প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রাগৈতিহাসিক আর আধুনিক মানুষের ডিএনএ’র পার্থক্য মাত্র সাত শতাংশ: গবেষণা

মাহামুদুল পরশ: [২] শুক্রবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেসের একটি প্রতিবেদনে ‘অ্যান অ্যান্সেসট্রাল রিকম্বিনেশন গ্রাফ অফ হিউম্যান, নিয়ানডারথাল অ্যান্ড ডেনিসোভান জিনোমস’ শিরোনামের একটি গবেষণা প্রকাশ করা হয়। এপি নিউজ

[৩] গবেষণায় বলা হয়, প্রাগৈতিহাসিক মানবের সঙ্গে আধুনিক মানুষের পার্থক্যের চেয়ে অনেক বেশি মিল রয়েছে। দুই দলের ডিএনএতে, অর্থাৎ জিনগত পার্থক্যের তুলনায় মিল ১২ গুণ বা প্রায় ৯৩ শতাংশ। সায়েন্স এডভান্সেস

[৪] প্রতিবেদনের সহ-লেখক ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার কম্পিউটেশনাল বায়োলজিস্ট নাথান শেফার বলেন, পার্থক্যের হার খুব সামান্য। গবেষণার এ ফলাফলের কারণে নিয়ানডারথালদের সঙ্গে আমাদের অর্থাৎ এখনকার মানুষ ভিন্ন বলে যে প্রচলিত ধারণা ছিল, তা থেকে সরে আসছেন গবেষকরা। নিউজ সায়েন্টিস্ট

[৫] বিজ্ঞানের পরিভাষায় মানুষ তথা হোমো-স্যাপিয়েন্সের আদি রূপ হলো নিয়ানডারথাল। প্রায় অর্ধলাখ বছর আগে বিলুপ্ত নিয়ানডারথাল আর ডেনিসোভান্সের জীবাশ্ম থেকে সংগৃহীত ডিএনএ আর বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৭৯ জন মানুষের ডিএনএর পার্থক্য বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে নতুন এই গবেষণায়।

[৬] ডেনিসোভান্স বা ডেনিসোভা হোমিনিন্স হলো নিয়ানডারথালের মতোই আদিম মানুষের আরেকটি বিলুপ্ত উপপ্রজাতি। পুরো এশিয়াজুড়ে মধ্য প্রস্তর যুগে বিচরণ ছিল ডেনিসোভান্সদের। তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা গেছে মূলত হাতেগোণা কিছু জীবাশ্ম থেকে পাওয়া ডিএনএর মাধ্যমে।

[৭] বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিয়ানডারথাল ও ডেনিসোভান্সের সঙ্গে আধুনিক মানুষের ডিএনএতে মিল থাকার বিষয়টি আগেই জানা গিয়েছিল। অন্যদিকে নতুন গবেষণায় নতুন যে তথ্য মিলেছে, তা হলো- প্রাগৈতিহাসিক মানবের সঙ্গে বর্তমানের একেকজন মানুষের ডিএনএর একেকটি অংশের মিল আছে।

[৮] নতুন গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য ছিল আধুনিক মানুষের ডিএনএর কতোটুকু নতুন, তা নির্ণয় করা। অর্থাৎ নিয়ানডারথাল ও ডেনিসোভান্সের ডিএনএর তুলনায় মানুষের ডিএনএ কতোটা ভিন্ন, তাই জানতে চেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এই ধরনের সংখ্যাভিত্তিক পার্থক্য নির্ণয় কঠিন। তাই এ গবেষণার জন্য নতুন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এ পদ্ধতিতে প্রাচীন জিনোমের হারিয়ে যাওয়া তথ্যের হিসাব বের করা হয়।

[৯] গবেষকরা দেখেছেন, আমাদের জিনোমের মাত্র দেড় শতাংশ আদিম মানবের চেয়ে ভিন্ন এবং বর্তমানে জীবিত সব মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান। ধারণা করা হচ্ছে, এই দেড় শতাংশ ডিএনএ থেকেই জানা যাবে যে ঠিক কোন কারণ সত্যিকার অর্থে আধুনিক মানুষকে পূর্বসূরী থেকে আলাদা করেছে?

[১০] গবেষণা প্রতিবেদনটির আরেক সহ-লেখক ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া স্যান্টা ক্রুজের কম্পিউটার বায়োলজিস্ট রিচার্ড গ্রিন বলেন, ‘জিনোমের এই অংশগুলো খুবই সমৃদ্ধ ও তথ্যবহুল বলে আশাবাদী আমরা। ধারণা করছি, স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ আর মস্তিষ্কের কাজ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব অংশ।’

[১১] ২০১০ সালে একটি নিয়ানডারথালের প্রথম খসড়া জিনোম সিকোয়েন্স করতে সহযোগিতা করেছিলেন গ্রিন। তারও চার বছর পর একটি গবেষণায় সহলেখক জেনেটিসিস্ট জোশুয়া অ্যাকে দেখিয়েছেন যে নিয়ানডারথালদের ডিএনএর কিছু অংশ বহন করে চলেছে আধুনিক মানুষও। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

 

সর্বাধিক পঠিত