প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ: মন বা হৃদয় মানে মগজের কাজ, মগজ মৃত মানে মনের বা হৃদয়ের অস্তিত্ব নেই

খান আসাদ: মগজের আছে বিলিয়ন বিলিয়ন নিউরন। এই নিউরন পরস্পরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়, যোগাযোগ করে। জৈববিদ্যুতিক ও একই সাথে জৈবরাসায়নিক উপায়ে। হাত বাড়িয়ে দেওয়া মানে তথ্য দেওয়া। তথ্য লেনদেনের সাথে থাকে আনন্দের, বিষাদের, আগ্রহের, বিরাগের, ভয়, আশা, ঘৃণা কিংবা ভালোবাসা উস্কে দেওয়ার হরমোনের প্রবাহ। এসব আবেগকে আমরা ‘হৃদয়ের’ বলে জানি। তথ্য, জ্ঞান ও হৃদয় বা আবেগ তাই সম্পর্কিত। কারণ নিউরন ও হরমোন সম্পর্কিত জৈবরসায়নে।

মানুষের কোন ‘স্বার্থপর জীন’ বা ‘পরার্থপর জীন’ নেই। মানুষের আত্মবিকাশ ও আত্মসংরক্ষণের প্রবণতা আছে, জীনের মধ্যে, বা বংশগতির মধ্যে, নিউরনের চরিত্রেও, প্রাণী হিসেবে। কিন্তু কীভাবে এই আত্মসংরক্ষণ ও আত্মবিকাশ সম্ভব হবে, এই জ্ঞান ও আবেগ সে পায় পরিবেশ থেকে, শিক্ষা থেকে, সামাজিকায়ন থেকে। যদি সে শেখে যে ‘আপনে বাঁচলে বাপের নাম’, এবং সে এটা বিশ্বাস করে যে ‘প্রতিযোগিতা’ ছাড়া বাঁচা যাবে না, তখন সে ‘স্বার্থপরতা’ ভালো মনে করে। তাঁর ডোপামিন প্রবাহ শুরু হয়। সে সুখী হয়। বিপরীতে, সে যদি শিক্ষা পায় ‘দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’, তাহলে সে আত্মসর্বশ্ব স্বার্থপর না হয়ে,পরার্থপর হবে, ওই একই কারণে, আত্মসংরক্ষণ ও আত্মবিকাশের প্রয়োজনে। বিশ্বাস করবে, প্রতিযোগিতার বদলে সহযোগিতা ভালো।

কিন্তু এই প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার মূল্যবোধের, বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের সামাজিক প্রভাব আছে। এই প্রভাব ভালো ও খারাপ, ন্যায় ও অন্যায়, শান্তি ও সহিংসতা এবং বৈষম্য ও সাম্য ব্যবস্থার তথা অন্য মানুষের জীবনের ও স্বাধীনতার সাথে সম্পর্কিত। প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করলে, সে একা বাঁচতে চায়। ফলে, সে চূড়ান্তভাবে একাই বাঁচে। সে বাঁচার জন্য চুরি, দুর্নীতি, সহিংসতা করতে পারে। কারণ সবকিছুই তাঁর ব্যক্তি-সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য। সে স্বার্থপর বলে তাঁকে নিন্দা করার চেয়ে, বোঝা দরকার, কেন মানুষের আত্মসংরক্ষণের জন্য ‘প্রতিযোগিতায়’ বিশ্বাস করতে হয়? কোন সমাজের প্রেক্ষাপটে? এখানেই পুঁজিবাদ নামক ব্যবস্থাটি মুনাফার জন্য ‘প্রতিযোগিতা’ মন্ত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হোমোসেপিয়ান্স প্রাণি হিসেবে আপনিও আত্মসংরক্ষণ চান, একজন লুটেরা দুর্নীতিবাজ সহিংস লোকও তাই চায়। পার্থক্য নিউরনে, হরমোনে, জীনে বা শরীরে নয়? পার্থক্য বিশ্বাসে, কীভাবে সে আত্মসংরক্ষণ করবে? স্বার্থপরতায় নাকি পরার্থপরতায়? এবারে একটি ভালো সংবাদ দিই। প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতা নিয়ে নিউরোসায়েন্স গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন একসাথে কিছু করে, তাঁদের নিউরন নিজেরা নিজেরাই সমন্বয় বা সমলয়ে (সিনক্রনাইজ) কাজ করে। মানে, আলাদা আলাদা পাঁচজন মানুষ যদি একই বিষয়ে ভাবে তাহলে যে ফল পাওয়া যাবে, তাঁর চেয়ে পাঁচজন যদি একটেবিলে বসে ভাবে তাহলে প্রত্যেকেই অনেক বেশি ওই বিষয়ে পরিষ্কার হবে। কারণ সকলের নিউরন সিনক্রনাইজ করছে, এদের অজান্তেই।

বৈজ্ঞানিক ভাবে না জানলেও, কমনসেন্স দিয়ে কিন্তু আমরা বুঝতে পারি। বিজ্ঞানীরা কনফারেন্স করে কেন? চিন্তা বিনিময়ের জন্য। লেখকেরা আড্ডা দেয় কেন? আরও সৃজনশীল হওয়ার জন্য। ফুটবল খেলোয়াড়রা সবাই গোল হয়ে মাথা লাগিয়ে শপথ নেয় কিসের? ওই টিমস্পিরিটের। মানে, একা একা করার চেয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে করার ফল অনেক অনেক বেশি, ব্যক্তির নিজস্ব সক্ষমতার, সৃজনশীলতার, পারফরমেন্সের বা প্রোডাক্টিভিটির।

একা বড়লোক হতে চাওয়া, দুর্নীতি করা, কিংবা নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় পার্টি ভাঙা, তর্কে জেতার প্রতিযোগিতায় তর্কযুদ্ধ করা, ইত্যাদির বদলে, কোন বিষয় বোঝা বা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে সহযোগিতার মূল্যবোধ নিয়ে এগুলে, সেটা অনেক বেশি উপকারী, নিজের ও অন্যদের সবার আত্মসংরক্ষন ও আত্মবিকাশের জন্য। নিউরোসায়েন্সের সাম্প্রতিক গবেষণা আমাদের এটাই বলছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত