প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চীন-তালেবান আলোচনাকে ইতিবাচক দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিদ রিয়াজ : ভারত সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান্থনি ব্লিনকেন তালেবানদের সঙ্গে চীনা নেতাদের আলোচনাকে ইতিবাচক বলেছেন। আফগানিস্তানে তালেবানদের উত্থান ও দেশটিতে যাতে গৃহযুদ্ধ না বাঁধে সেজন্যে সবদেশেরই একটা ভূমিকরা রাখা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন ব্লিনকেন। চীনের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূকৌশলগত অবস্থান যাতে আফগান পরিস্থিতিতে সংকটে না পড়ে সে কারণেই বেইজিং আগেভাগেই আফগান সরকারকে তালেবানদের সঙ্গে তাদের আলোচনার কথা জানিয়ে রেখেছিল। তালেবান প্রতিনিধিদলের চীন সফরের ব্যাপারে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে বেইজিং আফগানিস্তানের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপারে নিজের উদ্বেগের কথা জানাতে তালেবান প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এছাড়া চীন সরকার তালেবানকে তাদের পাশে বিদেশি সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির ব্যাপারে সতর্ক করে দেয় এবং আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানের রাজনৈতিক সংলাপের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে। তালেবান নেতা মোল্লা আব্দুলগনি বারাদারের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি তালেবান প্রতিনিধি বর্তমানে বেইজিং সফর করছে। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে তালেবান প্রতিনিধিদল।

এ সম্পর্কে তালেবানের অন্যতম মুখপাত্র মোহাম্মদ নাঈম জানান, তাদের প্রতিনিধিদল চীনকে এই মর্মে আশ্বস্ত করেছে যে, আফগানিস্তানের মাটি কখনো কোনো দেশে নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না। এর বিপরীতে চীন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কখনো হস্তক্ষেপ করবে না বরং সংকট সমাধান এবং দেশটিতে শান্তি আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। গত ২৮ জুলাই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াই ই তালেবানদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি বলে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন আফগানিস্তানে শান্তি প্রচেষ্টায় তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান্থনি ব্লিনকেন নয়াদিল্লিতে সিএনএন-নিউজ এইট্টিনকে বলেছেন আফগানিস্তানে দ্বন্দ্বের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং একধরনের সরকার গঠনের বিষয়ে প্রত্যেকেরই আগ্রহ রয়েছে যা প্রকৃত প্রতিনিধিত্বমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। চীন যদি সেই স্বার্থের জন্য কাজ করে, যদি অন্য দেশগুলি সেই স্বার্থের জন্য কাজ করে, তবে এটি একটি ইতিবাচক বিষয়। চীন, রাশিয়া, ভারত ও মধ্যএশিয়ার দেশগুলোর এক্ষেত্রে ভূমিকাকে ইতিবাচক বলেন। তিনি বলেন কেউ বা কোনো দেশই চায় না আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হোক। তবে বেইজিংয়ে তালেবানদের সফরের মধ্যে দিয়ে আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীনে ভূমিকা যে প্রত্যক্ষ হয়ে উঠছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে চীন অদূর ভবিষ্যতে এক বিরাট ভূমিকা পালন করবেন বলে তারা মনে করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত