প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] য‌শো‌রে ক‌রোনায় মৃত‌্যু আড়াই‌শো ছাড়া‌লো, দেড় বছ‌রে আক্রান্ত প্রায় ১৭ হাজার

র‌হিদুল খান: [২] যশোরে করোনার কাছে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই এ মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। থামছে না স্বজনদের কান্না। শুক্রবার এ মৃত্যুর সংখ্যা আড়াইশ’ ছাড়ালো। এরমধ্যে সদর উপজেলা এলাকায় সর্বোচ্চ ১৪৮ জন ও চৌগাছায় সর্বনিম্ন আটজন মারা গেছেন। অদৃশ্য এ ঘাতকে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৩২ জন।

[৩] গত ২০২০ সালের ১০ মার্চ থেকে চলতি বছরের ১৬ জুলাই পর্যন্ত দেড় বছরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

[৪] সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ চীনের উহান প্রদেশে সর্বপ্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। এ ভাইরাসে পরবর্তীতে সে দেশে সাড়ে ৪’শ মানুষ প্রাণ হারায়। এরপর দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। একই বছরের ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর গোটা দেশে স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসে। সেই সঙ্গে দেশে অবনতি হতে থাকে করোনা পরিস্থিতি। এ অবস্থা উত্তরণে সরকার মানুষকে ঘরে রাখতে লকডাউন ও পরবর্তীতে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে কিন্তু তাতেও কমেনি করোনার দৌরাত্ম।

[৫] বর্তমানে খুলনা বিভাগের দশ জেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। এ কারণে গোটা বিভাগের মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতি পার করছেন। এসব জেলায় প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ও হাজারো মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এ তালিকায় যশোর জেলাও পিছিয়ে নেই। করোনা রোগীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যশোর হাসপাতালে আক্রান্তদের ঠাঁই হচ্ছে না। করোনা ডেডিকেডেট ওয়ার্ড রেডজোনের গন্ডি পেরিয়ে আক্রান্ত মানুষ গাছতলায় শুয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এসময়ে মৃতদের স্বজনের কান্নায় হাসপাতালের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
এসব রোগীর চিকিৎসাসেবা নিয়ে ব্যাপক হিমশিম খাচ্ছেন যশোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা রোগীদের সারিয়ে তুলতে দিনরাত যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ভয়াবহ সেই পরিস্থিতি গত দু’দিন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জুলাই মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যক ৫ জন করোনা রোগী শুক্রবার মারা গেছেন। যশোরে কঠোর লকডাউন ও মানুষের সচেতনতাবোধ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সুফল আসছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

[৬] সূত্র জানায়, গত প্রায় দেড় বছরে যশোরে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা শুক্রবার ২৫৩ জনে দাড়িয়েছে। ২০২০ সালের ১০ মার্চ থেকে চলতি বছরের ১৬ জুলাই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত মানুষের এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সিভিল সার্জন অফিসের সংরক্ষিত তথ্যে এ কথা জানা গেছে। তথ্যানুযায়ী যশোর জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলা এলাকায় ১৪৮ জন। আর অদৃশ্য এ ঘাতকে সর্বনিম্ন আটজন মারা গেছেন চৌগাছা উপজেলায়। এছাড়া অভয়নগরে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ জন, বাঘারপাড়ায় ১১ জন, ঝিকরগাছায় ২৩, কেশবপুরে ১৮, মণিরামপুরে ১৩ ও শার্শা উপজেলা এলাকায় ১৫ জন মারা গেছেন। একই সময়ে করোনায় মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৩২ জন। উপসর্গ নিয়ে মোট কোয়ারেন্টিনে ছিলেন ২৭ হাজার ৮৯৪ জন। আইসোলেশনে ছিলেন ৬ হাজার ৫৪৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৭৮২ জন।

[৭] যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন বলেন, করোনায় যশোরে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেটা গত দু’দিনে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। মূলত তিনটি কারণে পরিস্থিতি অনুকূলে এসেছে। সেগুলো হলো, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন ঘোষিত কঠোর লকডাউন, মানুষের সচেতনভাবে নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল, মাস্ক ব্যবহার ও গ্রামের মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে আনা।

[৮] তিনি আরও বলেন, এরআগে গ্রামের মানুষ করোনাকে সাধারণ সর্দি-জ্বর মনে করে বাড়িতে থেকে হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছিল। পরে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আনা হলে তাদেরকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছিল না।

[৯] তিনি বলেন, এ অবস্থা আমরা ধরে রাখতে পারলে যশোরে করোনা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে। তিনি সবাইকে নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ করেন। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত