প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মহাসচিবকে চিঠি লিখে সিলেটের বিএনপি নেতা জামানের পদত্যাগ

ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটি গঠনে ‘মতামতকে উপেক্ষা’ করায় কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। বাংলাট্রিবিউন, এবিনিউজ২৪

বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এ সময় প্রেস ব্রিফিংও করেন সিলেটের এ নেতা। সেখানে তিনি পদত্যাগপত্রটি পড়ে শোনান।

পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘১৯৮৫ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপিতে যুক্ত হই। বিএনপির দুর্দিনে এই দলকে প্রতিষ্ঠা করতে জীবনের সোনালী সময়ে সাধ্যমতো সময় ও অর্থ ব্যয় করেছি। সীমাহীন প্রতিকূলতার মাঝে দলকে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করেছি। আমি কখনওই হালুয়া-রুটির ভাগীদার হইনি। কিংবা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি।’

মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘আপনার মতো বিজ্ঞ মানুষের স্মরণশক্তি যদি মহান আল্লাহ সঠিক রাখেন, তাহলে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে আমার ও আমার সহযোদ্ধাদের ভূমিকা আপনার মনে থাকার কথা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো, মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষিত হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আমার জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষিত হলো আমার মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে। সর্বোপরি যেসব সহযোদ্ধা আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন বাজি রেখেছিল, গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, এমনকি সমাজ, সংসার থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, তাদেরকে চরমভাবে উপেক্ষা করে উপহাসের পাত্রে পরিণত করা হলো।’

‘আজকে অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে জানতে ইচ্ছে করে, আপনার দলে নেতৃত্ব পেতে হলে যোগ্যতার মাপকাঠিটা কী? যারা দেশ ও দলকে ভালবাসে, জীবন বাজি রাখে, দুর্দিনে যারা বিশ্বস্ত থাকে, বন্দুকের-বেয়নেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায় তাদের পাওয়া উচিত, নাকি যারা লবিং-তদবির অথবা বিশেষ ব্যবস্থায় সবকিছু হাসিল করে তাদের পাওয়া উচিত?’

‘যে দলটাকে ভালোবেসে তিল তিল করে বিনির্মাণ করেছিলাম, আজকে সেই দলে আমরাই অনাহুত। আপনারা প্রায়শই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, রাষ্ট্রের কাছে ন্যায় ইনসাফের দাবি তোলেন। কিন্তু নিজের অন্তর-আত্মাকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখবেন কী, আপনারা নিজেদের কর্মীদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন কি-না?’

‘বিগত ৩৬টি বছর আপনার দলকে নিরলস সেবা দিয়ে গেছি। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর পুণ্যভূমির মানুষ জানে, আমরা কতটা দুঃখের সাগর পাড়ি দিয়েছি। আজকে আমার সহযোদ্ধাদের প্রতি যে অন্যায় আচরণ আপনারা প্রদর্শন করলেন, অবশ্যই প্রকৃতি এর প্রতিবিধান করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

‘আমার জীবনের ৩৬টি বছর আপনাদেরকে সদকা হিসেবে দান করে দিলাম’ বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এ নেতা।

বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে সিলেট নগরীর মিরাবাজারের একটি অফিসে এ প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন- দলের কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। দুই কমিটির প্রত্যেকটিতে ৬১ জন করে মোট ১২২ জন নেতা স্থান পেয়েছেন।

কমিটির জেলা শাখায় আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল আহাদ খান জামাল ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক ছাত্র নেতা দেওয়ান জাকির হোসেন খান। এছাড়া মহানগরের আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আজিজুল হোসেন আজিজ।

অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও তার মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা করায় অভিমানে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে দলটির স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত