প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিয়ানমার দিয়ে আসছে ভয়ঙ্কর মাদক আইস

নিউজ ডেস্ক: এবার মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ভয়াবহ মাদক ও ব্যয়বহুল মাদক আইস (ক্রিস্টাল মেথ) বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এমনিতে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা চালান বন্ধ করতে হিমশিম খাচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তা নিয়ে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করে গোয়েন্দা পুলিশ মাদকটি প্রবেশে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। মঙ্গলবার গভীররাতে ৫০০ গ্রাম আইস ও ৬৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যার বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, নাজিম উদ্দিন, মোঃ আব্বাস উদ্দিন, মোঃ নাছির উদ্দিন, মোছাঃ শিউলি আক্তার, মোছাঃ কোহিনুর বেগম, সানজিত দাস, মোঃ হোসেন আলী, রাশিদা বেগম ও মৌসুমী আক্তার। এ সময় একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এসব তথ্য জানান। জনকণ্ঠ

ডিবিপ্রধান জানান, আইস মাদকসেবীদের কাছে ক্রিস্টাল মেথ বা ডি মেথ নামে সর্বাধিক পরিচিত। এটি একটি স্নায়ু মাদক। আইস অত্যন্ত ভয়াবহ উত্তেজনাকর ও গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল মাদক। এটি গ্রহণে হরমোন উত্তেজনা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয় মাদকসেবী। এটি সেবন করলে হার্ট এ্যাটাক ও স্ট্রোক হতে পারে। তিনি জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার সঙ্গে অত্যাধুনিক মাদক আইসের (ক্রিস্টাল মেথ) মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল মাদকও চোরাচালান হচ্ছে। এই মাদকটি প্রথমে মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রামে আসে। এরপর চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় একটি প্রাইভেটকারে আনলোড করে ঢাকায় প্রবেশ করে। ইয়াবার মতো মাদকটি সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করে গোয়েন্দা পুলিশ মাদকটি প্রবেশে কঠোর হবে। একেএম হাফিজ আক্তার জানান, আইস বিত্তবান ও তাদের বখাটে সন্তানরা নিয়ে থাকে।

মূলত সিসা লাউঞ্জে সিসা সেবনকারীরা এসব মাদক নিয়ে থাকেন। আইস অত্যন্ত মারাত্মক উত্তেজনাকর ও ব্যয়বহুল মাদক। এটি গ্রহণে হরমোন উত্তেজনা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, লকডাউনের কারণে অনেকদিন ধরে তাদের মাদক ব্যবসা মন্দা ছিল। লকডাউন শেষে তারা অত্যাধুনিক মাদক আইস ও ইয়াবা ট্যাবলেট কক্সবাজার থেকে কিনে চট্টগ্রাম নিয়ে আসে। মোংলা বন্দর অভিমুখী এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বহন করা একটি বড় ট্রাকের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার মাদক কুমিল্লায় নিয়ে আসে। এরপর প্রাইভেটকারযোগে এগুলো ঢাকায় প্রবেশ করে। মঙ্গলবার গভীররাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকা হতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তিনি জানান, পাঁচ গ্রাম আইসের বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। জব্দকৃত আইসের মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। আর ৬৩ হাজার ইয়াবার মূল্য প্রায় এক কোটি।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই চক্রটি কতদিন ধরে কাজ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ আক্তার জানান, ইতোমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে অনেকবার এই উচ্চমানের মাদকসহ অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। আমরাও এই চক্রটিকে গ্রেফতার করেছি। রিমান্ডে নিয়ে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারব, তারা কতদিন ধরে কাজ করে। আর যারা ইয়াবা ব্যবসা করে তারাই আইসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে জানান তিনি। আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, আইস খুব অল্প পরিমাণ সেবন করলে অনেক নেশা হয়। তবে অনেক এক্সপেন্সিভ। তাই এটি বাংলাদেশে তেমন দেখা যায় না। ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা এসব অভিজাত এলাকায় এই মাদক সেবনের পরিমাণ বেশি। এই মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। ডিবির প্রধান জানান, মঙ্গলবার আরেকটি অভিযানে মিরপুর গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে ইয়াবাসহ মোছাঃ রাশিদা বেগম ও মোছাঃ মৌসুমি আক্তার।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পরিচালনাকারী ডিবির উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মিরপুর ও মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা হয়েছে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজধানীর একাধিক থানায় মামলা রয়েছে। এখন কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে মাদক চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার পর সরবরাহকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, এক গ্রাম আইস দিয়ে কয়েক শ’ ইয়াবা বড়ি তৈরি করা সম্ভব। ডিএমপির গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমানের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মাহবুবুল হক সজীবের তত্ত্বাবধানে, গুলশান জোনাল টিমের টিম লিডার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) দেবাশীষ কর্মকারের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয় বলেও জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত