প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পিরোজপুরে ‘ক্রিষ্টাল মেথের’ শেল্টার দাতা গডফাদার ও ডিলাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে

বিপ্লব বিশ্বাস [২] “ক্রিষ্টাল মেথ” নিয়ে গ্রেপ্তার কারান্তরীন সেই মাদক ব্যবসায়ী মাসুম খান (রাজ) নামে এই আওয়ামী লীগ নেতা জেলে রয়েছেন বহাল তবিয়াতে। যা চাচ্ছেন তাই পাচ্ছেন কারাগারে। অন্য দিকে তার সহযোগী ও গডফাদাররা রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এই গডফাদার লোকদের পালিতরা জেল গেটে দেখা করে, খোঁজ খবর নিয়ে পরবর্তী কাজের দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।

[৩]উল্লেখ্য, এই গড ফাদারদের হাত এতোই লম্বা, যাতে খুব সহসাই জামিনে মুক্তি পেয়ে যেতে পারেন এই মাদক রাজ। স্থানীয় সুত্র ও তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, গোটা বরিশাল বিভাগের কিছু অংশ এবং গোটা পিরোজপুর অঞ্চলে এই ভয়নাক মাদক ব্যবসার মূল হোতা রাজ। ক্রিষ্টাল মাদক ছাড়াও এই রাজ ছিল ইয়াবা ও ফেনসিডিলের মূল কারবারী। মৃলত পিরোজপুরের সাত থানায় এই রাজের এক ডজন ডিলার আছে। মূলত এই ডিলারদের মাধ্যমেই তারা সর্বত্র ছড়িয়ে দেয় এই মাদের ভয়াল থাবা।

[৪]গডফাদারের তালিকায় যাদের যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে ও আইন পদক্ষেপ নিবেন বলে জানিয়েছেন র্যাব সদর দপ্তরের অধিনস্তরা।

[৫]র্যাব সৃত্র জানায়, আমরা বেশ কিছু গড ফাদারের নামের তালিকা পেয়েছি। এরা সমাজের গন্য মান্য রাজনৈতিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। মূলত এদের শেল্টারেই গোটা পিরোজপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে চলে এ ব্যবসা।  যতদূর জানা যায়, ১৮৮৭ সালে মারাত্মক সব ড্রাগের ওপর গবেষণা ও উৎপত্তি হয়েছিল জার্মানিতে। যুদ্ধবিমান চালকদের সারাক্ষণ নির্ঘুম রাখতে তারা নিজেদের সৈন্যের সঙ্গে জাপানিজ পাইলটদেরও কড়া ড্রাগ ব্যবহারে উৎসাহিত করে। সে সময়ে আবিষ্কৃত হয় ক্রিস্টাল ড্রাগ। পরে এর নাম পরিবর্তিত হয়ে কোথাও ক্রিস্টাল মেথ, কোথাও আইস, এক্সথেসি, কোথাও ‘ম্যাড-ড্রাগ’ এবং এলাকাভেদে নানা ছদ্মনামে এর ব্যবহার চালু থেকে যায়।

[৬] ১৯৬০ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার শুরু হয়ে যায়। এরপর উত্তর আমেরিকার যুবকদের হাতে কোনোভাবে পৌঁছে গেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭০ সালে এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর ১৯৯০ সালে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ক্রিস্টাল ড্রাগ ঢুকে পড়ে। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়া হয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, লাওস, চীন, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশে এর ব্যবহার শুরু হয়। তবে দাম অনেক বেশি হওয়ায় আমাদের দেশে সে সময় সাধারণের মাঝে এর ব্যবসা জমে ওঠেনি। [ ৬]পিরোজপুরে যে চালানটি ধরা পড়ে তা বাংলাদেশের চতুর্থ চালান বলে জানা যায়। [৭]এ ব্যপারে পিরোজপুরের জেলা এসপি সাঈদুর রহমান বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশ কাজ করছে। মাদক ব্যবসায় যে গডফাদার আর ক্ষমতাধর হোক না কেন। কোন ছাড় নেই। এই গডফাদারদের ব্যাপারে আরো তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব শিঘ্রই এদের ধরতে অভিযান।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত