প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২১ আগস্টের সেই আর্তনাদ “ওরা মৃত ভেবে আমাকে লাশের গাড়িতে তুলে দিয়েছিলো!”

অমল তালুকদার, পাথরঘাটা, বরগুনা: সেদীনের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে বক্তব্য শেষ করার মুহূর্তেই বিকট শব্দে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়। মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। আমি মাটিতে লুটিয়ে পরি। আইভি রহমান আমাদের আইভি আপা মা বলে চিৎকার দিয়ে উঠলেন। আমি উঠে দাঁড়াবার আপ্রাণ চেষ্টা করি কিন্তু শরীরে মোটেই জোড় পাচ্ছি না। উঠে বসে একধরনের হামাগুড়ি দিয়ে একটু পাশে সরে বসতেই ফের বিকট শব্দ। দেখলাম আমার পা খন্ড খন্ড হয়ে উড়ে যাচ্ছে। তাকালাম চারপাশে। শুধুই রক্ত। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে মানুষের দেহ। কারো হাত কারো পা উড়ে গেছে। লাশের স্তূপ। এ এক ভয়ার্ত মৃত্যুপুরী।

অভিযুক্ত বিএনপি-জামায়াতের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার শিকার হয়েছিলেন বরগুনার পাথরঘাটা হাজী জালাল উদ্দিনের মেয়ে সাবেক সাংসদ নাসিমা ফেরদৌসি।

সেই দিনের বিভীষিকাময় দুঃসহ স্মৃতিচারন করতে গিয়ে আজও বাকরুদ্ধ হয়ে পরেন নাসিমা ফেরদৌসি। এপ্রতিনিধিকে জানান,”ওরা ভেবেছিলো আমি মরে গেছি। আমাকে লাশের ট্রাকে তুলে দিয়েছিলো।” ঢাকা মেডিকেলের করিডোরেও ফেলে রাখা হয়েছিলো। আমার জ্ঞান ফেরার পর ওই লাশের মধ্যে থেকে চিৎকার দিয়ে উঠি। হয়তো আর কিছুক্ষণ পরে জ্ঞান ফিরলে ততক্ষণে লাশকাটা মর্গে চলে যেতাম।

২০০৪ সালের ২১আগষ্ট ট্রাজেডির শিকার যারা হয়েছিল;তাদের-ই একজন নাসিমা ফেরদৌসি।নিশ্চিত মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা নাসিমা শরীরে গ্রেনেডের অসংখ্য ইস্পিনটার নিয়ে আজও যন্ত্রনা বয়ে বেড়াচ্ছেন।

সেদিন পরন্ত বিকেলে আওয়ামীলীগের জনসভায় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান আমাদের আইভি আপা,সৈয়দা তারেক দীপ্তি,আমিসহ সকলেই উপস্থিত হয়েছিলেন। আজ প্রায় দেড়যুগ পাড় হলো। শরীরের যন্ত্রনা নিয়ে বেচে আছি। গরমের সময় পা আগুনের মতো তপ্ত হয় আর শীতে পা দুটো শীতল হয়ে যায়। এ এক ভিন্ন যন্ত্রনা। কাউকে বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

এই হামলার পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা আমার চিকিৎসা করান বলে আজ পথ চলতে পারছি। এখনও তিনিই খোঁজখবর রাখছেন বলে জানান নাসিমা।

দশম জাতীয় নির্বাচনে আ.লীগ ক্ষমতায় আসার পরে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে (বরগুনা-ঝালকাঠি) এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নাসিমা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে উন্নত চিকিৎসা না করালে পা দুটি হারাতে হতো।

ততদিন বেচে থাকব বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শ বুকে ধারন ও লালন করে যাব। জননেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। যার প্রমাণ সপ্নের পদ্মা সেতু।
নাসিমা ফেরদৌসির স্বামী হারুন অর রশিদ সহ এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে রাজধানী ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন।

 

 

সর্বাধিক পঠিত