প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডঃ মোহাম্মদ আখেরুজ্জামানঃ জাপানী ভিসা -১ অধ্যাপক (Professor)ভিসা

ডঃ মোহাম্মদ আখেরুজ্জামানঃ জাপান সরকার বিদেশী নাগরিকদের বসবাস করার জন্য তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরণের ভিসা প্রদান করে থাকে। এদের মধ্যে অধ্যাপক (Professor) ভিসা হচ্ছে অন্যতম উচ্চ শ্রেণীর ভিসা। এই ভিসা প্রাপ্ত বিদেশীরা জাপান অথবা জাপানের বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন বিশেষ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে কোন সরকারী অথবা বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করে তাদের এই অধ্যাপক (Professor) ভিসা দেয়া হয়।

অধ্যাপক কথাটা শুনলেই কেমন জানি মনে হয় একটা মাষ্টার মাষ্টার ভাব আছে এর মধ্যে। আমি যদিও কখনই স্থায়ীভাবে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাষ্টারী করি নাই। যা কিছু মাষ্টারী করেছি তা হচ্ছে টুকটাক সেবা মুলক কিংবা পার্ট টাইম চাকুরী। কিন্তু নিজে যখন ২০১১ সালে জাপানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে একই(কিউসু) বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিসষ্ঠানে গবেষক হিসেবে চাকুরী নিলাম তখন আমিও পেলাম অধ্যাপক (Professor) ভিসা। এই ভিসা পাওয়ার পরে প্রথম প্রথম নিজেকে একটু মাষ্টার মাষ্টার মনে হত। আমি প্রায় দুই বছর এই অধ্যাপক (Professor) ভিসায় ছিলাম জাপানে। ঐ সময় জাপানের বাইরে বের হলেই বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন অফিসার পাসপোর্টের ভিসা দেখেই জাপানী ভাষায় বলত “সেন্সেই নানি ও অশিএতে মাস কা?” মানে হচ্ছে স্যার আপনি কোন বিষয়ে পড়ান? তখন আমি তাকে বিনয়ের সাথে বলতাম ভাই আমি কোন মাষ্টার না, আমি একজন গবেষক হিসেবে কিউসু বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছি। আমার কথা শুনে ইমিগ্রেশন অফিসার যথাযথ সম্মানের সাথে পাসপোর্টে ধামাধাম সীল মেরে মালামাল পাড় করে দিতেন। অবশ্য ২০১২ সালের পর থেকে জাপানের ভিসা আর পাসপোর্টে থাকে না। জাপানে প্রবেশের পর এখন সকল বিদেশিদের ভিসা থাকে একটি কার্ডে। এই কার্ডে জাপানে বসবাসের ভিসার মেয়াদ, ভিসার ধরন, জাতীয়তা, বর্তমান ঠিকানা, এবং তার ভিসা কি ধরণের কাজের জন্য প্রযোজ্য সবই লেখা থাকে। একে বলে জাইরিয়ু কার্ড বা বসবাসের কার্ড।

যাই হোক, যদি কেউ জাপানে এই অধ্যাপক (Professor) ভিসার জন্য আবেদন করতে চান তাহলে তাকে কি করতে হবে সেই বিষয় নিয়ে কথা বলি। প্রথমেই আপনাকে জাপানের সরকারী কিংবা বেসরকারী কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কোম্পানি থেকে স্থায়ী অথবা খণ্ডকালীন কাজের (চাকুরীর)জন্য নিয়োগ পেতে হবে। আপনি যেই প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ পত্র পাবেন সেই প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত প্রাতিষ্ঠানিক কাগজ পত্র, আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সকল কাগজ পত্র সহ জাপানের ইমিগ্রেশন এবং স্থানীয় দুতাবাসে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনার এবং আপনাকে নিয়োগ দেয়া প্রতিষ্ঠানের কাগজ পত্রে কোন ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য না থাকলে আপনি অধ্যাপক (Professor)ভিসা পেয়ে যাবেন। প্রথমে আপনাকে নিয়োগ দেয়া প্রতিষ্ঠান আপনার জন্য জাপানের ইমিগ্রেশনে COE(Certificate of Eligibility)এর আবেদন করবেন এবং সাধারণত একমাসের কাছাকাছি সময়ে এই ভিসা COE(Certificate of Eligibility)হয়ে যায়। এরপর জাপানের ইমিগ্রেশন থেকে পাওয়া COE(Certificate of Eligibility) এর মূলকপি সহ স্থানীয় জাপান দুতাবাসে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত প্রাতিষ্ঠানিক কাগজ পত্র, আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সকল কাগজ পত্র সহ আবেদন করলে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ভিসা হয়ে যাবে।

এই ভিসার মেয়াদ কত দিন হবে সেটা নির্ভর করে আপনি যেই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়েছেন তার প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা, আপনার যোগ্যতা এবং সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে আপনার নিয়োগের মেয়াদকাল কতদিন। যেমন আপনার নিয়োগ যদি হয় ১ বছরের জন্য সে ক্ষেত্রে আপনার ভিসার মেয়াদও এক বছরই হবে। কিন্তু যদি চুক্তির মেয়াদ নবায়নের কোন সম্ভবনা থাকে সে ক্ষেত্রে নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করে এক বছর, তিন বছর, কিংবা পাঁচ বছরের ভিসা হতে পারে। এই ভিসা প্রাপ্ত বিদেশীগণ তাদের পরিবারসহ জাপানে বসবাস করতে পারবে। জাপানের বাহিরে থেকে এই অধ্যাপক (Professor)ভিসা নিয়ে জাপানে আসলে অনেক সময় পরিবার সাথে করে নিয়ে আসতে পারেন আবার অনেক সময় জাপানে আসার পরে পরিবারের জন্য ভিসার আবেদন করে অল্প দিনের মধ্যেই পরিবার জাপানে নিয়ে আসতে পারবেন।

উল্লেখ্য এই অধ্যাপক (Professor) ভিসা পাওয়ার জন্য জাপানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পড়াশুনা করতে হবে এমন কোন শর্ত নেই। বিশ্বের যে কোন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে জাপানের কোন সরকারী কিংবা বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কোম্পানি থেকে স্থায়ী অথবা খণ্ডকালীন কাজের (চাকুরীর)জন্য নিয়োগ পেলে তারা এই অধ্যাপক (Professor) ভিসা জন্য যোগ্য হবেন। এই সকল বিদেশী নাগরিক পাঁচ বছর চাকুরী করার পর জাপানের নাগরিকত্ব এবং ক্ষেত্র বিশেষে দুই থেকে তিন বছর পরে পয়েন্ট ভিত্তিতে একা কিংবা সপরিবারে জাপানে স্থায়ী বসবাসে(PR➡Permanent Residency) আবেদন করতে পারবেন। এতে করে সে এবং তার পরিবার সাড়া জীবন জাপানে বসবাস করতে পারবেন।

আমার আগের লেখাতেও উল্লেখ করেছি যে জাপানের ভিসা অন্য দেশের তুলনায় সহজ এবং সাধারণত কোন কারণ ছাড়া ভিসার আবেদন বাতিল হয় না। তাই বাংলাদেশের সকলকে অনুরোধ করব জাপানের ভিসার আবেদন করার সময় আপনার এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের (জাপানের যেই প্রতিষ্ঠানে আপনি আসবেন) কাগজ পত্র গুলো ভাল ভাবে পরীক্ষা করে নিন। প্রয়োজনে স্থানীয় দুতাবাসের কিংবা কোন অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ নিন তাহলে আপনি জাপানের ভিসা থেকে বঞ্চিত হবেন না। ইনশাল্লাহ আগামীতে আবার জাপানের অন্য ধরণের ভিসা নিয়ে অলোচনা করব। চলবে

ডঃ মোহাম্মদ আখেরুজ্জামান
টোকিও, জাপান।

সর্বাধিক পঠিত