প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফাইজা আরুশা এম রহমান: মা হিসেবে সবার আগে সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বানানোর আগে কাজের ‘বেসিক স্কিল’গুলো শেখানোর চেষ্টা করুন

ফাইজা আরুশা এম রহমান: ইংরেজিতে ‘কেয়ারিং’ আর ‘কেয়ার নাওয়ার’ অর্থ মোটামুটি একহলেও আমাদের সমাজে এটা সম্পূর্ণ আলাদা অর্থ বহন করে। আপনি এই ব্যাপারটা তখন বুঝবেন যখন আপনার বাসায় মা অসুস্থ হবেন। আপনার বাসায় কেউ অসুস্থ হলে কারো টেনশন করতে হবে না, কারণ পরিবারে একজন আছে সবার সেবা করার। কিন্তু এই মানুষটা যখন অসুস্থ হবে আপনি দেখবেন সবাই গলা ছিলে ফেলবে ‘রেস্ট নাও’ ‘রেস্ট নাও’ বলতে বলতে। এটা মূলত ‘কেয়ারিং’। মনোভাবের ফল। কিন্তু তার ভাগের কাজগুলো কে করে দিলে, তার ‘রেস্ট নাওয়ার’ ব্যাপারটা আসলেও ঘটবে এটাকে বলে ‘কেয়ার নাওয়া’। আপনি খেয়াল করে দেখেন আপনার পরিবারে কারজন্মদিন হলে আয়োজনের কথা মানুষটাকে বলতে হচ্ছে না। অথচ তার জন্মদিনে আপনার বড়জোর কন্ট্রিবিউশন হট কেক থেকে আনা একটা কেক এবং হাস্যকর হলেও সত্য বাকি আয়োজনটুকুও আপনি চান উনিই করুক। এখন একটা শ্রেণী খুব চড়া গলায় প্রতিবাদ করবে- ‘রান্না আমি কেন করবো? বাচ্চার ন্যাপি বদলানো তো পুরুষদের কাজ না! কাপড় আমাকে কেন ভাঁজ করা লাগবে? তাহলে তুমি বাসায় করোটা কী’?

আরেকটা শ্রেণী খুব নিরীহ ভঙ্গিতে আত্মসমর্পণ করবেÑ ‘আমি তো এসব কখনো করি নাই, আমার মা আমাকে কখনো শেখায়নি, আমি কীভাবে করবো’। তোমাকে সিগারেট খাওয়াও তোমার বাপ শিখায়ে দেয় নাই, তাও তো তুমি খাও! তোমার বাসায় যে মেয়েটা নতুন বিয়ে করে আসছে, সেও কখনো নিজের বাপের বাড়িতে ১২টার আগে ঘুম থেকে উঠে নাই। এখন তো সে তোমাকে ঠিকরান্না করে খাওয়াচ্ছে। এখন আপনি যদি ‘আমি তো কামাই করি’ বলে চিৎকার করেন তবে এই কথাটাও সত্যি উনি ঘর না সামলালে আপনার কামাইতে কোন লাভ হতো না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, উনি আপনার চেয়ে বেশি কামাই করলেও আপনার মন মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হত না!

সবকিছু শিখে পরে আসতে হয় না। সবকিছুতে সবার অভিজ্ঞতাও থাকা লাগে না এবং তার দরকার নাই। কিন্তু সাহায্য করার মানসিকতা নিয়ে প্রয়োজনে শিখে নাওয়ার মতো বিবেক বুদ্ধি থাকা সবার জন্যই বাধ্যতামূলক। কারণ আপনি হয়তো জানেন না, আপনার কাজের পারদর্শিতা উনার প্রয়োজন নয়, উনার প্রয়োজন আপনার সাহায্য করার মনমানসিকতা। কষ্টকর হচ্ছে আমাদের ‘চার বিয়ে সুন্নত’ হাদিসের নিচে চাপে পরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে বকে সাহায্য করাও যে সুন্নত এটা বুঝাতে যাওয়া হাস্যকর। যেখানে এক বউয়ের প্রতি দায়িত্বে পালন করতেই তাদের পুরুষত্বে এত্ত আঘাত পরে সেখানে চার বয়ের প্রতি অবিচার করলে তার জবাবদিহিতা কতো বড় হতে পারে এসব ব্যাপার তাদের ভাবায় না। তারা শুধু পারবে ‘রেস্ট নাও’ বলে চিৎকার করতেই। এখন তাদের ‘তাইলে তুমি এই কাজটা করে দাও’। বলে দেখেন আপনার পুরা চৌদ্দগোষ্ঠির স্লাইডশো এনে দেখায় দেবে এসব তাদের কাজ না। তাই মা হিসাবে সবার আগে সন্তানকে ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার বানানোর আগে কাজের ব্যাসিক স্কিলগুলো শেখানোর চেষ্টা করুন। তবে তার আগে কাজকে কাজ হিসাবে শেখান, জেন্ডার ডেস্ক্রিমিনিশনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়। নয়তো সারাজীবন আপনার জীবনে তার সর্বোচ্চ কন্ট্রিবিউশন থাকবে একটা ‘জন্মদিনের কেক’ আর আপনার অসুখে ‘মা, রেস্ট নাও। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত