প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ম‌নিরামপু‌রে পা‌টের বাম্পার ফলন, হঠাৎ দরপত‌নে হতাশ চা‌ষিরা

র‌হিদুল খান: [২] যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নে সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে, হঠাৎ পাটের দরপতনের কারণে চাষিরা হতাশ। ভাল পাটের ফলন হওয়া ইউনিয়নগুলো হচ্ছে-চালুয়াহাটি, মশ্মিমনগর, ঝাঁপা, হরিহরনগর, খেদাপাড়া ও রোহিতা। এই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চলতি মৌসুমে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে পাট কেটে পানির অভাবে জাগ দিতে না পেরে কিছুদিন ডাঙ্গায় রেখে দেওয়া হয়। পাট শুকাতে গিয়ে অসুবিধায় পড়েছেন চাষিরা। বর্তমানে বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানির অভাব কেটে গিয়ে ক্ষেতের পাট কেটে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানোর কাজে বেশ সুবিধা হচ্ছে চাষিদের। তবে, কিছুদিনের ব্যবধানে বাজার মূল্য মণ প্রতি ৩ থেকে ৪শ’ টাকা কম হওয়াতে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

[৩] এক সপ্তাহ আগে প্রতি মণ পাট বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ২৯শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে দাম কমে ২৫ থেকে ২৬শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকজন পাট চাষি জানান, এ বছর পাটের উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে। ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের মন্টু মোড়ল ২ বিঘা ৫ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছেন। মোট খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। তার পাট হয়েছে ৫০ মণ। তিনি ভাল দাম পাবার আশা করছেন।

[৪] হরিহরনগর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের নছিম সরদার. খেদাপাড়া ইউনিয়নের হেলাঞ্চী গ্রামের আনিছুর রহমান, মশ্মিমনগর গ্রামের ফারুক ও ঝাঁপা ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামের আব্দুল মতলেবসহ অনেক পাট চাষি জানান, তারা আগাম পাট চাষ করে প্রতি বিঘায় (৩৩শতক) খরচ করেছেন ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা। উৎপাদন হয়েছে বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৩ মণ। দাম ভাল পেলে তারা খুশি বলে জানান।

[৫] রাজগঞ্জ বাজারের পাট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহ আগে ২৮/২৯শ’ টাকা প্রতি মণ পাট বেচাকেনা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় বর্তমানে ২৫/২৬শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মনিরামপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলায় চলতি বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৮২০ হেক্টর জমি। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে কৃষকরা পাট চাষ করেছেন ৫ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে। এ বছর পাটের বাম্পার ফলন ও বাজার মূল্য বেশি পাওয়ায় কৃষকরা খুশি। যে কারণে আগামী বছরও তারা বেশি জমিতে পাট চাষ করবেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত