প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কুষ্টিয়ায় চামড়ার সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে, বঞ্চিত মৌসুমি ব্যাবসায়ীরা

আব্দুম মুনিব:[২] গত বছরের তুলনায় কুষ্টিয়ায় কমেছে কোরবানির পশুর চামড়া। কারণ এবার ঈদ উল আযহায় জেলাতে কোরবানী কম হয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ীদের হিসেবে, এ বছর জেলার চামড়া পট্টি মোকামে ঈদে লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ লাখ পশু কোরাবানীর চামড়া। এরমধ্যে গরু ১ লাখ ৫০ হাজার। খাসী ও অন্যান্য পশু ৩ লাখ ৫০ হাজার। কিন্তু কোরবানি কম হওয়ায় এবার সেটি কমে দাঁড়িয়েছে।

[৩] ঈদের দ্বিতীয়দিন অর্থ্যাত শুক্রবার পর্যন্ত এই মোকামে ৩০ হাজার গরু ও ১ লাখ খাসির চামড়া আমদানি হয়েছে। এদিকে যে সমস্ত ফড়িয়ারা চামড়া ব্যাবসার সাথে জড়িত তারা দাম বৃদ্ধির আশায় চামড়া বিক্রি না লবণজাত করে রেখে দিয়েছে। কুষ্টিয়ার মোকামে আশেপাশের কয়েকটি জেলার চামড়া আমদানি হয়। এখানকার চামড়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় কোরবানীর সংখ্যা কমায়, কমেছে পশুর চামড়ার সরবরাহ। এ কারনে দরও কিছুটা বেড়েছে।

[৪] চামড়া ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলছিলেন, গত ঈদে যে পরিমান কিনেছিলেন এবার কোরবানী কম হওয়ায় এবার গত বছরের তুলনায় তার ৬০-৭০% কিনতে পেরেছেন। একারণেই এবার কিছুটা দাম পেয়েছে বিক্রেতারা। গরুর চামড়ার দাম পিস প্রতি বেড়েছে ১’শ থেকে ২’শ টাকা। শুক্রবার দুপুরে চামড়া পট্টি এলাকায় বড় আকারের গরুর চামড়ার দাম ছিল ৮’শ টাকা। মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চামড়ার দাম বিক্রি হয়েছে ৫শ থেকে ৭শ টাকা। চামড়ার দাম কিছুটা বাড়লেও গত তিন বছর ক্ষতি হওয়ায় এবার মৌসুমি চামড়া ক্রেতা ছিল খুবই কম। সেভাবে দেখা যায়নি অলিতে গলিতে চামড়া কেনাকাটা।

[৫] দাম না পাওয়ার অভিজ্ঞতায় কোরবানীদাতারা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বেশী পরিমান দান করেছে। তবে একাধীক মাদ্রাসার অভিযোগ ঈদের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অসাধু সিন্ডিকেটে গত তিন বছরের মত এবারো কম মূল্যে চামরা বিক্রি করতে হয়েছে তাদের চামড়া এই বাড়তি দাম শুরু হয়েছে সন্ধ্যার পর থেকে। সকাল থেকে গেল বছরের দরে চামড়া বিক্রি হয়েছে। এই যে দামের হেরফের, এতে লাভবান হয়েছে অসাধু সিন্ডিকেটের আড়তদাররা।

[৬] মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বঞ্চিত তারা। বাড়তি দাম পেয়েছে যারা চামড়া ধরে রাখতে পেরেছিল। কুষ্টিয়ার মাদ্রাসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, যেসব মাদ্রাসা বা এতিখানা চামড়া সহায়তা হিসেবে নেন তারা তো সংরক্ষন করতে পারবে না। এটা জেনেশুনেই সকাল থেকে পানির দর। যখন এসব প্রতিষ্ঠানের চামড়া বিক্রি শেষ তখন বেড়ে গেল দাম।

[৭] এটা মুলত অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে। শহরের ঐতিহ্যবাহী মোমতাজুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আরিফুজ্জামান জানান, গত বছর গরুর চামড়া বিক্রি করেছি ৫শ থেকে ৬শ টাকায়, এবছর ঈদের দিন রাত ১০টায় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকায়। শহরের মদিনাতুল উলুম মাদ্রসার প্রধান মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা গরুর চামড়া গড়ে বিক্রি করেছেন ৮৫০ টাকায়।

[৮] কুষ্টিয়া চামড়া ব্যবসায়ী সমিতর সাধারণ সম্পাদক আনিস কেরাইশি জানান, এ বছর কোরবানির প্রতি বর্গফুট গরুর কাচা চামড়ার মূল্য সরকারিভাবে ঢাকার বাইলে নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা। তিনি বলেন, গতবছর এই চামড়া ২৫ টাকা বর্গফুট কিনলেও এবার ৩৭ টাকা করে কিনছেন।

[৯] অন্যদিকে খাসির চামড়া এবছর তারা কিনেছেন ১শ টাকার উপরে। কবে তার অভিযোগ, বিগত বছরগুলোর মতো ট্যানারী মালিকরা ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের মূলধন বকেয়া আটকে আছে, আর এ কারনে নগত টাকা দিয়ে চামড়া ক্রয় করতে তাদের সমস্যার সম্মুক্ষিন হতে হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত