প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে পেশাগত দক্ষতা নিশ্চিত করলে দেশ এগিয়ে যাবে: আলী আহম্মেদ খান

আব্দুল্লাহ মামুন: [২] ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, পিএসসি (অবঃ) বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরে নিয়মিত তদারকি হলেও কলকারাখানাগুলোতে জনবল সংকট থাকার কারণে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হয় না। কলকারখানাগুলো লাইসেন্স নিলেও জনবলের অভাবে অর্থাৎ ফায়ার প্রিভেন্টিং উইংসের সক্ষমতা এখনো বাড়ানো হয়নি যার ফলে তাদের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

[৩] তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টসগুলো অনেকটা চেকলিস্ট মেনে চললেও কলকারখানাগুলোকে লাইসেন্স দেওয়ার সময় যে গাইডলাইন দেওয়া হয় সেগুলো অধিকাংশ কারখানা মেইনটেইন করে না এবং অনেক কারখানা, গুদাম লাইসেন্সও নেই। এখানে উভয়পক্ষের দুর্বলতা আছে। ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স দেওয়ার সময় পরিপূর্ণ ফায়ার সেফটি চেকলিস্ট বা সেফটি প্লান মেনে নতুন কারখানা চালু এবং ৬ মাস পর অবহিত করে না। এছাড়া ফায়ার সেফটি লাগাতে যে অর্থখরচ হয় তা ইনভেস্ট করতে চায় না, অপচয় মনে করে।

[৪] আলী আহম্মেদ খান বলেন, ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না থাকায় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না, তারা আগুন নেভাবে নাকি আইন বাস্তবায়ন করবে। ফায়ার সার্ভিস মানুষের সুরক্ষা সেবায় সঠিক ভাবে কাজ করতে পুর্নগঠন করা হয়নি। ফায়ার ফাইটিংয়ের জন্য কিছু কিছু ইকুইপমেন্ট দেওয়া হলেও ফায়ার প্রিভেনশন ইউনিটের জন্য সেফটি প্লান, প্রিভেনশন, ইঞ্জিনিয়ারিং উইং, ম্যাজিস্ট্রেসি সক্ষমতা বা পুর্নগঠন করা হয়নি বলে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়।

[৫] তিনি আরও বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ ও ম্যাজিস্ট্রেট এর জন্য মন্ত্রণালয় চিঠি দেওয়া হলেও এখনো তা পাশ কার হয়নি। মানুষের সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া শুধু সরকারের দায় নয়, যারা কলকারখানা, গুদামের মালিক তাদেরও গুরত্ব দিতে হবে। গার্মেন্টেস মালিকরা বায়ারের চাপে চেকলিস্ট নির্দেশনা মেনে চলে কিন্তু কলকারখানগুলোর ক্ষেত্রে তেমন চাপ বা মামলা হওয়ার ভয় থাকে না।

[৬] আলী আহম্মেদ খান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের জন্য বিশেষ উইংয়ের জন্য প্রকল্প দেওয়া হয়, কারণ দুর্যোগ বা দুর্ঘটানর ধরণ পরিবর্তন হচ্ছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ উইংয়ের প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে থাকলেও তা পাশ হচ্ছে না। আশাকরি প্রধানমন্ত্রির নজরে এলে এই প্রকল্পটি দ্রুত পাশ হবে। এছাড়া কারখানা বা গুদামে আগুন যেনো না লাগে এজন্য প্রিভেন্টিং উইংয়ের প্রকল্পটিও আলোর মুখ দেখেনি।

[৬] তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে মানুষের জন্য যেকোনো ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ণ হয়। ফায়ার সার্ভিসের অবকাঠামো তুলনামূলক উন্নয়ন ও ইকুইপমেন্ট পাওয়া গেলেও কার্যকর ফায়ার প্রিভেন্টিং ইউং অর্থাৎ নির্শেনা বৃদ্ধি, তদারকি, অনুসন্ধান, ডিএনএ উইং এবং বাস্তবায়নের জন্যও উইং জরুরি।

[৭] তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস ভুল সনদ দিলে তাদের বিচাররের সম্মুখীন হতে হয়। কলকারখানা চেকলিস্ট সঠিকভাবে পালনা না করলে হেডকোয়াটারে জানাতে হবে, যদি কেউ সময়মতো রিপোর্ট না করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

[৮] আলী আহম্মেদ খান বলেন, একটি কলকারখানাতে দুর্ঘটানায় আগুন লাগতে পারে, কিন্তু মানুষ মারা যাবে কেন? এখানে একটা মানুষও মারা যাওয়ার কথা নয়, আগুন লাগলে মানুষ ছাদে চলে যাবে। কিন্তু জিনিসপত্র চুরির ভয়ে তাদের আটকায় রাখা হয়, আগুন লাগলে করণীয় না জেনে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করে, সবমিলিয়ে ম্যানেজমেন্ট দুর্বলতার ফলে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়।

[৯] তিনি বলেন, দেশে ইন্ডাস্ট্রি বৃদ্ধি ও উন্নয়ন হচ্ছে একই সঙ্গে তাদের অভিযোগও অনুসরণ করতে হবে অর্থাৎ ভালো কারখানা গুদাম তৈরির সঙ্গে সঙ্গে সকল ধরনের সেফটি কোড অনুসরণ করতে হবে, অনুসরণ করতে যদি গাফেলতি হয় তখনই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়া জনগণের সুরক্ষায় সকল সরকারি সংস্থাকে তৎপর থাকতে হবে, সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল বাড়াতে হবে।

[১০] তিনি আরও বলেন, আরেকটি অন্যতম বিষয় হচ্ছে ব্যবসায়ি সংগঠনদেরও দায়ভার নিতে হবে অর্থাৎ যে কোম্পানি চেকলিস্ট ফলো করে না, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ অনুসরণ করে না তারা কোম্পানি চালাতে পারবে না ও কোনো ধরনের সদস্য পদও বহন করতে পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এই ধরনের দুর্ঘটনা বহি:বিশ্বে নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে অর্থাৎ খারাপ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পরে দেশের ইমেজ নষ্ট করে।

[১১] আলী আহম্মেদ খান বলেন, মন্ত্রণালয়গুলো যদি তৎপর থাকে, প্রফেশনাল ভাবে কাজ করে, আমলাতন্ত্র বাদ দেয় তাহলে যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব। সম্পাদনা : রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত