প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন, অস্বাভাবিক মূল্যে ৩ নিত্যপণ্য বিক্রি

নিউজ ডেস্ক: দেশে ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় তিন পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অপর দুটি হচ্ছে পেঁয়াজ ও চিনি। সম্প্রতি এসব পণ্য পুরো বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বেশি দামে বিক্রির বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যদিও এসব পণ্য বিগত এক বছরে পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে। দেশের ভেতরও পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কোনো ঘাটতি নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

ওই প্রতিবেদনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন, পামওয়েল ও চিনির মূল্য বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতাকে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে সুযোগ হিসাবে কাজে লাগাতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদারসহ ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়।

সূত্র মতে, এরই মধ্যে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে দ্রব্যমূল্য মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সম্প্রতি নিত্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। এতে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে যাতে না বাড়ে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জড়িতদের বিরুদ্ধে।

জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, পণ্যের সঙ্গে কর ও পরিবহণ ভাড়া যোগ হয়। এতে বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। তবে এটা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কিনা তা দেখতে হবে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের অভ্যাস বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লেই দেশের বাজারে তা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বিশ্বে দাম কমলে দেশে তা ধীরে ধীরে সমন্বয় করা হয়। ভোক্তার চেয়ে মুনাফার প্রতি তাদের বেশি নজর থাকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন উল্লেখ্য করা হয়, দেশের বাজারে বিগত এক বছরে খোলা পামঅয়েলের মূল্য ৭০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি পায় ৬১ দশমিক ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের বাজারে ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি দামে বেচাকেনা হয় এই তেল। এ ছাড়া গত ২০ জুলাই বিশ্ববাজারে প্রতি মেট্রিক টন অপরিশোধিত পামঅয়েল বিক্রি হয় ১০৩২ মার্কিন ডলার। ঠিক এক মাস পর ২০ আগস্ট দাম কিছুটা বেড়ে ১১৫০ ডলারে ওঠে। এই সময়ের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ১ লিটারের দাম ১০৮ থেকে বেড়ে ১১৪ টাকায় ওঠে। অথচ এই পণ্যের সরবরাহ ও মজুতের কোনো ঘাটতি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে পামঅয়েল আমদানি হয় ১০ লাখ ১৭ হাজার ৫৫ মেট্রিক টন।

এক মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত সয়াবিনের মূল্য বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। একই সময়ে দেশের বাজারে প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা ভোজ্যতেল দেশে আসতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস প্রয়োজন। এরপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়ার কথা। কিন্তু বর্ধিত মূল্যে কেনা তেল দেশে আসার আগেই স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটারে ১০ দশমিক ৫৮ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো।

চিনির বাজারেও একই কারসাজি পেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের আইআইটি বিভাগ দেখতে পায় গত ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনি প্রতি মেট্রিক টন বিক্রি হয় ৩৯৭ মার্কিন ডলারে। এক মাস পরে ২০ আগস্ট বিক্রি হয় ৪৩৮ দশমিক ২৭ মার্কিন ডলার। এক মাসে বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এক মাসের ব্যবধানে মূল্য বেড়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। প্রথম বর্ধিত মূল্যের আমদানি করা চিনি এখনো দেশে আসেনি। দাম বৃদ্ধি পেলেও সেটি দেড় থেকে দুই মাস পড়ে প্রভাব পড়বে। কিন্তু আগেই দাম বাড়ানো হয়েছে। ১৯ জুলাই বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি, ওই চিনি ২০ আগস্ট ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।

সূত্র জানায়, দেশে চিনির কোনো ঘাটতি নেই। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদেশ থেকে ১৮ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭২ মেট্রিক টন আমদানি করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশে উৎপাদন হয়েছে ৬৯ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। আর বার্ষিক মোট চাহিদা হলো ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন।

পেঁয়াজের ক্ষেত্রে আরও ভয়াবহ কারসাজি ফুটে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছরের ব্যবধানে এ পণ্যের দাম কমেছে ১৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে গত ২০২০ সালের ২০ আগস্ট বিশ্ববাজারে এক মেট্রিক টন পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২৭১ মার্কিন ডলারে। গত ২০ আগস্ট সেটি কমে ২৩৫ ডলারে নেমে আসে। কিন্তু এর প্রভাব উলটো দেখা গেছে দেশের বাজারে। গত এক বছরের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে এর দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সূত্র: যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত