প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপু তৌহিদুল: ১৯৬৩ সালে পুরোনো ঢাকার উর্দূ রোডে রিয়াজ স্টোর নামে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম গার্মেন্টস

দীপু তৌহিদুল: রিয়াজ গার্মেন্টস এর একটা বিলবোর্ড। ৮০ দশকের আগে ঢাকার, শাহবাগ ও পুরনো পল্টন পর্যন্ত ৩টি বিলবোর্ড ছিলো। এই বিলবোর্ড থেকে আমাদের অতীত কালে হাতে আঁকা বিলবোর্ড নিয়ে একটা ধারনা পাওয়া যায়। ২০০০ সালের পর থেকেই বাংলাদেশে হাতে আঁকা বিলবোর্ড শিল্পটাও উঠে গেছে বলা যায়, এখন আর ওসব কাজের লোকজনও নেই। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত রিয়াজ গার্মেন্টস স্থানীয় বাজারে জনপ্রিয় ছিলো। এই রিয়াজ গার্মেন্টসই বাংলাদেশে গার্মেন্টস রপ্তানির পথিকৃৎ ছিলো। বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইতিহাস নিয়ে কথা বললে রিয়াজের নাম আপনাকে নিতেই হবে। ১৯৬৩ সালে পুরোনো ঢাকার উর্দূ রোডে রিয়াজ স্টোর নামে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম গার্মেন্টস। ১৯৬৫ সালে রিয়াজ স্টোর এর মালিক জনাব রিয়াজ উদ্দিন করাচি ভ্রমণকালে একটি গার্মেন্টসকে মাসে ১লাখ পিস পোশাক রপ্তানি করতে দেখেন। তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বিদেশে পোশাক রপ্তানির স্বপ্ন দেখতে থাকেন। শুরুতে তারা শুধু দেশের চাহিদাই পূরণ করতো। এরপর ১৯৭৩ সালে রিয়াজ স্টোর এর নাম পরিবর্তন করে রিয়াজ গার্মেন্টস রাখেন এবং বিদেশে পোশাক রপ্তানির জন্য কাজ শুরু করেন। অবশেষে আসে সেই স্বপ্ন পূরণের দিন। ১৯৭৮ সালের ২৫শে জুলাই টিসিবির সহায়তায় বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম ৪ লাখ টাকা মূল্যের পুরুষদের শার্ট রপ্তানি করা হয় ফ্রান্সে। এই পোশাক রপ্তানি নিয়ে বিখ্যাত কার্টনিস্ট রণবী কার্টুন পর্যন্ত এঁকেছিলেন। ‘৪ লাখ টাকার পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে ফ্রান্সে’ এই শিরোনামে যে কার্টুনটি এঁকে ছিলেন, সেখানে একজন টোকাই আরেকজনকে বলছে, ‘আরে চিন্তা করিস না, ওই পোশাকগুলো পুরোনো হয়ে আবার আমার দেশেই ফেরত আসবে’। রিয়াজের মালিক জনাব রিয়াজ উদ্দিন আমার বন্ধুর পিতা, তিনি দারুণ একজন ভদ্রলোক ছিলেন, ইস্কাটন গার্ডেনে থাকতেন, তারা বাড়িটা সেই আমলেও খুব সুন্দর ছিলো। স্কুল জীবনে অনেকবারই মানুষটার সঙ্গে কথা হয়েছে, সকল সময় ভালো পরামর্শ দিতেন। ফেসবুক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত