প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লক্ষ্মীপুরে জনবল সংকটে রোগে আক্রান্ত দুই হাসপাতাল

আমজাদ হোসেন: [২] সারা বিশ্ব আজ মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসার আবাসস্থল স্থানীয় সরকারি হাসপাতালগুলো। এ মহামারির সময়ে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, নেই নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নেই। নেই শয্যা, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নেই টেকনিশিয়ান। এমনই সমস্যা আর ‘জনবল সংকট রোগ’ এ আক্রান্ত লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর।

[৩] কমলনগরে ৫০ শয্যার হাসপাতালে চলছে ৩১ শয্যার জনবলে। তাও পুরোপুরি নেই। এদিকে রামগতিতে চার লাখ মানুষের জন্য মাত্র চারজন চিকিৎসক। অন্যান্য পদও শূন্য। করোনার এ সময়ে এমন পরিস্থিতি উদ্বেগ ও হাতাশার। এ অবস্থার উন্নয়ন না হলে এখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। লক্ষ্মীপুরের রামগতি মেঘনাপাড়ের একটি ভাঙন কবলিত উপকূলীয় উপজেলা। এখানে প্রায় ৪ লাখ মানুষের বাস। এখানে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই ভরসা। তবে মোট জনবলের ৬৫ ভাগেরও বেশি পদ শূন্য। উপজেলা সদর আলেকজান্ডারে অবস্থিত ৩১ শয্যার এ হাসপাতালটি চলছে ২০ শয্যা অবকাঠামো দিয়ে। রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন মেডিকেল অফিসারসহ ১৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা কিন্তু রয়েছে মাত্র ৪ জন মেডিকেল অফিসার।

[৪] হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, সার্জারি অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসক পদ এখন পর্যন্ত শূন্য। দীর্ঘদিন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, এক্স-রে টেকনিশিয়ান, অফিস সহকারী, হিসাবরক্ষক, ওয়ার্ডবয়, এমএলএসএস, পিয়ন, সুইপারসহ বিভিন্ন পদ শূন্য। রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্ট্রার থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, প্রতি মাসে এক হাজারেরও বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়ে থাকেন। আউটডোরে চিকিৎসার জন্য আসেন মাসে প্রায় ১০ হাজার রোগী; ৩০ থেকে ৪০ জনের নরমাল ডেলিভারি হয়। রোগীর এত চাপ থাকলেও চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ হাসপাতালে আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের।

[৫] এদিকে কমলনগরে ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আগেই জনবল সংকটে ছিল। ৮ বছর আগে ৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও জনবল বাড়েনি, হয়নি নতুন করে নিয়োগ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মাসে জরুরি বিভাগ থেকে অন্তত ৮ হাজার মানুষ সেবা নেন। ভর্তি হন দুই হাজারেরও বেশি রোগী। ডায়েরিয়া দেখা দিলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয় দ্বিগুণ। হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যার অভাবে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হয়।

[৬] উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৬ জন। এখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকার পাশাপাশি টেকনিশিয়ানের অভাবে এক্স-রে ও ইসিজি চালু করা যাচ্ছে না, এই মিশেনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে প্রসূতিদের জরুরি সেবায় ৪ জন মিডওয়াইফের একজনও নেই। গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় অস্ত্রোপচারও বন্ধ। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, এক্স-রে, প্যাথলজি, ফার্মেসি, ডেন্টাল, এসআই, ইপিআইয়ের ৬টি পদের মধ্যে আছে ২টি। অফিস সহায়ক, আয়া, ওয়ার্ডবয় প্রত্যেক পদে ২ জন করে থাকার কথা থাকলেও আছেন একজন করে। টিকিট কর্মীর দুটি পদ শূন্য আছে। হাসপাতালে হৃদরোগ, হাড়, চক্ষু, চর্ম, প্রসূতি, সার্জারিসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ শূন্য পদে জরুরিভাবে জনবল নিয়োগ প্রয়োজন।

[৭] কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের বলেন, ঘরে ঘরে এখন জ্বর সর্দি-কাশি। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসার একমাত্র ভরসা হওয়া দিন-রাত হাসপাতালে রোগীদের ভিড় বাড়ছে কিন্তু এখানে পর্যাপ্ত জনবল সংকটে ভুগছি।

[৮] রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশিস মজুমদার বলেন, করোনাকালে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।

[৯] লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গফ্ফার বলেন, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত