প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাশিদ রিয়াজ: আফগানরা কাঁদছে, আড়ালে হাসছে কারা

রাশিদ রিয়াজ: মার্কিন মিডিয়া সিএনএন আশঙ্কা করেছিলো কাবুল বিমান বন্দরে বোমা হামলা করতে পারে আইএস জঙ্গিরা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ব্রিটেন ও বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ বোমা হামলার আশঙ্কা করে তাদের সেনাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছিলো। বোমা হামলায় মার্কিন সেনাসহ শতাধিক নিহত হবার পর আইএস দায় স্বীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন তিনি এ হামলার কথা ভুলবেন না। কিন্তু আফগানিস্তান অস্থিতিশীল হলে লাভ কার? যখন চীন, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ চাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক। তাহলে তা এশিয়ার দেশগুলোকে ফের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে না। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আফগানিস্তান নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে বলেছেন তালেবানরা কথা রাখেনি। কি কথা দিয়েছিলো তালেবানরা তা অবশ্য জয়শঙ্কর বলেননি। তালেবানদের ভয়ে জান নিয়ে দেশ ছাড়তে যেয়ে আফগানরা আইএস জঙ্গিদের বোমা হামলায় লাশ হয়ে ঘরে ফিরছে। এবং আইএস জঙ্গিদের এ হামলা তালেবানদের বিরুদ্ধে আরো ঘটনার আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন মধ্যপ্রাচ্যের মতোই এশিয়ার দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করতে আইএস জঙ্গিরা এবার মাঠে নামছে। কিন্তু আইএস জঙ্গিদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করছে কারা? আফগানিস্তানে ২০ বছরেও মার্কিনীরা স্থিতিশীল পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি? পশ্চিমা মিডিয়াগুলোর খবরে বলা হয়েছে কাবুলে মার্কিন সেনারা যুক্তরাষ্ট্র যেতে ইচ্ছুকদের কাছ থেকে মাথা পিছু কয়েক হাজার ডলার করে চাঁদা তুলছে। তাদের অধিক মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল নিরাপত্তার দিকে। তাদের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা দিতে পারবে না বরং নিত্যনতুন সমস্যা ও সংকট তৈরি করবে তার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। কোনো দেশেই দখলদার সেনা থাকলে সেখানকার বিভিন্ন পক্ষ ও জাতিগত গোষ্ঠীগুলো কখনই শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবে না। আফগানিস্তানে যাতে সকল পক্ষের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও সহযোগিতার মনোভাবসম্পন্ন সরকার ক্ষমতায় আসলে যাদের ক্ষতি তারাই দেশটিতে এখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রাখবে। ফলে বিদেশি হস্তক্ষেপ আফগানিস্তানের প্রতিবেশি দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা বরং আরো বিঘ্ন করবে।

অবশ্য রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে শক্তি প্রয়োগের আহবান জানিয়ে বাগরাম সেনা ঘাঁটি পুনরায় দখলে নিতে বলেছেন। তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, সারাদেশের নিরাপত্তা রক্ষা করার দায়িত্ব তাদের হাতে থাকলেও কাবুল বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন সেনারা। কাজেই এই হামলা প্রতিহত করতে না পারার ব্যর্থতা মার্কিন সেনাদের। তালেবান আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের লালনভূমিতে পরিণত হতে দেবে না। প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশত্যাগের জন্য বিমানবন্দরের বাইরে যখন হাজার হাজার আফগান নাগরিক অবস্থান করছিলেন তখন বিমানবন্দরের অ্যাবে গেটের বাইরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। এ সময় সেখানে প্রায় চার থেকে পাঁচশ মানুষ ছিলেন। প্রথম বিস্ফোরণের পর দূর থেকে গুলি চালায় আরেক হামলাকারী। এর কিছুক্ষণ পরই নিকটবর্তী ব্যারন হোটেলের বাইরে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এ হামলা যে পূর্বপরিকল্পিত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো শুধু এটুকু বলতে পারছে আরো আত্মঘাতী হামলা হতে পারে! কাবুল বিমানবন্দরে প্রথম বোমা বিস্ফোরণের পরপরই ফরাসি দূত ডেভিড মার্টিনন টুইট করে বলেন, ‘আফগান বন্ধুদের উদ্দেশে বলছি, আপনারা যদি বিমান বন্দরের গেটের কাছে থাকেন, অবিলম্বে সরে আসুন। কোনো নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন। কারণ যে কোনো সময় আর একটি বিস্ফোরণ হতে পারে।’ এর কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে ও অতর্কিতে গুলি চালায় ঘাতকরা।

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত