প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টায় ভূমধ্যসাগরে ৭ বছরে মৃত্যু ২০ হাজারের বেশি

শোভন দত্ত: [২] লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়ায় নৌযানটি ডুবে যায়। বুধবার তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্টের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সেদেশের কোস্টগার্ড সাগর থেকে ৩৮০ জনের বেশি আরোহীকে উদ্ধার করেছে।

[৩] রেড ক্রিসেন্ট জানায়, লিবিয়ার উত্তরপশ্চিম উপকূলের জুয়ারা থেকে সিরিয়া, মিসর, সুদান, মালি ও বাংলাদেশের অভিবাসীদের নিয়ে রওনা দেয় নৌযানটি।

[৪] সংস্থার কর্মকর্তা মংগি স্লিম বলেন, মৃত কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

[৫] সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সাগরযাত্রা বেড়েছে। তিউনিসিয়া ও লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশে, বিশেষ করে ইতালিতে পৌঁছানোর জন্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে, যেহেতু আবহাওয়ার উন্নতি হয়েছে।

[৬] ইউরোপের প্রধান গন্তব্য ইতালিতে গত কয়েক বছরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রবেশের সংখ্যা কমে এলেও ২০২১ সালে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে।

[৭] মূলত আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও দারিদ্র্যকবলিত অঞ্চলগুলোর অনেক মানুষ নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

[৮] সাম্প্রতিক সময়ে তিউনিসিয়ার উপকূলে বেশ কয়েকটি নৌযান ডুবেছে। এরপরও থেমে নেই এ পথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার- ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২১ লাখ মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এভাবে সাগরপথ পাড়ি দিতে গিয়ে এ সময়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে অনেক বাংলাদেশি রয়েছেন।

[৯] সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যে সংখ্যক মানুষ অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করেছেন তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশিরা। এরপর রয়েছে তিউনিশিয়ার মানুষ।

[১০] চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৩২ জন বাংলাদেশী অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। এরপরই তিউনিশিয়ার মানুষজন, তাদের সংখ্যা ২ হাজার ৯৬২ জন।

[১১] সংস্থাটি জানায়, শুধু সমুদ্রপথ নয়, দুর্গম মরুপথ ও বনজঙ্গল পার হয়ে ইউরোপে যেতে গিয়ে অনেকে বন্দি হন, প্রাণও হারান। ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান দফতর ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন ইউরোপে।

[১২] এদিকে, অবৈধভাবে প্রবেশ করা বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে না নিলে ভিসা বন্ধের হুমকিও দেয় ইউরোপ। পরে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও ইইউ-র অভিবাসন বিষয়কমন্ত্রী ইউরোপ থেকে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ফেরত আসা মানুষগুলোর জীবন যেন থমকে না যায়, সেজন্য দেশে ফেরত আসার পর তাদের পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগও নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আইওএম-এর সঙ্গে বাংলাদেশে সেই কাজটি এখন করছে ব্র্যাক।

[১৩] ২০১৪ সালে অবৈধভাবে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে যান দুই লাখ ২৫ হাজার ৪৫৫ মানুষ। তাদের মধ্যে মারা যান তিন হাজার ৫৩৮ জন। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ পাড়ি দেন ১০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৮ জন, মারা যান তিন ৭৭১ জন। ২০১৬ সালে তিন লাখ ৭৩ হাজার ৬৫২ জন, মারা যান পাঁচ হাজার ৯৬ জন। ২০১৭ সালে এক লাখ ৮৫ হাজার ১৩৯ জন পাড়ি দেন, পথে মারা যান তিন হাজার ১৩৯ জন। ২০১৮ সালে পাড়ি দেন এক লাখ ৪১ হাজার ৪৭২ জন, মারা যান দুই হাজার ২৭০ জন। ২০১৯ সালে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৬৩ জন পাড়ি দেন, মারা যান এক হাজার৩৩৫ জন। ২০২০ সালে ৯৬ হাজার ৩১ জন অবৈধ পথে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে পারলেও পথে মারা যান এক হাজার ৪০১ জন।

[১৪] গত এক দশকে এভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় আটক হয়েছেন ৫৫ হাজার বাংলাদেশি। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত