প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় ডেল্টা প্লাসের থেকেও ঝুঁকিপূর্ন করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট: ভারতীয় গবেষকদের মত

আখিরুজ্জামান সোহান: [২] সম্প্রতি ভারতীয় গবেষকদের মধ্যে কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট বেশি সংক্রামক নাকি ডেল্টা প্লাস সে নিয়ে আলোচনা চলছিল । এই ডেল্টা প্রজাতিদের কারণেই তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল গবেষকরা। সম্প্রতি দেশটির রাষ্ট্রয়ত্ব সংক্রামক রোগ গবেষণা প্যানেল (কনসোর্টিয়াম অব গভর্মেন্ট প্যানেল ইন জিনোম সিকুয়েন্সিং) এর পক্ষ থেকে বলা হয়, কোভিডের ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট বেশি সংক্রামক ও ছোঁয়াচে। মানুষের শরীরে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কিন্তু ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টেরই উপপ্রজাতি ডেল্টা প্লাস অতটা ছোঁয়াচে নয়।

[৩] চলতি বছর মার্চ মাসের পর থেকে কোভিডের ডেল্টা প্রজাতি নিয়ে আশঙ্কা ও উদ্বেগ দুটোই বেড়েছে। করোনার ভারতীয় প্রজাতি তথা ‘ডাবল ভ্যারিয়ান্ট’ নিয়ে এতদিন গবেষণা চলছিল, তারপরে শোনা গেল এর চেয়েও বেশি ছোঁয়াচে ‘ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট’ ছড়িয়ে পড়েছে যা নাকি ডাবল ভ্যারিয়ান্টেরই আরেক নতুন স্ট্রেইন। আর এখন ‘ডেল্টা প্লাস’ প্রজাতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফের তোলপাড় চলছে। বস্তুত, ভারতে ডেল্টা প্লাস মারাত্মকভাবে সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ভারতের সরকারি প্যানেলের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ডেল্টা প্রজাতি তথা বি.১.৬১৭.২ ছড়িয়ে পড়ে দেশে। এই ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টই এখনও অবধি করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সংক্রামক স্ট্রেন বলে জানা গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একে ‘উদ্বেগজনক’ তকমা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৪৪টি দেশে এই প্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

[৪] বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট হল ভারতীয় প্রজাতি তথা ডবল ভ্যারিয়ান্টেরই একটি পরিবর্তিত রূপ। বা বলা ভাল ডাবল ভ্যারিয়ান্টের উপ প্রজাতি। সার্স-কভ-২ হল আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ভাইরাস। এর শরীর যে প্রোটিন দিয়ে তৈরি তার মধ্যে পরিবর্তন চলছেই। এই প্রোটিন আবার অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে সাজানো। ভাইরাস এই অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলোর কোড ইচ্ছামতো বদলে দিচ্ছে। কখনও একেবারে ডিলিট করে দিচ্ছে। এইভাবে বদলের একটা চেইন তৈরি হয়েছে। আর এই এই রূপ বদলের কারণেই নতুন নতুন প্রজাতির দেখা মিলতে শুরু করেছে। ডবল ভ্যারিয়ান্ট তথা বি.১.৬১৭ প্রজাতিও একই ভাবে বদলে গেছে। পর পর তিনবার জিনের গঠন বিন্যাস বদলে তিনটি নতুন উপ প্রজাতি তৈরি করেছে–বি.৬১৭.১, বি.১.৬১৭.২ ও বি.১.৬১৭.৩। এদের মধ্যে বি.১.৬১৭.২ স্ট্রেনের নাম দেওয়া হয়েছে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট, এটিই সবচেয়ে সংক্রামক বলে দাবি করা হচ্ছে।

[৫] আর ডেল্টা প্লাস ((AY.1)) হল এই ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টেরই আরও একটি শাখা। গবেষকরা বলছেন, আলফা প্রজাতি অতটা ছোঁয়াচে নয়, ডেল্টা প্রজাতি ৬০ গুণ বেশি সংক্রামক। এই ডেল্টা প্রজাতিই এখন ফের বদলে গিয়ে ডেল্টা প্লাস তৈরি করেছে। তবে এই প্রজাতি নিয়ে এতটা চিন্তার কারণ নেই বলেই আশ্বস্ত করেছেন ভারতীয় গবেষকরা। তাদের দাবি, কোভিড ভ্যাকসিনে এই ডেল্টা প্লাসকে নিরাময় করা সম্ভব। আরএনএ টেকনোলজিতে তৈরি মডার্না ও ফাইজারের ভ্যাকসিন ডেল্টা প্রজাতিদের বিরুদ্ধে ৮৮ শতাংশ কার্যকরী হতে পারে।

[৬] ডিএনএ ভ্যাকসিন যেমন অক্সফোর্ড, জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি ভ্যাকসিন ৬০% কার্যকরী হতে পারে। অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি ভারতের কোভিশিল্ড টিকাও নতুন ভাইরাস প্রজাতির বিরুদ্ধে ৬০ শতাংশ কাজ করতে পারে। সূত্র: দ্য ওয়াল ব্যুরো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত