প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোংলায় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা

নিউজ ডেস্ক: দেশের দক্ষিণ-পূর্বের জেলা কক্সবাজারের মহেশখালীর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাটের মোংলায় এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ফলাফল ইতিবাচক হলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলায় নির্মিত হবে নতুন এলএনজি টার্মিনাল। এর ফলে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। গতি বাড়বে শিল্প-উত্পাদনে। ওই অঞ্চলে নির্মানাধীন ও নির্মিতব্য অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে।

গত জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে জ্তালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সভায় নতুন এ এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে ২০৩১-৩২ সালের মধ্যে দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সমতুল্য এলএনজি আমদানি করার পরিকল্পনাও আলোচিত হয়।

বর্তমানে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুইটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট-এফএসআরইউ) রয়েছে। এর একটির মালিকানায় রয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব সংস্থা পেট্রোবাংলা। অপরটির মালিকানা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিটের। দুইটি টার্মিনালই পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। প্রতিটি টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতা দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। পাইপলাইনের মাধ্যমে এই রূপান্তরিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। দেশীয় খনিগুলো থেকে উত্তোলিত গ্যাসের সঙ্গে মিশিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করতে পারছে না দুইটি এফএসআরইউ।

জ্তালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের চেয়ে স্থলভাগে টার্মিনাল নির্মাণ অপেক্ষাকৃত সহজ এবং সময় কম লাগে। আগের দুইটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে নানা জটিলতা এবং সময়ক্ষেপনের কারণে নতুন করে ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ না করে পরবর্তী সকল টার্মিনাল স্থলভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল ২০১৯ সালে। জুলাইয়ের ওই সভায় আগের সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করে মহেশখালীতে আরেকটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ করা যায় কিনা তা যাচাই করতে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলার প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সাল নাগাদ দেশে এলএনজি আমদানির পরিমান দৈনিক ২৩৫ কোটি ঘনফুটে পৌঁছবে। বিশ্ববাজারে এলএনজি একটি ব্যয়বহুল জ্তালানি। কিন্তু দেশে একদিকে গ্যাসের চাহিদা কমছে অন্যদিকে প্রমাণিত মজুদ কমছে। এমন প্রেক্ষাপটে এলএনজি আমদানি বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন গ্যাস খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন একটি বড় সমাধান। কিন্তু পরিবেশ ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এ দুইয়ের সমন্বয় করে জ্তালানি চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে।

জ্তালানি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, আমদানিনির্ভর কয়লা ও এলএনজিতে ভর না করে দেশে গ্যাস-খনিজ অনুসন্ধানে জোর দেয়া উচিত। সেটি বেশি টেকসই ও সাশ্রয়ী হবে। এলএনজি নির্ভরতা গ্যাসের দাম গ্রাহকের নাগালের বাইরে নিয়ে যাবে। দেশের সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও শূণ্যের ঘরে। স্থলভাগেও সম্ভাবনাময় এলাকায় এখনও অনুসন্ধান বাকি রয়েছে। এমন অবস্থায় গ্যাসের দেশীয় উত্স খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন তারা। সূত্র: ইত্তেফাক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত