প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ষার মৌসুমে মাছ শিকারের সরঞ্জাম বিক্রির জমজমাট হাট

তৌহিদুর রহমান : [২]জেলার নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলায় মেঘনা ও তিতাস নদীর আঁকাবাঁকা পথ ধরে রয়েছে নদীর শাখা-প্রশাখা। বর্ষার এই মৌসুমে নদীকূল ঘেঁষা মানুষেরা অন্য পেশার কাজকর্ম না থাকায় খাল-বিলে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত থাকে। পানির প্রবাহ বাড়ার সাথে সাথে দেশি প্রজাতির মাছের বিচরণ বৃদ্ধি পায়। আর মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত চাঁই, আইডা, গোলচাঁই এসব পণ্যের হাট কোথায় সপ্তাহে দু’দিন আবারও কোথায়ও সপ্তাহে তিন দিন বসার রেওয়াজ রয়েছে।

[৩] সরেজমিনে জানা যায়, পুঁটি, কই, বাঈম, বাইলা, ছোট চিংড়িসহ দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ শিকারের কাজে বাঁশের তৈরি চাঁই, আইডা, গোলচাঁই এসব পণ্যের বেচাঁকেনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এরমর্ধ্যে বাঁশের শলা দিয়ে তৈরি মাছে ধরার এ ফাঁদের নাম চাঁই। গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার সবচেয়ে আদি উপকরণের মধ্যে একটি হচ্ছে বাঁশের চাঁই। পেশাদার মাছ শিকারী থেকে শুরু করে সৌখিন শিকারীরা পর্যন্ত কিনে নিচ্ছে মাছ ধরার এসব সরঞ্জাম। ভরা বর্ষাতে মৌসুমে নদী-নালা ও জমিতে প্রয়োজনীয় পানি থাকায় নিপুণ হাতের তৈরি বাঁশ-বেতের মাছ শিকারে কাজে ব্যবহৃত এসব সরঞ্জাম চাহিদা থাকে কয়েকগুণ বেশি।

[৪] বিক্রেতা মিলন মিয়া বলেন, আমাদের বাড়ি গৃহিণী ও চুক্তিভিওিক গ্রামের মহিলারা বাঁশ থেকে কয়েক ভাবে পাতলা বেত বের করে এসব মাছ ধরার সরঞ্জাম তৈরি করে থাকেন। একাজে পরিবারের অন্য সদস্যরা সহযোগিতা করেন। প্রকারভেদে বিক্রি হয় গড়ে ২শ’ থেকে ৬শ’ টাকায়।

[৫] আরেক বিক্রেতা সমীর দাস বলেন,মাছ ধরার এসব সরঞ্জাম আকার ও গুণগত মানভেদে বিক্রি হয় বিভিন্ন দামে। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে বাঁশ-বেতের তৈরি মাছ শিকারের এসব সামগ্রী বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। তবে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মত এখন লাভ হয়না। তবু বছরের এই মৌসুমে বিক্রি বেশি থাকায় মোটামুটি খেয়ে-পড়ে চলতে পারি ভালভাবে।

[৬] বাজারে মাছ শিকারী কুদ্দুস মিয়া বলেন, নাসিরনগর, নবীনগর, সরাইল ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হাওরের এলাকার আমরা যারা বসবাস করি, তাদের অন্য কোন পেশায় সুযোগ কম থাকে। তাই খাল-বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। তাই মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত এসব বাঁশের তৈরি চাঁই, আইডা, গোলচাঁই এসব সরঞ্জাম কিনতে আমরা বাজারে আসি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত