প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হিন্দুদের চিতাভস্ম এবার যুক্তরাজ্যের নদীতেও ভাসানো যাবে

বিশ্বজিৎ দত্ত: [২] অন্ত্যেষ্টির পর চিতাভস্ম নদীতে ভাসিয়ে দেওয়াই হিন্দু ধর্মে রীতি। ধর্মীয় বিশ্বাস, অস্থি বিসর্জনের মাধ্যমে আত্মার শান্তি মেলে। পাশাপাশি প্রশস্ত হয় পুনর্জন্মের পথ। এভাবেই সান্ত্বনা খুঁজে পায় শোকাতুর পরিবার। কিন্তু তার জন্য দেশে ফেরার অপেক্ষা করাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছিল ব্রিটেনের ওয়েলসে বসবাসকারী হিন্দু ও শিখদের। সেই অপেক্ষার অবসান হল সম্প্রতি। দুই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি ও আবেগকে সম্মান জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে। সূত্র বর্তমান

[৩] অস্থি বিসর্জনের জন্য কার্ডিফের ল্যানডাফ রোয়িং ক্লাবে টাফ নদীর ধারে জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনাও হয়েছে তার। অন্ত্যেষ্টিতে প্রচলিত ধর্মীয় রীতি পালনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে সেখানে। অর্থাৎ, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর অস্থি আগলে কয়েক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আর দেশে আসতে হবে না।

[৪] প্রিয়জনকে চিরতরে হারানো যেমন অসীম দুঃখের, তেমনই শেষকৃত্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর সঙ্গে মিশে থাকে অনেক আবেগ, সংস্কার। একসময় ব্রিটেনের অনাবাসী হিন্দু ও শিখরা তাঁদের প্রিয়জনের মৃত্যু হলে শেষকৃত্যের পর চিতাভস্ম নিজের ঘরেই আগলে রাখতেন। তার পর সময় সুযোগ করে সেই অস্থি নিয়ে ফিরতেন মাতৃভূমিতে। ভাসিয়ে দিতেন গঙ্গা বা যমুনায়। কিন্তু দিন বদলেছে। বদলেছে মানসিকতাও। বর্তমান প্রজন্মও প্রিয়জনের অস্থি ভাসাতে দেশে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকতে চান না। তাঁরা চান, যে মাটিতে তাঁর নিকটজনের শেষ নিঃশ্বাস পড়েছে, সেখানেই কোনও নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হোক তাঁর চিতাভস্ম। কিন্তু বাধ সাধছিল আইন। অবশেষে সেই গেরো কাটল।

[৫] প্রায় এক দশক আগে এনিয়ে দাবি ওঠে ওয়েলসে। হিন্দু ও শিখরা মিলে গঠন করে ‘অন্তিম সংস্কার গ্রুপ ওয়েলস’ নামে একটি কমিটি। লক্ষ্য ছিল, কার্ডিফ কাউন্সিলের কাছ থেকে দাবি আদায়। যাতে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টাফ নদীতে মৃত প্রিয়জনের অস্থি বিসর্জন করা যায়। কিন্তু পথটা মোটেই মসৃণ ছিল না। দীর্ঘ সময়ে বারবারই হোঁচট খেতে হয়েছে। কিন্তু হাল ছাড়েনি এই সংগঠন। অবশেষে প্রশাসনের সম্মতি মেলায় গত বছরের জুলাইয়ে ভূমি পুজোর মাধ্যমে জায়গাটি পবিত্র করা হয়।

[৬] সম্প্রতি অস্থি বিসর্জনস্থলের সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কার্ডিফের মেয়র চ্যান্সেলর লর্ড ম্যাককারলিচ, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড, লিডার অব কার্ডিফ কাউন্সিল হিউ থমাস, চ্যান্সেলর মিচেল মিচেল, চ্যান্সেলর কানাইয়া সিং, ল্যানডাফ রোয়িং ক্লাবের চেয়ারম্যান ট্রিভর উইং, ভারতীয় দূতাবাসের পদস্থ আধিকারিক রাজ আগরওয়াল, ওয়েলসে শিখ কাউন্সিলের শীর্ষ পদাধিকারী গুরমিত রনধাওয়া সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত