প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‘অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদীরা তালেবানদের মত অপশক্তিকে ব্যবহার করছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: [২] ‘আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান বিশ্বের জন্য অশুভ সংকেত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তরা বলেছেন, ‘পাকিস্তান-চীন আজকে তালেবান-জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদীরা তালেবানদের মত অপশক্তিকে ব্যবহার করছে। জঙ্গি-তালেবানদের বিরুদ্ধে আমাদের আদর্শিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সামজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তালেবানরা স্বাভাবিক মানুষ নয়।’

[৩] শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন হলে ‘আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান বিশ্বের জন্য অশুভ সংকেত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তরা এসব কথা বলেন।

[৪] সভায় প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও বঙ্গবন্ধু চেয়ারের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার ফলে বাংলাদেশে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জঙ্গিবাদ নিয়ে আমাদের শঙ্কার কারণ রয়েছে। আমি ভেবেছিলাম ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সুশীল সমাজ তালেবানদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠবেন। আলোচনা করবেন, লিখনী লিখবেন। কেউ কোথাও কিছু করেননি।’

[৫] ‘আমার দুইটা লক্ষ একটা ইসলামকে যথার্থ ভাবে অনুসরণ করি। আরেকটা জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করা। আমরা এখনই সচেতনতা হই, সর্তক হই। বাংলাদেশ মানুষের দেশ হিসে গড়ে তুলবো অসাম্প্রদায়িক। এখানে ধর্ম থাকবে, ধর্মান্ধতা থাকবে না। ধার্মিক থাকবে কিন্তু জঙ্গি থাকবে না। এই প্রতিজ্ঞা আজ আমাদের করতে হবে’- বলেন তিনি।

[৬] আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আফগানরা ইসলাম গ্রহণ করতে চায় নি। অনেক চেষ্টা তদবির করে ইরানী সুফি সাধকরা ক্রমাগত ভাবে আফগানে ইসলাম নিয়ে এসেছেন। আফগানরা যখন ইসলাম গ্রহণ করেছে, নিজেদের মত করে গ্রহণ করেছে। গোত্রভিত্তিক ইসলামি চেতনা লালন করেছে। আফগানরা গোত্র চেতনায় এক গোত্র আরেক গোত্রের সঙ্গে নামাজও পড়ে না, খায়ও না তবে যুদ্ধ করে এক সঙ্গে।’

[৭] তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য আগস্ট একটি শোকের মাস এবং পাকিস্তান স্পন্সর উগ্র ইসলামী সন্ত্রাসের ভয়ঙ্কর হুমকির একটি ভয়াবহ স্মারক। ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, একটি সামরিক অভ্যুত্থান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার পরিবারের অনেক সদস্যকে হত্যার দিকে নিয়ে যায়। সামরিক শাসকরা যারা পরবর্তী ২১ বছর ধরে বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ করে এবং শাসন করে পাকিস্তানপন্থী প্রবর্তিত উপাদানগুলিকে বৈধতা দেয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, মুজিবুরের কন্যা, শেখ হাসিনা, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী, তার জনসভায় গ্রেনেড হামলা থেকে সবে বেঁচে যান। এই হামলায় ২৪ জন আওয়ামী লীগার নিহত এবং ৫০০ এরও বেশি আহত হয়। হাসিনার অন্যতম দেহরক্ষী মাহবুবুর রশিদ নিহত হন।

[৮] আলোচনা সভায় সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ‘ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো সম্প্রদায়কে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেবো না। দেশের যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কোনো কিছু থাকতে পারে না। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিশেষ গোষ্ঠী বা বিশেষ ব্যক্তির প্রাধান্য যাতে সেখানে না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

[৯]বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্টি ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, বিশিষ্টি ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা এটিএম ফরহাদ, মাওলানা মহিউদ্দিন খান ফারুকী, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ, তসলিম উদ্দিন রানা, সন্তুষ দাস গুপ্ত, বাংলাদেশ সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্টি ফোরামের সমন্বয়ক শেখ জনি ইসলাম, সাংবাদিক গণবন্ধু রাহাত হুসাইন প্রমুখ।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত