প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনির্বাণ আরিফ: আজ কিংবা আগামীকাল পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমান প্রধান অঞ্চলগুলো চীন দখলে নেবে বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক কৌশল দিয়ে

অনির্বাণ আরিফ: পাকিস্তান বিগত দুই দশকে শক্তিশালী না হয়ে বরাবরই দুর্বল হয়েছে এবং দুনিয়া থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর কারণ পাকিস্তানে উগ্রবাদের বিস্তার এবং রাষ্ট্র কাঠামো সে উগ্রবাদকে আশ্রয়- প্রশয় দান। পাকিস্তানের অপেক্ষাকৃত উদার নেত্রী বেনজির ভুট্টোকে তালেবানরা প্রকাশ্যে হত্যা করার পরপরই মূলত দুনিয়া থেকে পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কেবলমাত্র চীন ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে সেভাবে আন্তঃসম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করার জন্য কোনো দেশ আর আগ্রহী হয়ে ওঠেনি। আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায়নের পরপর থেকেই আফগানিস্তান দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে কেবলমাত্র পাকিস্তান আর চীন ছাড়া সম্ভবত তালেবান সরকারকে কোনো বৃহৎ শক্তিশালী রাষ্ট্র সমর্থন দেবে না। কারণ উগ্র মৌলবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর সঙ্গে উত্তরাধুনিক উদারনৈতিক দুনিয়ার সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে যাবেই।

চীন দক্ষিণ এশিয়ার কর্তৃত্ব হাতে নিতে চায় সেজন্য দরকার বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ, সমুদ্র বন্দরের মালিকানা, ভূমি এবং সাম্রাজ্য বিস্তার। সে লক্ষ্যে চীনের কাছে কোনো ধরনের রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ না। বরং চীন সেইসব দেশের সাথেই মূলত সম্পর্ক তৈরি করতে ইচ্ছুক যেসব দেশের সরকার মূলত কর্তৃত্ববাদী এবং স্বৈরাচারী। কেননা চীনের দরকার অগণতান্ত্রিক কিন্তু স্থিতিশীল পরিবেশ। যেকোনো রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকলে সে রাষ্ট্রে ভিন্নমত থাকে। আলাপ-আলোচনা থাকে। বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে পর্যালোচনা হয়। কিন্তু স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট, একনায়কতন্ত্রিক কিংবা কট্টর ডানপন্থী অথবা বামপন্থীরা ক্ষমতায় থাকলে এইসব কিছু হয় না। বিদেশি বিনিয়োগ হোক আর চুক্তি হোক কিংবা দুই দেশের আন্তঃসম্পর্ক হোক সেসব পর্যালোচনা করার কোনো সুযোগ থাকে না।

পাকিস্তানে চীনা বিনিয়োগ এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে এখন চীন চাইলে তাদের বিনিয়োগ দিয়ে পুরো পাকিস্তান কয়েকবার কিনে নিতে পারে। ইতোমধ্যেই আমরা জেনেছি পাকিস্তানের গোয়েদার বন্দর চীন একরকম নিয়েই নিয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে পাকিস্তানে বহুদলীয় গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি, উগ্রবাদীদের উত্থান এবং রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কারণে। সেখানে সিভিল সোসাইটি দুর্বল হওয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের বৈষম্যমূলক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার মতো সুযোগ নেই।

ঠিক এভাবে ধীরে ধীরে পাকিস্তান রাষ্ট্রটি চীনের এককরম কলোনিতে পরিণত হয়েছে এবং চীন আদতে সেটাই কামনা করেছিলো। ঠিক একই ফর্মূলাতে চীন আফগানিস্তানকে কব্জা করে কলোনি বানাবে যার প্রথম পদক্ষেপ তালেবানকে সাপোর্ট দেওয়া। কারণ চীন জানে তালেবান ক্ষমতায় আসলে সারা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হবে এবং তারা বাধ্য হয়ে চীনের আনুগত্য কিংবা বন্ধুত্ব স্বীকার করে নেবে। কমিউনিজমের বিশেষত চীনা কমিউনিজমের পলিসি অত্যন্ত মারাত্মক। এরা দুনিয়াকে দেখে দখলদারিত্বের চোখ দিয়ে। এরা সরাসরি যুদ্ধে জড়ায় না কিন্তু যুদ্ধের সকল পরিস্থিতি তৈরি করে রাখে। চীনের এমন নিকৃষ্ট পলিসি আর পলিটিক্সের স্বীকার দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানরা অথচ তারা এটা বুঝতেও অপারগ। বলতে বাধ্য হচ্ছি আজ কিংবা আগামীকাল পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমান প্রধান অঞ্চলগুলো চীন দখলে নেবে বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক কৌশল দিয়ে আর দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের এমন মূর্খতার ইতিহাস ইতিহাসে লেখা থাকবে বড়ো করুণ কাহিনি হিসেবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত