প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লোকালয়ে আতঙ্ক, সিলেটের বনাঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসছে প্রাণিকুল

নিউজ ডেস্ক: করোনাকালে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পট ও বনাঞ্চল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে চলে আসছে অনেক বন্যপ্রাণী। আতঙ্কিত হয়ে লোকজন সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী মেরে ফেলছে। তবে সচেতন অনেকেই বিপন্ন প্রাণী দেখলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে খবর দেন। পরে সংস্থার লোকজন প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সেগুলোকে বনে ছেড়ে দেন। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ছাড়াও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং স্ট্যান্ড ফর আওয়ার এনডেঞ্জার্ড ওয়াইল্ডলাইফ টিম (সিউ) বিপন্ন প্রাণী উদ্ধারে কাজ করছে।

কেউ কেউ বলছেন, করোনাকালে লোকজনের চলাচল কমে যাওয়ায় অস্বাভাবিক নীরবতার কারণে বন্যপ্রাণীরা সাহস পেয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আবার বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিপন্ন পরিবেশ ও খাবার সংকটে লোকালয়ে ভিড় করছে প্রাণীরা। তারা বলেন, এ সমস্যা মেটাতে বনে নিরাপদ অভায়াশ্রম সৃষ্টি করতে হবে, খাদ্য সংকট দূর করতে হবে।

সূত্র মতে, বিগত জুন-জুলাই মাসে শ্রীমঙ্গল শহর ও শহরতলি থেকে ২০টিরও বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে কয়েক প্রজাতির সাপ, মেছোবাঘ, বনরুই, গুঁইসাপ, বানর, এমনকি চিত্রা হরিণ শাবকও ছিল। গত মাসের শেষ সপ্তাহে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সুরভীপাড়া আবাসিক এলাকা থেকে ১২ হাত লম্বা একটি অজগরকে পুকুরে সাঁতার কাটতে দেখে স্থানীয় যুবকেরা সাপটি ধরে থানায় নিয়ে আসে। পরে বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের লোকজন থানা থেকে সাপটিকে বনে নিয়ে অবমুক্ত করেন। একইভাবে কালাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বড়বাড়িতে একটি গুইসাপ ও এর এক সপ্তাহ আগে শহরের একটি দোকান থেকে আরো একটি সাপ উদ্ধার করা হয়।

‘শহরে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা বেড়ে গেছে। হাটবাজার, কাঠালের গাড়ি, লেবুর জিপ, কৃষি জমি, কৃষকের বাড়িতে এখন বন্যপ্রাণী ধরা পড়ছে’—এ কথা জানালেন বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল। তিনি জানান, এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে অনেক হিংস্র ও বিষাক্ত প্রাণীর আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, বনে প্রাণীর খাদ্যের উত্স কমে গেছে। খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে প্রাণীরা। শহরের কাছেই রিজার্ভ ফরেস্ট ও চা- বাগান। তাই সহজে এসব প্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।

এদিকে এলাকার হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত প্রতিষেধক ইনজেকশন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বিষাক্ত সাপের কামড়ে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে সিলেটের খাদিম, লাক্কাতুড়া চা-বাগান, জাফলং, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও ভাটির জনপদে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার হাসপাতালগুলোতে প্রতিষেধক ইনজেকশন মজুত রাখা জরুরি। স্থানীয়রা জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে গত এক মাসে ১৩টি বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়। গত ২৯ জুলাই শ্রীমঙ্গলের রাজাপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের বাড়িতে একটি গুইসাপ, ২৭ জুলাই শ্রীমঙ্গলের নয়াগাঁও-আখতারপাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার সবজিখেতের জালে একটি দাঁড়াশ সাপ ধরা পড়ে। ২৪ জুলাই শ্রীমঙ্গল শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে একটি বাদামি বানর মারা যায়। ২৩ জুলাই ডলুবাড়ি এলাকার একটি প্রসাধনীর দোকান থেকে একটি দাঁড়াশ সাপ উদ্ধার হয়। ১৮ জুলাই জেরিন চা-বাগানের বিষামনি এলাকার একটি বাড়ি থেকে বিভিন্ন জাতের পাঁচটি সাপ উদ্ধার করা হয়। জীবিত তিনটি সাপের মধ্যে ছিল দুটি দাঁড়াশ ও একটি কালনাগিনী। ১৭ জুলাই শ্রীমঙ্গলের নোয়াগাঁওয়ের ধানখেত থেকে অসুস্থ একটি মেছো বাঘ উদ্ধার করে বাঘটিকে চিকিত্সা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়। ১৪ জুলাই কমলগঞ্জ উপজেলার তিলকপুর গ্রামের পদ্মমোহন সিংহের বাড়ি থেকে ১৫টি ডিমসহ একটি খৈয়া গোখরা সাপ উদ্ধার হয়। সূত্র ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত