলতা আছে, যা কাটিয়ে উঠতে হবে। ভারতীয় হাইকমিশনার আরো বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে পণ্য পরিবহন মসৃণ ও সাশ্রয়ী হবে। এতে ওই পণ্য প্রতিযোগিতার উপযোগী হবে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক যোগাযোগ হলে সব পক্ষই সুবিধা পাবে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর বাণিজ্য সম্প্রসারণে ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও হালকা প্রকৌশল খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন হাইকমিশনার।

বিক্রম দোরাইস্বামী আরো বলেন, বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত দাঁড়াবে। দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের বড় অংশীদার হচ্ছে ভারত। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে ভারত। এ যৌথ উদ্যোগ দেশ দুটিকে আরো সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত