প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি

মাসুম বিল্লাহ: [১] হেরাত, লস্কর গাহ ও কান্দাহার প্রদেশের স্ব স্ব রাজধানী হেরাত, লস্কর গাহ ও কান্দাহার শহরে সংঘর্ষ অব্যাহত আছে। হেরাতের প্রাদেশিক গভর্নর আব্দুল সবুর কেন বলেছেন (১ আগস্ট) যে, এএনডিএসএফ’র বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে ২০০ র বেশি তালেবান নিহত হয়েছে। তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, হেরাত শহর রক্ষায় সাবেক মুজাহিদীন নেতা ইসমাইল খান এএনডিএসএফ’র সঙ্গে মিলে একত্রে লড়াই করতে মিলিশিয়া যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কান্দাহারে তালেবানরা (৩১ জুলাই-১ আগস্ট) বিমানবন্দরে ৩টি রকেট হামলা চালিয়েছে, এতে রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যদিও রানওয়ে পুণরায় মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। জঙ্গীরা দাবি করেছে এএনডিএসএফের বিমান হামলা ঠেকাতেই তারা এই হামলা চালিয়েছে। লস্কর গাহে প্রাদেশিক গভর্নরের বাসভবনের ২০০ মিটারের মধ্যে এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও স্থানীয় এনডিএফ অফিসের কাছে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এইসব হামলা প্রসঙ্গে এএনডিএসএফ’র মুখপাত্র জেনারেল ওমর শিনওয়ারি বলেছেন যে, (১ আগস্ট) তিনটি শহরেই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরি করা হয়েছে, তিনি নিশ্চিত করেন যে, কোন ধরনের ‘সিরিয়াস সমস্যা’ হবে না।

[২] এরইধ্যে, তালেবানরা দাবি করেছে (১ আগস্ট) তারা হেরাত শহরের উপকণ্ঠ দখল করেছে এবং শহরের কেন্দ্রের দিকে অগ্রহসর হচ্ছে। জঙ্গীরা দাবি করেছে যে, তারা হেরাত প্রদেশের শিনদান্দ বিমান বন্দরে মর্টারের গোলা দিয়ে নিক্ষেপ করছে, এতে এএনডিএসএফ’র ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে।

[৩]  তালেবান রাজনৈতিক কমিশনের সদস্য মুল্লাহ আব্দুল হক ওয়াসিক (দোহা, ৩১ জুলাই) ইউএনএএমএ’র উপপ্রধান স্টেভ ব্রুকিংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং হেরাত শহরের ইউএনএএমএ’র কমপাউন্ডে (৩০ জুলাই) হামলার ব্যাপারে আলোচনা করেন। ওই ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করে ওয়াসিক জাতিসংঘের সব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। পরবর্তীতে টুইটে (১ আগস্ট) ইউএনএএমএ অপরাধীদের জবাবদিহীতার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে এই হামলার ”তদন্ত” করার জন্য তালেবানের প্রতি আহŸান জানিয়েছে।

[৪] প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি (কাবুল, ১ আগস্ট) বলেছেন, যুদ্ধ ক্ষেত্রের পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে তালেবানরা অর্থবহ কোন আলোচনায় সম্পৃক্ত হবে না অথবা শান্তির জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করবে না। তিনি বলেন, তাঁর ”ছয় মাসের পরিকল্পনা” পরিস্থিতি পরিবর্তন করে সরকারের অনুকূলে নিয়ে আসবে। ঘানি আবারো বলেন, আফগানিস্তানে বিদেশি সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির জন্য তালেবানরাই দায়ী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গত দুই দশকে এই জঙ্গীরা আরও বেশি নিষ্ঠুর, নিপীড়ণকারী এবং অনৈসলামিক হয়েছে।

[৫] এরইমধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন (মুলতান, ১ আগস্ট) যে, তালেবানরা দায়েসকে আফগানিস্তানে প্রবেশের ”অনুমতি” দেবে না। অধিকন্তু, আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতা দখল ও সংঘর্ষ আরও তীব্র হওয়ার পর চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) ভবিষ্যৎ কি হবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে কোরেশি নিশ্চয়তার সাথে বলেন, কোন প্রুপই সিপিইসি প্রকল্পের ক্ষতি করতে পারবে না।

[৬]  যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত রোয়া রাহমানী ঘোষণা (১ আগস্ট) দিয়েছেন যে, তিনি আফগান্তিানে ফিরবেন না, কারণ তাঁর জীবন বিপন্ন হবে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবেন। (রাহমানীর বিরুদ্ধে দূতাবাস ভবন নির্মাণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে)।

সর্বাধিক পঠিত