প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৩ আগস্ট গণপূর্তের ৮টি আবাসন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সুজিৎ নন্দী: [২] সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থায় যোগ হচ্ছে ৮টি আবাসন প্রকল্প। ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত করেছে গণপূর্ত অধিদফতর।

[৩] সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রেখে এসব ফ্ল্যাট নির্মিত হয়েছে আজিমপুর, মিরপুর, মতিঝিল, মালিবাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারি জন্য ফ্ল্যাট, জেলা সমন্বিত অফিস ভবন (১০তলা) মাদারীপুর এবং মিরপুর-৬ বস্তিবাসীদেও জন্য ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট প্রকল্প।

[৪] রাজধানীতে বসবাসরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থায় যোগ হচ্ছে আরও ২ হাজার ৪১৬টি ফ্ল্যাট। সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রেখে এসব ফ্ল্যাট নির্মিত হয়েছে আজিমপুর, মিরপুর, মতিঝিল ও মালিবাগ এলাকায়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য ৫৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে।

[৫] আজিমপুর, মিরপুর, মতিঝিল, মালিবাগ প্রকল্পের একেকটি ফ্ল্যাটে রয়েছে ৩টি বেড রুম, ৩টি বাথরুম, ৩টি বারান্দা, কিচেন কেবিনেট, পৃথক ড্রয়িং ও ডাইনিং রুমসহ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। বড় আকারের চারটি প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছে।

[৬] এই প্রথম মিরপুর-৬ বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট প্রকল্পের ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হবে। ফ্ল্যাটে দুইটি বেডরুম, ১টি কিচেন, ড্রয়িং ও একটি বারান্দা থাকছে। বস্তিবাসীদের জন্যই এই প্রকল্পটি তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া সাড়ে ৬ হাজার টাকা। তবে এখানে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দেয়া যাবে।

[৭] গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, ঢাকায় বসবাসরতদের আবাসন ব্যবস্থা ২২ শতাংশে উন্নীত হচ্ছে। এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা বাকি আবাসন প্রকল্পগুলো শেষ হলে তা ২৭ শতাংশ হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা ৪০ ভাগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। সরকার প্রধানের এ অনুশাসন পেয়ে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হাতে নেয় পূর্তমন্ত্রণালয়।

[৮] রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সবচেয়ে বেশি ফ্ল্যাট নির্মিত হয়েছে। সেখানে মোট ১৭টি ২০তলা ভবনে ১ হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৮টি ভবনে আটশ’ বর্গফুটের ৬০৮টি এবং ৯টি ২০তলা ভবনে এক হাজার বর্গফুটের ৬৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। চারটি ব্লকে তিন কক্ষবিশিষ্ট ৪৮টি এবং ৩৮টি ব্লকে দুই কক্ষবিশিষ্ট ৪৫৬টি ফ্ল্যাট এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ছিল। নগরপরিকল্পনাবিদরা জানান, ‘আজিমপুর এস্টেট’ প্রকল্পটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি পথ প্রদর্শনকারী পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

[৯] গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আমাদের বড় আকারের আবাসন প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো বরাদ্দ দেওয়ার পর রাজধানীতে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আবাসনভোগী হবে প্রায় ২২ শতাংশ। আর আমাদের হাতে থাকা বাকি প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে ২৭ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। আমরা সরকারের নির্দেশে এ আবাসনের পরিমাণ ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ করছি।

[১০] আজিমপুরের মোট ২৪টি ৪তলা ভবন ভেঙে গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণ করেছে প্রথম ধাপে ৬টি ২০তলা ভবন। বর্তমানে আরও ১৭টি ভবন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৩টি ২০তলা ভবনে মোট ১ হাজার ৭৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছে। নতুন আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। সেখানে মোট ৩৬টি পুরনো ৫তলা ভবন ভাঙা হবে। এই জমিতে ২০তলা ১৫টি ভবন নির্মাণ করা হবে।

[১১] প্রতিটি ভবনে ৭৬টি করে মোট ১ হাজার ১৪০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করার কাজটি শুরু হবে আগামী জুলাই মাসে। ১৩ দশমিক ৬২ একর জায়গার এ প্রকল্পে উন্মুক্ত স্থানের পরিমাণ থাকছে ৭৫ শতাংশ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের আজিমপুর ডিভিশনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস আহমেদ ১৭টি ভবনে আমাদের ১২৯২টি ফ্ল্যাট প্রস্তুত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

[১২] গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার বলেন, পুরনো জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভেঙে সেখানে অধিক লোকের বাসস্থান নিশ্চিত করতেই সরকার বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কাজের সঙ্গে গণপূর্তের দক্ষ প্রকৌশলীরা সম্পৃক্ত থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করেছে।

[১৩] মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে মোট ২৮৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সেখানে একটি ১২তলা ভবনে এক হাজার বর্গফুটের ছয় ইউনিটে মোট ৬৬টি, ২টি ১৩তলা ভবনে ৮৫৯ বর্গফুটের ১৫০টি, ১টি ১৩ তলা ভবনে ৬৫০ বর্গফুটের ৭২ ফ্ল্যাট রয়েছে।

[১৪] মিরপুর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আমানউল্লাহ সরকার জানান, সরকারি কলোনিগুলোতে ভবনের পাশাপাশি হাঁটার জায়গা, উন্নত ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান, পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ, খেলার মাঠ, সুইমিংপুল, কমিউনিটি সেন্টার, লাইব্রেরিসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা রাখা হয়েছে। পুরনো জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভেঙে সেখানে অধিক লোকের বাসস্থান নিশ্চিত করতেই সরকার বহুতল ভবন নির্মাণ করছে।

[১৫] তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জুনের মধ্যে কাজ শেষ করেছে। এরপরে আবাসন অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তিতে বরাদ্দ দেয়া হবে।

[১৬] মতিঝিলে ৫টি ২০তলা ভবনে মোট ৩৮০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি ২০তলা ভবনে চার ইউনিট করে ৮শ’ বর্গফুটের মোট ২২৮টি ও ২টি ২০তলা ভবনে এক হাজার বর্গফুটের ১৫২টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

[১৭] এ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে আমরা দিনরাত কাজ করেছি। কাজের মানের বিষয়েও আমাদের তীক্ষè নজর ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে আমরা দিনরাত কাজ করেছি।

[১৮] তিনি আরো বলেন, কাজের মানের বিষয়েও আমাদের তীক্ষè নজর ছিল। উন্নত ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান, পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ, খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, লাইব্রেরিসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা রাখা হয়েছে।

[১৯] মালিবাগ এলাকায় ৪টি ২০তলা ভবনে ৪৫৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২টি ২০তলা ভবনে ছয় ইউনিট করে মোট ২২৮টি ফ্ল্যাট এবং ২টি ২০তলা ভবনে ৬৫০ বর্গফুটের ২২৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

[২০] ডিভিশন-৪ নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আবাসিকদের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য কয়েকটি সুপারশপ থাকবে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ভবন ভেদে একটি হল রুমও আছে।

সর্বাধিক পঠিত