প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডলারে বিনিয়োগ সরিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভালই জবাব দিচ্ছে রাশিয়া

রাশিদ রিয়াজ : ২০১৮ সাল থেকে এপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিলে রাশিয়া বিনিয়োগ কমিয়েছে ৯৭ শতাংশ। এ মাসের শুরুতে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে দেশটির ন্যাশনাল ওলেথ ফান্ডে যে ১৮৭.৬ বিলিয়ন ডলার ছিল তা দিয়ে চীনা মুদ্রা ইউয়ান , ইউরো ও স্বর্ণ কেনা হয়েছে। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড মার্কেটে রাশিয়ার বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে দেড়শ মিলিয়ন ডলার। অথচ গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের এসব খাতে রাশিয়ার বিনিয়োগের পরিমান ছিল ৩.৯৭৬ বিলিয়ন ডলার। পরের মাস এপ্রিলে তা হ্রাস পায় ৩.৯৫৭ বিলিয়ন এবং মে মাসে তা কমে দাঁড়ায় ৩.৮০৫ বিলিয়নে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারিতে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিতে ৩০৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি ও বন্ড খাতে রাশিয়ার অবস্থান শীর্ষস্থান থেকে পতন ঘটে। কারণ এ বিনিয়োগ থেকে রাশিয়া ৯৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি সরিয়ে নেয়। সর্বশেষ রাশিয়ার ন্যাশনাল ওয়েলথ ফান্ডে ডলারের বিনিয়োগ শূণ্য হলেও ইউরো ৩৯.৭, ইউয়ান ৩০.৪, ইয়েন ৪.৭ ও স্বর্ণের পরিমান ২০.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার জাতীয় এ তহবিলের মূল্য ১৮৭.৬ বিলিয়ন ডলারের সমান।

রুশ কর্তৃপক্ষ মস্কোর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিকূল পদক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করে বলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডলার বিনিয়োগে তারা আর উৎসাহ পাচ্ছে না। কারণ রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নীতি তার মুদ্রার উপর আন্তর্জাতিক আস্থা হ্রাস করতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে চীন, ভারত ও তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়া বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলারের পরিবর্তে নিজেদের বা অন্য মুদ্রায় লেনদেনের দিকে ঝুঁকছে। রাশিয়ার এনার্জি জায়ান্ট কোম্পানি রসনেফট বিশ্বের অস্টম বৃহত্তম তেল ও গ্যাস কোম্পানি। এ কোম্পানি তার মোট আয় ডলারের বিপক্ষে ইউরোতে মজুদ করছে।

এ বছরের শুরুতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন ডলারের বিরুদ্ধে অন্য মুদ্রার দিকে তাদের ঝুঁকে পড়া অন্য দেশকেও আকর্ষণ করবে এবং এতে ডলার স্থিতিশীলতা হারাতে বাধ্য হবে। গত মাসে রুশ বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নেভিগেটর প্রিন্সিপালের পরিচালক কাইলি শোস্তাক স্পুটনিককে বলেন রাশিয়ার ডলারের বিক্রয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মার্কিন অর্থনীতিতে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল ঋণ গত মার্চে ২৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি দেনা যোগ হলে তা ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির চারগুণ। বা মার্কিনীদের মাথাপিছু ঋণের পরিমান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮শ ডলার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত