প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবার লকডাউন দিলে কর্মহীন পরিবার প্রতি ১০ হাজার করে টাকা দিন: জি এম কাদের

শাহীন খন্দকার: জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান আরো বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা কোন ছোট বিষয় নয়, সারা পৃথিবী ঐক্যবদ্ধ ভাবে করোনা মোকাবেলা করছে।

বাংলাদেশেও সম্মিলিত ভাবে করোনা মোকাবেলা করতে হবে। তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, সকল রাজনৈতিক দল, সকল এনজিও এবং পেশাজীবিদের নিয়ে করোনা মোকাবেলা করুন।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সরকারকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, করোনা মোকাবেলায় আমরা সরকারের যে কোন কর্মকান্ড সফল করতে আগ্রহী।
আজ শুক্রবার জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয় কাকরাইল মিলনায়তনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় যুব সংহতি আয়োজিত স্মরণ সভা ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

জাতীয় যুব সংহতি আহবায়ক এইচএম শাহরিয়ার আসিফ এর সভাপতিত্বে এবং জাতীয় যুব সংহতির সদস্য সচিব আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় জি এম কাদের আরো বলেন, পৃথিবীর প্রায় সকল রাষ্ট্র দেশের মানুষকে টিকা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে। কিন্তু আমাদের দেশের টিকা নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেনা। যেখানে ২৭ থেকে ২৮ কোটি ডোজ টিকা দরকার, সেখানে রেডিও টিভিতে সরকার ঘোষণা করছে ৫ লাখ ডোজ, ১০ লাখ ডোজ টিকা আসছে। বাকি টিকা কখন, কোথা থেকে আসবে তা কেউ জানেনা। এটা অত্যান্ত হতাশাজনক।

বিরোধী দলীয় এই উপনেতা আরো বলেন, ভ্যাকসিন হচ্ছে করোনা মোকাবেলার প্রধান অস্ত্র। সবাইকে যত দিন টিকা দেয়া না দেয়া যাবে, ততদিন সরকারি ভাবে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আবার লকডাউন দিলে কর্মহীন মানুষের পরিবার প্রতি মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। তিনি বলেন, কারো ঘরে খাবার না থাকলে সে কখনোই লকডাউন মানবেনা। যার ঘরে ক্ষুধার যন্ত্রণায় শিশু কাঁদবে সে বাইরে বের হবেই। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় দেশের বাজেট তৈরী হয়। ঐ টাকার মালিক দেশের সাধারণ মানুষ। করোনাকালে দেশের মানুষ কষ্টে আছে, তাদের বাঁচাতে হবে। তাই অন্তত ২ কোটি পারবারকে মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি। রাজনৈতিক বিবেচনা না করে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ সহায়তা দিতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা এক বছরের বেশি আগেই বলেছি, প্রতিটি হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত ডাক্তার, নার্স এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে, দেয়া হয়নি। প্রতিটি হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে বলেছি, কিন্তু সকল হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এর ব্যবস্থা করা হয়নি।

অক্সিজেনের অভাবে করোনা রোগী মারা যাচ্ছে। যাদের টাকা আছে তারা রাজধানীতে এসে বেসরকারি হাসপাতালে চিৎিসা নিচ্ছে। আর যাদের টাকা নেই, তারা বিনা চিকিৎসায় গ্রামে-গঞ্জে মারা যাচ্ছে।

দরিদ্র মানুষেরা করোনা টেষ্ট করতে পারছেনা, বিনাচিকিৎসায় মারা যাচ্ছে- সরাকারি হিসাবে তাদের সংখ্যা আসছেনা। আইসিইউ থেকে বের করলেই মারা যাবেন মা, কিন্তু তা জেনেও টাকার অভাবে সন্তানরা করোনা আক্রান্ত মুমুর্ষ মাকে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বের করছেন। এমন হৃদয়বিদারক অসংখ্য ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, বাজেটে খুবই কম টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় স্বাস্থ্য খাতে। আর বরাদ্দের বিশাল অংশই দুর্নীতিবাজরা লুটপাট করে খায়। তিনি বলেন, যারা মানুষের জানমালের দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছে, তারা দায়িত্বে অবহেলা করেল শুধু জনসাধারণ নয়, আল্লাহর দরবারেও জবাব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেছেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিটি দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের পাশে ছুটে যেতেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত