প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিনোফার্মের টিকার দ্বিতীয় কিস্তিতে আরো ২৪৬ কোটি টাকা ছাড়

নিউজ ডেস্ক: দেশে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে চীনের সিনোফার্মের টিকা। এরই মধ্যে কেনা টিকার ২০ লাখ ডোজ বাংলাদেশে এসেছে। দ্বিতীয় কিস্তিতে এ টিকা কেনার জন্য সম্প্রতি ২৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করেছে অর্থ বিভাগ। চুক্তি অনুযায়ী দাম জানানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ অর্থে কত ডোজ টিকা কেনা হবে তা প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত জুনে প্রথম কিস্তির অর্থ পরিশোধে ২৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। অর্থ বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের বরাদ্দপত্রে বলা হয়, গণচীনের সিনোফার্মের তৈরি সার্স কোভ-২ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় কিস্তি কেনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুকূলে ২৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিতে সম্মতি দেয়া হলো। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে অর্থ বিভাগের বাজেটের ‘করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা তহবিল’ থেকে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলো। বণিক বার্তা

এ বরাদ্দের ক্ষেত্রে দুটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ ও দ্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০০৮ অনুসরণসহ প্রযোজ্য আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে। একই সঙ্গে এ অর্থ চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট কোডে সমন্বয় করতে হবে। এর আগে গত ২৩ জুন এ টিকা ক্রয়ে প্রথম কিস্তির অর্থ পরিশোধে ২৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করে অর্থ বিভাগ। তবে ওই অর্থ দিয়ে কত ডোজ ভ্যাকসিন কেনা হবে তখনো তা উল্লেখ করা হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, টিকার সংকট শুরু হলে সরকার বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় টিকা পেতে যোগাযোগ শুরু করে। এর মধ্যে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে টিকা ক্রয় ও স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। চীনের থেকে সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক টিকা আনা হবে। এর মধ্যে বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রডাক্টের তৈরি করা বিবিআইবিপি-সিওআরভি বা সিনোফার্মের টিকা কিনতে চুক্তি হয়েছে। এতে বিভিন্ন কিস্তিতে টাকা ছাড় করছে অর্থ বিভাগ। দফায় দফায় সিনোফার্মের টিকা আসার কথা রয়েছে। তবে গোপনীয়তার শর্ত থাকায় কবে কত ডোজ আসবে তার পরিপূর্ণ তথ্য আগেই প্রকাশ করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে চীনের সিনোভ্যাক লাইফ সায়েন্স কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদিত করোনাভ্যাক বা সিনোভ্যাক টিকা কেনার চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে রাশিয়ার গামালিয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির উৎপাদিত স্পুতনিক-৫ টিকা কেনার জন্য চুক্তির বিষয়ে কাজ করছে সরকার। রাশিয়া থেকে বেশ কয়েকটি শর্ত দেয়া হয়েছিল। সেগুলো বিবেচনা করে বাংলাদেশ থেকে উত্তর জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। চুক্তির শর্তগুলো বাংলাদেশ সরকার যেমন বিবেচনা করছে, তেমনি রাশিয়াও বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। এসব শেষ হলে যথাসম্ভব দ্রুত টিকা কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। অন্যদিকে এসব টিকা স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করা হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে আপাতত তিন কোটি টিকার জন্য চুক্তি হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও লাইন ডিরেক্টর (অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, বিভিন্ন কিস্তিতে টিকার টাকা আসছে। চুক্তি অনুযায়ী আমরা টিকা পাচ্ছি। সুবিধাজনক সময়ে বিভিন্নসংখ্যক টিকা চীনের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে। আমাদের চুক্তি সিনোফার্মের সঙ্গে। সিনোভ্যাকের টিকার জন্যও চুক্তি হবে।

গত মে মাসে চীন সরকার প্রথম বাংলাদেশকে সিনোফার্মের পাঁচ লাখ ডোজ টিকা উপহার দেয়। পরে জুনে এ টিকার আরো ছয় লাখ ডোজ উপহার দেয়া হয়। চলতি মাসের শুরুতে চীন থেকে কেনা সিনোফার্মের টিকার ২০ লাখ ডোজ দেশে এসেছে। বর্তমানে গণপরিসরে এ টিকার প্রয়োগ চলছে।

এদিকে গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পরিবর্তিত মূল্যে সিনোফার্মের দেড় কোটি ডোজ টিকা আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকের পর ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনা কোম্পানি সিনোফার্মের কাছ থেকে প্রাথমিক চুক্তিমূল্যের চেয়ে কম দামে দেড় কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃক চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম ইন্টারন্যাশনাল থেকে চুক্তিবদ্ধ দেড় কোটি ডোজের মধ্যে অবশিষ্ট ১ কোটি ৩০ লাখ ডোজ ও নতুন প্রস্তাবিত ২০ লাখ ডোজ টিকা, অর্থাৎ সব মিলিয়ে দেড় কোটি ডোজ টিকা আগের চুক্তিপত্রের উল্লিখিত দামের চেয়ে কম দামে সিনোফার্ম ভ্যাকসিন সাপ্লিমেন্ট এগ্রিমেন্ট-১-এর আওতায় সরবরাহের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কভিড-১৯ মোকাবেলায় জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য দেড় কোটি ডোজের অতিরিক্ত টিকা প্রয়োজন হলে সরবরাহের প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তবে দাম কত পড়বে বা কতদিনের মধ্যে এ টিকা আসবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি অর্থমন্ত্রী। আপাতত বিশদ কিছু জানানো সম্ভব না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে কতদিনের মধ্যে টিকা আসবে, সে তথ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ভালো জানে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে গত মে মাসে ক্রয় কমিটির সভায় চীন থেকে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি ওই টিকা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার দেড় কোটি ডোজ টিকার মোট দাম কত পড়বে তা বলে দিয়েছিলেন। সিনোফার্ম প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে জুন, জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করবে জানিয়ে সেদিন তিনি বলেন, এ কেনাকাটায় আমাদের দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। সরাসরি চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এ ক্রয় চুক্তি হচ্ছে। কিন্তু সেদিন টিকার দাম গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করায় টিকা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার খবর আসে গণমাধ্যমে। বলা হয়, দাম প্রকাশের বিষয়টি চীন ভালোভাবে নেয়নি। এরপর অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তারকে ওএসডি করারও আদেশ আসে। সে কারণেই এবার টিকার দাম প্রকাশের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এ পর্যন্ত দেশে জরুরি প্রয়োগের জন্য নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধী আটটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এ টিকাগুলো হলো ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, রাশিয়ার স্পুতনিক-৫, চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক, যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্না, বেলজিয়ামের জনসন অ্যান্ড জনসন এবং সুইডেনের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। তবে দেশে এখন পর্যন্ত চারটি টিকা এসেছে। এগুলো হলো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্না। গত ২৭ জানুয়ারি দেশে পরীক্ষামূলক করোনার টিকা প্রয়োগ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ কোভিশিল্ডের ১ কোটি ২ লাখ, ফাইজারের ১ লাখ ৬০০, সিনোফার্মের ৩১ লাখ ও মডার্নার ২৫ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত