প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে স্টার্ট-আপ বিনিয়োগ ৮১ শতাংশ হ্রাস

রাশিদ রিয়াজ : ইউএনডিটির এক সমীক্ষায় বলা হচ্ছে ২০১৯ সালের মার্চের সঙ্গে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এধরনের বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে। এর মূল কারণ কোভিড মহামারী। নীতি আয়োগ বলেন ৮৫ শতাংশ তরুণ উদ্যোক্তা মনে করছেন স্টার্ট-আপ বিনিয়োগে এখন নেতিবাচক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এবং মহামারী তাদের ব্যবসা বলতে গেলে শেষ করে দিয়েছে। ইমপ্যাক্ট অব কোভিড অন ইয়োথ-লেড সোশ্যাল এন্ট্রেপ্রেনারশিপ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সারা ভারতে সহস্রাধিক তরুণ উদ্যোক্তা স্টার্ট-আপ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। সমীক্ষায় তারা ছাড়াও এ খাতের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে অন্তত ৬০ শতাংশ উদ্যোক্তা বলছে তাদের ব্যবসায় কোভিড মহামারী ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। ২৫ শতাংশ বলছেন মাঝারি ধরনের প্রভাবের কথা। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন তারা মহামারীর কারণে তাদের পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাতেই পারছেন না। শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন হয় বলে সেবা, খুচরা, পর্যটন বা অপ্রয়োজনীয় সেবার ক্ষেত্রেও মহামারী প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে লকডাউনের কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও তহবিলের ঘাটতিও ব্যবসা মন্দার আরেক কারণ। স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তারা কোনো রকমে টিকে থাকতে তাই অনলাইনের আশ্রয় নিয়েছেন। দি প্রিন্ট

তবে তরুণ উদ্যোক্তার অধিকাংশই আশাবাদী তারা ফের তাদের ব্যবসা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। মহামারী পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তারা ফের বিনিয়োগে নজর দেবেন। গত বছর মার্চে ভারতে স্টার্ট-আপ শুণ্য দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। যা এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮১.১ শতাংশ হ্রাস পায়। সংখ্যার দিক থেকে অর্ধেকে নেমে এসে স্টার্ট-আপগুলোর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৯টিতে। তবে গত বছর শেষ দিকে বিনিয়োগকারীরা ফের তাদের ব্যবসায় নজর দিতে শুরু করেন। কিন্তু তাদের বিনিয়োগের পরিমান আগের তুলনায় কমে যায় ৩০ শতাংশ। বিশেষ করে পর্যটন খাত সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খায়। এছাড়া স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, ফিনটেক, শিক্ষা প্রযুক্তি ও ওটিটি প্লাটফরমগুলো তাদের ব্যবসা অনলাইন নির্ভর করে তোলে। সমীক্ষায় অংশ নেন এমন ১৬ শতাংশই বলছেন কোনো রকমে তারা ব্যবসা গত বছর টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন। এছাড়া ব্যবসা পুনরুদ্ধারের দিকে বেশি নজর ছিল বলে লাভ করার বিষয়টি রীতিমত এক চ্যালেঞ্জ ছিল। এতকিছুর পরও ৫৬ শতাংশ বলছেন তারা আগামী তিন বছরে একটা স্থিতিশীল আয়ের ওপর দাঁড়াতে পারবেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে মানসিক চাপ রয়েছে কারণ তারা মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা টিকে থাকতে পারবেন। তবে ২৫ শতাংশ উদ্যোক্তার আশঙ্কা তা সম্ভব হবে না। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প উদ্ভাবন ও অবকাঠামো, স্বাস্থ্য সেবা ও আবহাওয়া খাতে সামাজিক উদ্যোক্তারা বেশ ভালভাবেই কাজ করছেন। গত বছর পর্যন্ত এসব খাতে স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৩১৭টি। মহামারীর কারণে ক্রমাগত একধরনের অনিশ্চয়তা এসব তরুণ উদ্যোক্তার মনে ভর করেছে। ইউএনডিপি ইন্ডিয়ার উপ আবাসিক প্রতিনিধি নাদিয়া রাশিদ বলেন ক্রেতা হ্রাস, মানব সম্পদ হ্রাসের মত বিষয়গুলো এসব তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত