প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাকন রেজা: ‘কুসুম কুসুম বিপ্লবী ও উপেক্ষার অস্ত্র

কাকন রেজা: যারা কারো সমবেদনা জানানোর কথা বলতে গিয়ে মূলত জানাতে চেষ্টা করেন, সে আগে খারাপ ছিলো, তার পরিণতি তাই এমন হয়েছে। তারপর বলেন, তবু আমরা তার ‘শুভ কামনা’ করি। তারা কী ভেবে দেখেছেন, আপনি যাদের পারপার্স সার্ভ করছেন বা সার্ভিস দিচ্ছেন, তাদেরও তাদের অতীত মনে করিয়ে দিচ্ছেন এবং সাথে আপনার চরিত্র।

কারো সাথে যদি বিরোধ থাকে, তবে তার সহমর্মিতা জানানোর এমন ভন্ডামিটুকু না করে চুপ থাকাই সেই ব্যক্তির প্রতি হবে প্রকৃত সহমর্মিতা। অবশ্য এ ধরনের মানুষের সেই মানসিকতাও থাকে না। কারণ তাদের মনে থাকে প্রতিশোধ প্রবণতা। প্রতিহিংসা। কেউ কেউ ধর্ষণের প্রতিবাদ করেন। সাথে ‘গণ কেইস’ হওয়া গণমাধ্যমে ধর্ষণের রগরগে বর্ণনাটুকুও আবার পড়তে ছাড়েন না। অর্থাৎ তার মনের ভেতরেও একজন ধর্ষক লুকিয়ে থাকেন। মনস্তত্ব অন্তত তাই বলে। এই ধর্ষকদের মনোবৃত্তি আর ভণ্ড সহমর্মিদের মনোবৃত্তি অনেকটা একই। এর মূলত ধর্ষকামী। পারভার্টেড।

তাদের দিয়ে কারো উপকার কখনো হয়নি। এমনকি যাদের পারপাস সার্ভ করে বা সার্ভিস দেয় তাদেরও না। আখেরে হিসেবে করলে দেখা যায় তাদের দ্বারা সবপক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপকার যা হয়েছে তা শুধু তাদের। তারা সবসময়ই টিকে আছে কুসুম কুসুম বিপ্লবী ভাব নিয়ে। এরা তাদের লাইনের চিন্তা করে। না, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা দর্শনের নয়, স্রেফ লাইনের। তাদের পক্ষের কারা। কারা তাদের জন্য অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক। কিংবা তাদের প্রভুদের পক্ষে কারা আছেন। এটাই হলো লাইন।

এদের কাজ হলো তার নিজ পক্ষের এমন একটা বিষয়ের বিরোধিতা করা যা করলে তেমন কোনো ক্ষতি নেই, কিন্তু লাভ আছে। ওই যে, ওই রকম, পড়লে ছোয়াব আছে, না পড়লে গুনাহ নেই। এই জিনিসটাই তারা করে। এতে লাভ দুটো, নিজেদের বিপ্লবী চেহারা আমজনতার সামনে তুলে ধরা। একইসঙ্গে আমজনতার দৃষ্টি অন্যদিকে ধাবিত করা। এটা আমরা দেখছি হরহামেশাই। এদের জন্যই অনেক জরুরি কথা থাকতেও পরীমনি নিয়ে হাঙ্গামা বাঁধে। তালেবানদের নানা দোষত্রুটি থাকলে তাদের দৃষ্টি থাকে নারী নিগ্রহের প্রতি। যাতে তালেবান শাসনের ফোকাস থাকে নারী বিষয়ে, আর মূল যে বিষয় তা ভোগে। এই যে খুচরা ও খেজুরে আলাপ, এগুলো সামগ্রিকভাবে মূল আলাপ তুলতে বাধার সৃষ্টি করে। যার ফলে মূল সমস্যাগুলো অচিহ্নিত রয়ে যায়। সঙ্গতই রাজনৈতিক সমাজ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিপথে যায়।

সুতরাং যারা সত্যিকার অর্থেই রাজনৈতিক সমাজের উন্নতি চান, সুষ্ঠু ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বা তোলার সহায়তা করতে চান, তাদের এই খুচরো আলাপকে চিহ্নিত করতে হবে, সাথে আলাপকারীদেরও। চিহ্নিত করে মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি’র দেখানো পথে স্রেফ উপেক্ষা করতে হবে। গুরুত্ব না পেলে, যার কুয়ো নিয়ে চিন্তার সক্ষমতা নেই, সে আর সাগর নিয়ে মাথা ঘামাবে না। এরা কাজ করে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণে। আকর্ষণ আর বিকর্ষণই এদের কাজ। এর বেশি আর কিছু করার ক্ষমতা এদের নেই। সুতরাং সে কাজ কমাতে বা বন্ধ করতে উপেক্ষার চেয়ে বড় অস্ত্র আর কিছু নেই।      লেখক: সাংবদিক ও কলামিস্ট

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত