প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নাজনীন আহমেদ: টিকার অপচয় রোধে এর সংরক্ষণ, পরিবহন এবং টিকাদানের যথাযথ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা খুবই জরুরি

নাজনীন আহমেদ: আমরা সবাই এখন জানি, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার টিকা। এই মুহূর্তে গণটিকাদান চলছে। তারপরও জনবহুল এদেশের সকলকে টিকার আওতায় আনতে আরও অনেক টিকা লাগবে। তাই খুবই জরুরি হচ্ছে সতর্ক থাকা যেন টিকার কোনো অপচয় না হয়। ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, সেখানকার কিছু কিছু রাজ্যে যেমন ঝাড়খন্ডে টিকার অপচয় ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ। যেখানে বিশ্বের সব মানুষের জন্য টিকাপ্রাপ্তি এখনো অনিশ্চিত সেখানে এরূপ অপচয় খুবই দুঃখজনক। আবার ভারতের কেরালা রাজ্যে টিকার অপচয় তো হয়ইনি বরং এখানকার সাফল্য ১০০ ভাগের বেশি। প্রশ্ন আসতে পারে ১০০ ভাগের বেশি সাফল্য কী করে সম্ভব?

সাধারণভাবে টিকার একটি এম্পুল থেকে যে কয়টি টিকা দেয়া সম্ভব তার চেয়েও একটু বেশি ওষুধ থাকে, এই জন্য যে, এম্পুল থেকে সিরিঞ্জে টিকার ওষুধ ভরার সময় কিছু কমবেশি হতে পারে। দক্ষতার সঙ্গে দেওয়া গেলে একটি এম্পুলের গায়ে যা লেখা থাকে তার চেয়েও টিকাবেশি দেওয়া সম্ভব। কেরালা রাজ্যের দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীরা সেটাই করেছেন। ফলে তাদের দেওয়া এম্পুল থেকে যেখানে ৭৩,৩৮,৮৬০ ডোজ টিকা দেওয়া সম্ভব ছিলো, সেখানে তারা দিতে পেরেছেন ৭৪,২৬,১৬৪ শট। এই সাফল্য থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। তবে ১০০ শতাংশের এর ওপরে না যাওয়া গেলেও অন্তত অপচয় যেন না হয় তার চেষ্টা তো আমরা করতেই পারি। যেহেতু টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা এক বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এর অপচয় একেবারেই কাম্য নয়। তাই টিকার অপচয় রোধে উপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহণ খুবই জরুরি।

টিকার অপচয় রোধে এর সংরক্ষণ, পরিবহন এবং টিকাদানের যথাযথ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা খুবই জরুরি। কোথাও এম্পুল খোলার পর কোনো কারণে টিকা দেওয়া না গেলে অথবা টিকার অপচয় হবার সম্ভাবনা তৈরি হলে সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে সেই প্রস্তুতিও থাকা দরকার। আমাদের এই গরম আবহাওয়ায় ঠাণ্ডা স্থানে টিকা সংরক্ষণ এবং এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পরিবহনের সময় উপযুক্ত যানবাহন খুবই চ্যালেঞ্জিং বিষয়। উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে আগানো গেলে আগামী কয়েক মাস ধরে যে টিকাদান কর্মসূচি চলবে তা বেশি সংখ্যক মানুষের উপকারে আসবে। বিষয়টি জরুরি, তাই পদক্ষেপও জরুরি। লেখক : অর্থনীতিবিদ

সর্বাধিক পঠিত