প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কনটেইনার জটের মুখে চট্টগ্রাম বন্দর, স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়ার উপক্রম

রিয়াজুর রহমান: [২] স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টায় গড়ে সাড়ে ৩ হাজার কনটেইনার খালাস হয়। কিন্তু গত ৪৮ ঘণ্টায় আমদানিকারকেরা খালাস করেছে মাত্র আমদানি পণ্যবোঝাই ৩৯টি কনটেইনার।

[৩] আমদানিকারকেরা বলেছেন, কারখানা বন্ধ থাকা অবস্থায় পণ্য খালাস করা সম্ভব নয়। আর বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, পণ্য খালাস না হলে তিন–চার দিন পরই ভয়াবহ জটের মুখে পড়বে বন্দর। তাতে বন্দরের কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাবে।

[৪] দেখে গেছে, ঈদুল আজহার বন্ধ ও দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনের পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া পূর্ববর্তী সিডিউল অনুযায়ী প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার আসছে। কিন্তু গার্মেন্টসসহ সব কলকারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় শিল্পের কাঁচামালসহ অন্যান্য আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দর থেকে খালাস বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই বন্দরের জেটিতে কনটেইনারের স্তুপ হচ্ছে। এতে করে বন্দরের জেটিসমূহে কনটেইনার রাখার স্থান সংকুচিত হয়ে পড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ছুঁই ছুঁই পর্যায়ে পৌঁছেছে।

[৫] গত শনিবার (২৪ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জমা হয়েছে ৪২ হাজার ৫৭১টি। বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার কনটেইনার ধারণ করা সম্ভব। কিন্তু তাতে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক পর্যায়ে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার কনটেইনার থাকে। আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে আসা পণ্যবাহী কনটেইনার খালাসের গতি তেমন একটা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলে বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ মনে করেন।

[৬] কনটেইনার জট থেকে পরিত্রাণ পেতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়ে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান গনমাধ্যমককে জানান, বন্দরের পক্ষ থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বন্দরের পক্ষ থেকে অন্তত দুই মাসের জন্য আমদানি পণ্যবাহী সব কনটেইনার অফডকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

[৭] এদিকে বেসরকারি ডিপো মালিকদের সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান জানান, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার চলে যাবে। সেক্ষেত্রে তাদের ১৮টি ডিপোতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কনটেইনার রাখা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সব ধরনের কনটেইনার গ্রহণে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

[৮] এবিষয় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। আগে জীবন বাঁচাতে হবে। আবার পণ্য সরবরাহের যে ব্যবস্থা আছে, সেটিও কিছুটা হলে স্বাভাবিক রাখতে হবে। এ পরিস্থিতিতে যেসব শিল্পকারখানার পণ্য জরুরি ভিত্তিতে খালাস করা দরকার, তারা যাতে কারখানা খোলা রেখে অন্তত আমদানি পণ্য খালাস করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা দরকার। কারণ, বন্দর যদি অচলাবস্থায় পড়ে তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যে জট তৈরি হবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত