প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিফুল হাসান: দুঃসময়ে পরস্পর পরস্পরের পাশে দাঁড়ান, সহযোগিতা করুন, আপনিও ভালো থাকবেন

শরিফুল হাসান: কঠোর, সীমিত, বেশি কঠোর যেই নামই দেন না কেন লকডাউন শেষ। নিশ্চয়ই এখন থেকে পথে ঘাটে প্রচুর লোকজন বের হবেন। আপনাদের কাছে শুধু অনুরোধ, বের হন কিন্তু সর্ব্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের হইয়েন। মাস্ক তো অবশ্যই পারলে ডাবল মাস্ক পরে বের হবেন। যতোটা সম্ভব জনসমাগম বা ভিড় এড়িয়ে চলবেন। মনে রাখবেন আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনাকেই সবার আগে নিতে হবে। কারণ আপনার কিছু হলে আপনার স্বজনরা ছাড়া বাকি খুব বেশি মানুষে কিছু যাবে আসবে না। কাজেই সতর্ক থাকুন। কারণ ১০ আগস্টও রেকর্ডসংখ্যক ২৬৪ জন মারা গেছেন।

নতুন করে কথাগুলো ফের বলছি, কারণ আজ থেকে অফিস, ব্যাংক, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট ও গণপরিবহনসহ প্রায় সব কিছু খুলে দেওয়া হচ্ছে। মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এতোদিন বাস, ট্রেন, লঞ্চে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করতে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার আর সেই বিধিনিষেধও থাকছে না। আপনারা সবাই জানেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এপ্রিল থেকে কমবেশি লকডাউন চলছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে প্রথম দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালন করা হয়। এ সময় সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে আবার সর্বাত্মক বিধিনিষেধ চালু করা হয়, যা ১১ আগস্ট শেষ হয়েছে।

এই লকডাউন কতোটা সফল হয়েছে সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে আবার আজ থেকে সব খুলছে তা নিয়েও বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু আর কতোদিন লকডাউন রাখবেন? আবার এখন থেকে যেখানে সবকিছু খুলতে যাচ্ছে সেখানে ১০ আগস্টও রেকর্ডসংখ্যক ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি দেশে এক দিনে করোনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা। শনাক্ত এখনো ১১ হাজারের বেশি। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে ফের অনুরোধ করছি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হন কিন্তু প্লিজ স্বাস্থ্যবিধিগুলো যতোটা সম্ভব মানবেন। মাস্ক পরা, হাত ধোঁয়া, দূরত্ব বজায় রাখা সবই করতে হবে। আপনার আশেপাশে মাস্ক ছাড়া কেউ থাকলে তাকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলুন। আমাদের সবাই সবাইকে সহযোগিতা করেই এগোতে হবে। শেষ কথা বলছি ভুটানের একটা উদাহরণ দিয়ে। নানা কারণেই দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি আমার খুব পছন্দের। সেখানকার মানুষ যে অর্থের চেয়ে উন্নয়নের চেয়ে সুখকে বেশি গুরুত্ব দেয় সেটা আমার ভীষণ ভালো লাগে।

…অনলাইনে একটা আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভুটানের একজন প্রতিনিধি বলছিলেন, কোভিডের এই সংকটকালে ভুটানের মানুষ যেভাবে পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েছে সেটা গর্বের। এই সংকটে যাদের অর্থ ছিল তারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে যাদের অর্থ নেই। যাদের চাকরি নেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা যাদের চাকরি আছে। রাষ্ট্রকে সবাই সহযোগিতা করেছেন। নিজেদের টাকা রাজার কাছে দিয়ে এসেছেন মানুষের জন্য। রাষ্ট্রও সবার পাশে থেকেছে। কথাগুলো খুব মন ছুঁয়ে গেছে। বহুবছর ধরে এই কথাগুলোই বলে আসছি। পরস্পর পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া এই মহামারিতে আর কোনো বিকল্প নেই। চলুন এবার পথে নামি। তবে সতর্কভাবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে। উপরওয়ালা আমাদের সবাইকে ভালো রাখুন। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত