প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেহেদী জাকিরুল: নিঃসঙ্গ মানুষের ক্রন্দন

মেহেদী জাকিরুল: নিঃসঙ্গ মানুষের ক্রন্দন যেনো নিঃশব্দে এক একটি নিউক্লিয়াস বোমা সদৃশ! চুরমার হয়ে যায় হ্নদয়ের স্পন্দন! নিঃসঙ্গতা কুঁড়ে খায় প্রতি নিঃশ্বাসে! কষ্টের অনুভূতি প্রকাশের স্পেস সম্পুর্ন সীমিত! কে শুনবে উদগ্রীব হয়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির জীবনের গল্প? কার এমন সময় আছে যৌবনপোড়া মরাকাঠের অঙ্গারের ভস্ম নিভাবে?সময়ের কাছে অসহায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হীন মানুষটি একজন অবসর যাপিত স্বপ্নের অধিকারী!

আমি একজন সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দ্বিতীয় কনিষ্ঠ সন্তান! জীবন জীবিকার তাগিদে আমার বড়ো ভাই বোন গুলো যখন পেশাগত লক্ষ্যে এগিয়ে গেছে দেশান্তরীত হয়ে, তখন আমার বৃদ্ধ বাবা আমাকে হাতে নিয়ে কাটিয়েছেন জীবনের শেষ সময় টুকু! তারুণ্যের দুরন্তপনায় আমি যখন বাধা হীন হতে চাই, তখন হুংকার শুনিয়ে সামনে এগুতেন এক কাগজের বাঘ! যুবক বয়সে তিনি ছিলেন সত্যি তেজস্বী একজন পুরুষ!

বাবার জীবন ঘনিষ্ঠ সময় গুলো কাছ থেকে দেখে, তখন আমার কাছে মনে হতো এ এক বিশাল যন্ত্রণা! আমার ১৬ বছরের সময় টুকুতে আমি যখন কলেজ স্টুডেন্ট, তখন চাইতাম একটু মুক্ত বিচরণ, কিন্তু সে সুযোগ কেড়ে নিয়ে বাবা চাইতেন ঠুনকো কারণে আমাকে বসিয়ে রাখতেন ওনার সামনে! আসলে এখন বুঝি অবসর জীবনে নিঃসঙ্গতা কাটাতে ভিন্ন কৌশলে আমার সঙ্গ চাইতেন! কখনো কখনো জুড়ে দিতেন দেশ বিদেশের অভিজ্ঞতা লব্ধ গল্প! ঐসময়ে আসলে তিনি অপরাপর সন্তানদের না ছোঁয়া পাওয়ায় আমাকে কাছে বসিয়ে উঞ্চতা অনুভব করতেন!

আমি ও এখন একজন পিতা! বয়োঃবৃদ্ধ না হলেও প্রবাসের একাকীত্ব আমাকে টেনে নিয়ে যায় আমার দুই সন্তানের কাছে! তাদের ছোঁয়া না পেলেও দিনে কয়েকবার ভিডিও কলে অথবা অডিও কলে তাদের কন্ঠের ফিসফিসানি শুনতে পাগলপারা হয়ে যায়! অনেক সময় তাঁরা অনলাইনে ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত থাকে, আমার পীড়াদায়ক যন্ত্রণায় বিরক্ত হয়!

এখন আমার মনে হয়, কেনো আমার বাবা আমাকে নিয়ে এমনটি করতেন ওনার অবসরে!

সব সন্তানের উচিৎ ব্যস্ততার মাঝেও বাবা মা কে ঘনঘন সাক্ষাৎ দেওয়া! আর দিনে রাতে তাদের সাথে বসে ফেলে আসা দিনে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া! ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত